বিন্দু তালুকদার
সুনামগঞ্জের বোরো ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণে পিআইসি (প্রজেক্ট বাস্তবায়ন কমিটি) গঠনে কাজ শুরু করছেন জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের সংশ্লিষ্টগণ। হাওরের ফসল আগাম বন্যার হাত থেকে রক্ষার জন্য অন্যান্য বছরের চেয়ে এবার নির্দিষ্ট সময়েই কাজ শুরুর লক্ষ্যে পিআইসি গঠনের কাজ পুরোদমে চলছে বলে দাবি করেছেন পাউবোর কর্মকর্তাগণ।
স্থানীয় সংসদ সদস্য ও উপজেলা চেয়ারম্যানদের কাছ থেকে সময় মতো পিআইসি সদস্যদের তালিকা পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানা গেছে। ৫ সদস্যের পিআইসি গঠনে অতীতের ন্যায় এবারো দেরী হচ্ছে। প্রতি বছর ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে বাঁধ নির্মাণ ও বাঁধের ভাঙ্গা মেরামত কাজের শুরু হওয়ার কথা থাকলেও কোন বছরই নির্দিষ্ট সময়ে কাজ শুরু হয়নি।
জানা যায়, এবার জেলার সকল বোরো ফসলী হাওর রক্ষা করতে ১৩ কোটি ৭০ লাখ টাকার প্রস্তাবনা তৈরি করেছে পাউবো জেলা অফিস। কাজের বরাদ্দ কত পাওয়া যাবে তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। ২২৫টি পিআইসির মাধ্যমে হাওরের সকল বাঁধের ভাঙ্গা মেরামত করার উদ্যোগ নিয়েছে পাউবো। তবে কাজের বরাদ্দ ও পিআইসির সংখ্যা চূড়ান্ত হয়নি। বাঁধের জরিপ ও পিআইসি গঠনের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানা গেছে।
পাউবোর নীতিমালা অনুযায়ী স্থানীয় নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিকে সভাপতি, স্থানীয় সংসদ সদস্যের মনোনীত ৩ জন্য, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মনোনীত আনসার ভিডিপি সদস্য একজনসহ মোট ৫ সদস্যের কমিটি গঠনে জনপ্রতিনিধিরা (উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও স্থানীয় সংসদগণ) মনোনীত ব্যক্তিদের নাম প্রস্তাব ও প্রেরণ সঠিক সময়ে করছেন না।
জেলার ৮ উপজেলা সুনামগঞ্জ সদর, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ, জামালগঞ্জ, বিশ্বম্ভরপুর, তাহিরপুর, ধর্মপাশা, (দিরাই উপজেলার একাংশ) ও ছাতক-দোয়ারাবাজার উপজেলায় এবার ১১৫ টি পিআইসি বাঁধ নির্মাণ ও রক্ষাণাবেক্ষণের কাজ করছেন। তবে সোমবার পর্যন্ত ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ১০০ জন পিআইসি সভাপতি,
উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানদের মনোনীত ৩৩ জন আনসার সদস্য ও সংসদ সদস্যদের মনোনীত ৬৮ টি কমিটির তালিকা পেয়েছেন পাউবো কর্তৃপক্ষ। বিভিন্ন উপজেলায় মাত্র ৩১টি পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়েছে।
পাউবো সূত্রে জানা যায়, জামালগঞ্জ উপজেলার ৫টি ইউনিয়নে মোট ১৯টি পিআইসি। এর মধ্যে জামালগঞ্জ সদরের ২টি, বেহেলীতে ৭টি, সাচনাবাজারে ৩টি, ফেনারবাঁকে ৬টি ও ভীমখালীতে ১টি। সাচনাবাজার ছাড়া সকল ইউপির পিআইসি সভাপতির নাম পেয়েছেন পাউবো। তবে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সদর ও ভীমখালী ইউপিতে আনসার ভিডিপি সদস্যের নাম দিয়েছেন। সংসদ সদস্য সাচনাবাজার ও সদর ইউপিতে সদস্যদের নাম দেননি। এই উপজেলায় পূর্নাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়েছে শুধুমাত্র ভীমখালীতে।
বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ৪টি ইউনিয়নের ১১টি পিআইসির মধ্যে ধনপুর ছাড়া সকল ইউপির পিআইসি নাম পাঠানো হয়েছে। উপজেলা পরিষদ ছাড়া বাদাঘাট দক্ষিণ ইউপি ছাড়া অন্য তিন ইউপিতে নাম দেন নি। সংসদ সদস্য ধনপুর ইউপি ছাড়া অন্য তিন ইউপিতে সদস্যদের নাম প্রস্তাব করেছেন। এই উপজেলা ১১টি পিআইসির মধ্যে একটিও পূর্নাঙ্গ হয়নি।
সদর উপজেলায় জাহাঙ্গীরনগরে ১, লক্ষণশ্রীতে ২, গৌরারং-৩ ও রঙ্গারচর ইউনিয়নে ২টিসহ মোট পিআইসি ৮টি। সবগুলোর পিআইসি সভাপতির নাম পাঠানো হয়েছে। তবে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীরনগরে ১টি, গৌরারং ও রঙ্গারচরে ২টি করে আনসার ভিপিডি সদস্যের নাম দিয়েছেন। সংসদ সদস্য লক্ষণশ্রী ইউপি ছাড়া অন্য তিন ইউপিতে সদস্যদের নাম দিয়েছেন। এই উপজেলায় জাহাঙ্গীরনগরে ১টি ও গৌরারং ও রঙ্গারচর ইউপিতে ২টি করে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়েছে।
তাহিরপুর উপজেলায় শ্রীপুর উত্তর ইউপিতে ২টি, শ্রীপুর দক্ষিণে ৮টি, বড়দল দক্ষিণে ৪টি, বালিজুরীতে ১টি, বাদাঘাটে ২টি ও সদর ইউপিতে ১টিসহ মোট পিআইসি ১৮টি। সকল ইউপির পিআইসি সভাপতির নাম পেয়েছে পাউবো। উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সদর ইউপি ছাড়া অন্য কোন ইউপিতে আনসার ভিপিডি সদস্যদের নাম দেননি। সংসদ সদস্য বড়দল দক্ষিণ ছাড়া সকল ইউপিতে সদস্যদের নাম দিয়েছেন। এই উপজেলায় সদর ইউপি ছাড়া কোন ইউপির পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়নি।
দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলায় পশ্চিম বীরগাঁও ইউপিতে ১টি, দরগাপাশায় ১টি, পাথারিয়ায় ২টি, জয়কলসে ৪টি ও পূর্ব পাগলা ইউপিতে ২টিসহ মোট পিআইসি ১০টি। এই উপজেলার সকল ইউপি থেকে সকল পিআইসি সভাপতির নাম পেয়েছে পাউবো। তবে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও সংসদ সদস্য পাথারিয়া ইউপির ১টি পিআইসিতে তাদের মনোনীত সদস্যদের নাম দেন নি। যার কারণে পাথারিয়া ইউপির ১টি বাদে সকল পিআইসি পূর্ণাঙ্গভাবে গঠন করা হয়েছে।
ছাতক উপজেলায় শিংচাপইড় ইউপিতে ১টি, চরমহল্লায় ১টি, নোয়ারাইয়ে ১টিসহ মোট ৩টি। সকল ইউপির পিআইসি সভাপতির নামের তালিকা হয়েছে। তবে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও সংসদ সদস্য কোন কমিটিতেই তাদের সদস্যদের নাম দেননি। এই উপজেলার কোন কমিটিই পূর্ণাঙ্গ হয়নি।
দোয়ারাবাজার উপজেলার দোহালিয়া ইউপিতে ১টি, পান্ডারগাঁও ইউপির ১টি, সুরমায় ৫টি, লক্ষীপুরে ১টি, সদর ইউপিতে ৩টিসহ মোট ১১টি। এই উপজেলায় পিআইসি গঠনে একই অবস্থা। সকল পিআইসি সভাপতির তালিকা হয়েছে। তবে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও সংসদ সদস্য কোন কমিটিতেই তাদের সদস্যদের নাম দেননি এবং কোন কমিটিই পুর্নাঙ্গ হয়নি।
দিরাই উপজেলার রফিনগর ইউপিতে ২টি পিআইসি। পিআইসি সভাপতির তালিকা পাওয়া গেলেও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও সংসদ সদস্য তাদের মনোনীত সদস্যের তালিকা দেন নি।
ধর্মপাশা উপজেলায় পাইকুরাটি ইউপিতে পিআসি ২টি, জয়শ্রীতে ৪টি, বংশিকুন্ডা দক্ষিণে ২টি, চামরদানীতে ৫টি, মধ্যনগর ইউপিতে ৩টি, সুখাইর রাজাপুর উত্তরে ৬টি ও সুখাইর রাজাপুর দক্ষিণ ইউপিতে ১১টিসহ মোট ৩টি পিআইসি। সুখাইর রাজাপুর দক্ষিণ ইউপি ছাড়া সকল ইউপির পিআইসি সভাপতির নামের তালিকা পেয়েছে পাউবো। উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও সংসদ সদস্য বংশিকুন্ডা দক্ষিণ, চামরদানী ও সুখাইর রাজাপুর দক্ষিণ ইউপিতে তাদের মনোনীত সদস্যদের নামের তালিকা দেননি। তাই ওই তিনটি ইউপির পিআইসি পুর্নাঙ্গভাবে গঠন হয়নি।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ বিভাগীয় প্রকৌশলী রঞ্জন কুমার দাস বলেন,‘ বোরো জমির ফসল রক্ষা করতে আমরা যথাসময়েরই বাঁধের ভাঙ্গা বন্ধকরণের কাজ শুরু করতে চাই। অন্যান্য বছরের ছেয়ে এবার অনেক আগেই পিআইসি গঠন ও কাজ শুরুর জন্য আমরা চেষ্টা করছি। কিছু কমিটি পুর্নাঙ্গভাবে গঠন হয়েছে। আজ মঙ্গলবার তাহিরপুর ও ধর্মপাশায় কমিটি গঠনের সভা হবে। তবে কাজের বরাদ্দ ও পরিকল্পনা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। হাওরের আমাদের জরিপ চলছে, আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যেই আমরা পিআইসি পুর্ণাঙ্গভাবে গঠন করে কাজ শুরুর চেষ্টা করব। যেসব পিআইসি গঠনের বিলম্ব হবে সেগুলোর কাজ এক দেরীতে শুরু করতে হবে।’ তিনি আরো জানান, সংসদ সদস্য ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানদের মনোনীত তালিকা পেতে একটু দেরী হচ্ছে। উনাদের কাছ থেকে তালিকা পাওয়া পর পরই সকল পিআইসি গঠনের কাজ শেষ হবে এবং আমরা সব কিছুই দ্রুত করার চেষ্টা করছি।’
- সতীশ চন্দ্র বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৭৫ বছর পূর্তি আমাদের অহংকার (৪)
- জেলা নির্বাচন অফিসের বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির অভিযোগ


