স্টাফ রিপোর্টার
সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) চেয়ারম্যান হিসেবে শপথ নিয়েছেন ড. মোহাম্মদ সাদিক। সোমবার বিকালে সুপ্রিম কোর্টের জাজেস লাউঞ্জে তাকে শপথ পড়ান প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা। শপথ অনুষ্ঠানে আপিল বিভাগের বিচারকগণ এবং পাবলিক সার্ভিস কমিশনের সদস্যগণসহ সংশ্লিষ্ট উচ্চ পদস্ত কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। ড. সাদিকের সহধর্মিনি ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের জজ জেসমিনআরা বেগমও উপস্থিত ছিলেন। গত ২৫ এপ্রিল মোহাম্মদ সাদিককে পিএসসির চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়।
পিএসসির চেয়ারম্যান হিসেবে তিনি ইকরাম আহমেদের স্থলাভিষিক্ত হন। ইকরাম আহমেদের চাকরির মেয়াদ গত ১৩ এপ্রিল শেষ হয়েছে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের আদেশে বলা হয়, সংবিধানের ১৩৮(১) অনুচ্ছেদের ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি সাদিককে ওই পদে নিয়োগ দিয়েছেন। অবসরোত্তর ছুটিতে (পিআরএল) থাকার সময় ২০১৪ সালের ২৭ অক্টোবর পিএসসির সদস্য হিসেবে নিয়োগ পান মোহাম্মদ সাদিক।
নিয়োগের তারিখ থেকে পরবর্তী পাঁচ বছর অথবা বয়স ৬৫ বছর পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত ( যেটি আগে আসে) মোহাম্মদ সাদিক এই পদে দায়িত্ব পালন করবেন। মোহাম্মদ সাদিক অবসরোত্তর ছুটি (পিআরএল) ভোগরত অবস্থায় ২০১৪ সালের ২৭ অক্টোবর পিএসসির সদস্য হিসেবে নিয়োগ পান।
কর্মজীবনে তিনি নির্বাচন কমিশন সচিব ও শিক্ষা সচিব ছিলেন। তিনি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব, পররাষ্ট মন্ত্রণালয় এবং সুইডেনের বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রথম সচিব ও কাউন্সিলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্ট অব অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (বিয়াম) ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক, বিসিএস প্রশাসন একাডেমির পরিচালক হিসেবেও কর্মরত ছিলেন তিনি। তিনি সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে নজরুল ইনস্টিটিউটের প্রথম সচিব ছিলেন। কর্মজীবনের শুরুতে সুনামগঞ্জের গোবিন্দগঞ্জ এএইচ কলেজের প্রভাষকও ছিলেন ড. মোহাম্মদ সাদিক।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ভারত, সৌদি আরব, ডেনমার্ক, দক্ষিণ কোরিয়া, সিংগাপুর, ইন্দোনেশিয়া, ভূটান, স্পেন, ইটালী, সুইজারল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশে সরকারি কাজে সফর করেছেন তিনি।
বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের ১৯৮২’এর নিয়মিত ব্যাচের কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাদিক। কর্মজীবনের শুরু থেকেই সৎ ও দক্ষ কর্মকর্তা হিসাবে সুখ্যাতি ছিল তাঁর। মোহাম্মদ সাদিকের জন্ম ১৯৫৫ সালে সুনামগঞ্জের ধারারগাঁওয়ে। পিতা আলহাজ্ব মোহাম্মদ মবশ্বির আলী, মাতা মাসতুরা বেগমের একমাত্র সন্তান তিনি। স্ত্রী জেসমিন আরা বেগম, ২ সন্তান পুত্র কাজিম ইবনে সাদিক ও মেয়ে মাসতুরা তাসনিম সুরমাকে নিয়ে তাঁর সংসার। কবি ও সংস্কৃতিকর্মী হিসাবে সুনামগঞ্জের সকল মহলে সমাদৃত তিনি। তাঁর চিন্তাপ্রসূত প্রতিষ্ঠান ‘সুনামগঞ্জ ঐতিহ্য যাদুঘর’। নিজের বাড়ির সামনে (ধারারগাঁওয়ে) ৩০ শতক জমির উপর তিনি মাসতুরা-মবশ্বির সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছেন।
মোহাম্মদ সাদিক আশির দশকের বিশিষ্ট কবি। এ যাবৎ প্রকাশিত তাঁর কাব্যগ্রন্থের সংখ্যা ৮ টি। এছাড়া নাইজেরিয়ার খ্যাতিমান লেখক চিনুয়া এচিবি’এর দ্বিতীয় উপন্যাস ঘ০ ষড়হমবৎ ধঃ বধংব’এর বাংলা অনুবাদ ‘নেই আর নীলাকাশ’ প্রকাশিত হয়েছে তাঁর। মোহাম্মদ সাদিক গবেষণা করেছেন সিলেটি নাগরী লিপি নিয়ে। তাঁর এ গবেষণা কর্মেও জন্য আসাম বিশ্ববিদ্যালয় ২০০৫ সালে তাঁকে পিএইচডি ডিগ্রি প্রদান করেছে। তাঁর গবেষণাগ্রন্থ ‘সিলেটি নাগরী, ফকিরি ধারার ফসল’ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি। বিগত একুশের বই মেলায় সুনামগঞ্জের আরেক কৃতি সন্তান প্রখ্যাত চিত্র শিল্পী ধ্রুব এষ’র প্রচ্ছদে প্রকাশনা সংস্থা ধ্রুবপদ তাঁর সর্বশেষ কাব্যগ্রন্থ ‘কবিতা সংগ্রহ’ প্রকাশ করেছে।
- তাহিরপুরে ঝড়ে ১ জনের মৃত্যু, অর্ধশতাধিক বাড়ি ঘর ক্ষতিগ্রস্ত
- দ. সুনামগঞ্জে জামাই শ্বশুরের দ্বন্দ্বে প্রাণ গেল মেয়ের ভাশুরের


