স্টাফ রিপোর্টার
চলতি জুলাই মাস থেকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সকল ছাত্র-ছাত্রীদের নতুন করে উপবৃত্তি দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এতে খুশির জোয়ারে ভাসছে ক্ষুদে শিক্ষার্থীরা। তবে সারা দেশে ১৫০০ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা এই সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবেন বলে জানা গেছে। এতে চরম হতাশায় পড়ে অভিভাবকদের নানা প্রশ্নের সন্মুখিন হচ্ছেন ওই সব বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকেরা। উপবৃত্তি না পাওয়ার তালিকায় জেলার ১১ উপজেলার ১৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সারাদেশের ১৫০০ বিদ্যালয় বিহীন গ্রামে ১৫০০ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন প্রকল্পের আওতাধীন সুনামগঞ্জের ১১ উপজেলায় ৩৬টি সরকারি পাথমিক বিদ্যালয় স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হয়। সবক’টি বিদ্যালয় স্থাপন করা গেলেও ১৬টি বিদ্যালয়ের অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়। গত ২০১৩ সালে এসব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন করা হয় এবং ২০১৪ সালে বিদ্যালয়গুলো চালু করা হয়। এসব বিদ্যালয়ে নিয়মিত পাঠদান দেয়া হচ্ছে। সম্প্রতি সকল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের উপবৃত্তি প্রদানের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। নিয়ম অনুয়ায়ী সকল বিদ্যালয় থেকে শিক্ষার্থীদের তালিকাও নেয়া হয়। কিন্তু সম্প্রতি স্থানীয় শিক্ষা অফিস থেকে জানানো হচ্ছে ওই প্রকল্পের আওতাধীন ‘১৫০০ বিদ্যালয় বিহীন গ্রামে ১৫০০ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন প্রকল্প’ এর আওতাধীন বিদ্যালয়গুলো শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি প্রদান করা হবে না। এতে চরম বেকায়দায় পড়েছেন ওই সব বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা।
তাহিরপুর উপজেলার ফয়েজ আহমদ সাহিদবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুল হক বলেন,‘ আমাদের বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ২০১৪ সালের জুন মাস থেকে ২০১৫ সালের জুন মাস পর্যন্ত উপবৃত্তি পেয়েছে। এর পর সবার সাথে আমাদের বিদ্যালয়েও উপবৃত্তি প্রদান বন্ধ থাকে। নতুন করে আবার তালিকা চাওয়া হয়েছে আমরা তালিকা জমা দিয়েছি। আমাদের শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি দেয়া হবে না বলে কোন তথ্য জানা নেই আমাদের। শিক্ষা অফিস থেকে কোন খবর পাইনি। যদি আমাদের বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা উপবৃত্তি পাওয়া থেকে বঞ্চিত হয় তাহলে বিদ্যালয় চালাতে খুবই কষ্ট হবে। উপবৃত্তি না পেলে বিদ্যালয়ে ছাত্র-ছাত্রীরা আসবে না। অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের কোন জবাব দিতে পারব না আমরা। আমাদের দাবি অন্যান্য সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের ন্যায় দ্রুত সকল বিদ্যালয়েই উপবৃত্তি প্রদান করা হোক।
সদর উপজেলার পুরান লক্ষণশ্রী গুচ্ছগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আতাউর রহমান বলেন,‘ কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা সকল শিক্ষার্থীর তালিকা তৈরি করেছি। প্রত্যেক শিক্ষার্থী ও অভিভাবকের ১০ কপি করে রঙ্গিন ছবি নিয়েছি। এসব কিছুই আমরা উপজেলা শিক্ষা অফিসে জমা দিয়েছে। এখন আমাদেরকে জানানো হয়েছে আমাদের স্কুলগুলো উপবৃত্তি পাবে না। এই ঘোষণায় আমরা এখন মহাবিপাকে পড়েছি। ছাত্র-ছাত্রী ও তাদের অভিভাবকসহ সবাই জানতে চাইছেন আমরা কেন এই তালিকা থেকে বাদ পড়ব। এই উপবৃত্তি নিয়ে আমরা সমস্যায় পড়েছি। ’
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. হজরত আলী বলেন,‘১৫০০ বিদ্যালয়বিহীন গ্রামে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা প্রকল্পের অধীনে জেলায় ৩৬টি বিদ্যালয় স্থাপন করা হবে। ইতোমধ্যে ১৬টি বিদ্যালয় চালু করা হয়েছে। ওই বিদ্যালয়গুলোর ছাত্র-ছাত্রীদের উপবৃত্তির বরাদ্দ অনুমোদন হয়নি। ওই প্রকল্পের ১৬টি স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের উপবৃত্তি প্রদানের জন্য আমরা তালিকা সংগ্রহ করছি। এসব তালিকা ঢাকায় পাঠানো হবে। আমরা চেষ্টা করছি যাতে এসব প্রতিষ্ঠানও উপবৃত্তির আওতায় আসে। অন্যান্য সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির টাকা ব্যাংকে এসেছে, এই সপ্তাহেই উপবৃত্তি বিতরণ করা হবে। ’
- পুনর্বাসন ছাড়া উচ্ছেদ করায় বিপাকে ফল ব্যবসায়ীরা
- জাতীয়করণের নীতিগত অনুমোদন সুনামগঞ্জের ১০ টি বেসরকারি কলেজে নিয়োগ বন্ধের নির্দেশ


