স্টাফ রিপোর্টার
শহরের প্রাণকেন্দ্রের প্রায় ৭০টি ফলের দোকান উচ্ছেদ করা হয়েছে। পোস্ট অফিসের একটি উচ্ছেদ মামলার কারণে এই ফলের দোকানগুলোকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে বলে জানা যায়। পোস্ট অফিস ও পাশ্ববর্তী সিএন্ডবির একটি আবাসিক ভবনের সামনের জায়গা দখল করে বহু ফলের দোকান গড়ে উঠায় ওই স্থাপনাগুলোর যেমন সমস্যা হচ্ছিল তেমনি বাজারের বড় রাস্তাটিও মানুষের চলাচলে দুর্ভোগ তৈরি করছিল। এরকম অবস্থায় ফলের দোকানগুলো অপসারণের ফলে এলাকার পরিবেশ অনেকটাই ভাল হয়েছে বলে সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে। অপরদিকে ফল ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না করেই ফলের দোকান উচ্ছেদ করায় বিপাকে পড়েছেন এই পেশায় জড়িত ব্যবসায়ীরা।
ফল ব্যবসায়ীরা জানান, প্রায় ৭০টি দোকানের ব্যবসায়িরা যুগ যুগ ধরে শহরের পূর্ববাজার এলাকায় ফলের ব্যবসা চালিয়ে আসছেন। প্রতিটি ফলের দোকানের সাথে ২-৩ জন করে ব্যবসায়ী যুক্ত আছেন। ব্যবসা করার জায়গা নির্ধারণ না করে উচ্ছেদ করে দেয়ায় বাইরে থেকে ফল আমদানী বন্ধ করে এখন ব্যবসা বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছেন তাঁরা। এখন কোথায় কি করবেন ভেবে পাচ্ছেন না। ফল বাজার উচ্ছেদ করায় বেকার হয়ে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা।
এদিকে, ফলের একাধিক ক্রেতা জানান, শহরের কোথাও ফল খুঁজে পাচ্ছেন না। এসব ফলের মধ্যে খেজুর, আম, আপেল, আঙ্গুর, কমলা, পিয়ারা, পেঁপেঁ, ভুবি, লুকলুকি, লিচু, জাম ইত্যাদি অতিথি আপ্যায়নে ও রোগীদের অন্যতম খাবার ছিল। কিন্তু এই ফল যদি শহরের কোথাও না পাওয়া যায়, তাহলে পুষ্টিজাত খাদ্যের ঘাটতিতে পড়বে মানুষজন।
ফলের ক্রেতা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘তিন দিন ধরে ফল কেনার জন্য ঘুরছি। কিন্তু কোথাও ফল পাইনি। এভাবে যদি ফল ব্যবসায়ীরা ফল বিক্রি বন্ধ রাখেন তাহলে আমরা ফল কিনবো কোথা থেকে।’
ফলের ক্রেতা সাজাউর রহমান বলেন, ‘আমরা ত্রিশ বছর ধরে এই জায়গা থেকে ফল কিনে খাই। এখন এসে দেখি ফলের দোকানই নাই। তাদের জায়গার ব্যবস্থা না করে ফলের দোকান তোলে দেয়ায় আমরা যারা ক্রেতা সবাই সমস্যায় পড়েছি।’
ফলের ব্যবসায়ী সামরান আলী বলেন, ‘আমাদের দোকান উচ্ছেদ হওয়ায় ৭০-৮০টি দোকানের ব্যবসায়ী জীবন জীবিকা নিয়ে মারাত্মক সমস্যায় পড়েছি।’
ফল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি নুর হোসেন বলেন, ঈদের ৪-৫দিন আগে আমাদের অনেক ব্যবসায়ী মেয়র সাহেবের সাথে দেখা করেছেন। তিনি তাদেরকে বলেছেন ফলের ব্যবসার জন্য মার্কেট করে দেয়া হবে। তিনি বলেছেন, আপনারা ধৈর্য্য ধরুন। মার্কেট নির্মাণের সময়টুকু আমাকে দেন। আমি মার্কেট নির্মাণ করে দেবো।’
পৌর মেয়র আয়ুব বখত জগলুল বলেন, ‘ইতিপূর্বে পৌরসভা ফলের মার্কেট তৈরি করে দিয়েছিল। পরে এই মার্কেটে তারা যাননি। এই মার্কেটের ঘরগুলো অন্যের কাছে বিক্রি করে দিয়েছেন ফলের ব্যবসায়ীরা। এখন যে ফলের দোকান উচ্ছেদ হয়েছে, এটা পোস্ট অফিসের মামলার কারণে হয়েছে। এতে পোস্ট অফিসের সামনের রাস্তা পরিস্কার ও প্রশস্থ হয়েছে । পথচারীসহ মসজিদের মুসল্লিদের চলাফেরায় আর কোনো সমস্যা হবে না। রাস্তাও সুন্দর থাকবে। আমি যদি পৌরসভায় কোথাও জায়গার ব্যবস্থা করতে পারি, তবেই ফলের মার্কেট নির্মাণ করে দেবো।’
- হাওরের বাতিঘর ভাটি বাংলা কলেজে পাঠদান শুরু
- শিক্ষার্থীর তালিকা তৈরি হলেও ১৬ স্কুলের উপবৃত্তি নিয়ে শংকা


