পূর্ব বীরগাঁয়ে ওএমএস চালে ফের অনিয়ম- বঞ্চিত হচ্ছে ফসলহারা মানুষ

ইয়াকুব শাহরিয়ার, পাগলা
দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার পূর্ব বীরগাঁও ইউনিয়নে ওএমএস চাল বিক্রিতে ফের অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহলের সিন্ডিকেটের কারণে ওএমএসএর চাল পাওয়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এলাকার ফসলহারা সাধারণ মানুষ। স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা যায়, ওএমএস ডিলার জিএম সাজ্জাদুর রহমান স্থানীয় বাসিন্দা না হওয়ায় এই এলাকার কিছু প্রভাবশালী মহলকে আর্থিক সুবিধা দিয়ে ব্যবসা করেন। তিনি প্রতিদিন প্রভাবশালীদের বাছাই করা কিছু ব্যক্তি ও নামে মাত্র কিছু ফসলহারা মানুষের কাছে সামান্য চাল বিক্রি করে বাকি চাল অন্যত্র বিক্রি করে দেন। তিনি কোন দিনই  ১০০ জনের বেশি ব্যক্তির নিকট চাল বিক্রি করেন না বলে অভিযোগ রয়েছে। অর্থাৎ বাকি ১০০ জনের ৫০০ কেজি চাল তিনি বাইরে বিক্রি করে দেন। সাজ্জাদুর রহমান ডিলার হলেও চাল বিক্রি নিয়ন্ত্রণ করেণ বাজারের কয়েকজন ব্যবসায়ি ও স্থানীয় কিছু শক্তিধর ব্যক্তি । বাজারের ব্যবসাযী করিমুল, তৈবুল, ওয়াইনুল, সয়েজ, সাবেক ইউপি সদস্য হারুণ  ও তার ভাই রুজেল, তাছলিম সহ আরো কয়েকজন ব্যাক্তি এই সিন্ডিকেটের সাথে জড়িত বলে জানিয়েছেন স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি। স্থানীয়দের বক্তব্য মূল ডিলার ও ট্যাগ অফিসার ছাড়াই এরা চাল বিক্রি করে থাকে। উদ্বৃত্ত চালের বস্তা গুদামের পিছন দিয়ে অন্যত্র নিয়ে যাওয়া হয়  ।
সোমবার  বীরগাঁও বাজারে সকাল ৯ টা থেকে ১১ টা পর্যন্ত সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় চাল নিতে লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন  দেড়’শ থেকে দুই’শ মানুষ। অনেকেই ভোর রাত্র থেকে অপেক্ষা করছেন চালের জন্যে। সাড়ে ৯ টায় শুরু হয় চাল বিতরণ। এসময় লাইনের বাইরের বহু ব্যক্তিকে ভিতরে গিয়ে চাল নিয়ে আসতে দেখা গেছে । এদেরসহ শ’খানেক মানুষকে চাল দিয়েই চাল শেষ হয়ে গেছে বলে ঘোষণা দেওয়া হয়।  বঞ্চিতরা রোজকার মত প্রতিবাদ করলেও চাল জুটেনি ৫০ থেকে ৬০ জন মানুষের কপালে।
চাল না পেয়ে প্রতিবাদ করতে দেখা যায়, দলমানশা গ্রামের সুমেন দাস, রোজেল, হাঁসকুঁড়ি গ্রামের সতু দাস, বীরগাঁও গ্রামের তোফায়েল, নুরুল ও সলফ গ্রামের লাইলি বেগম, আলেয়া বেগমসহ অনেককে।
প্রতিবাদের স্বরে তাদেরকে বলতে দেখা যায়,  প্রতিদিন সকাল সকাল আসি কিন্তু আমরা চাল পাই না। দেইক্কা দেইক্কা একই ব্যক্তিকে একাধিক নামে চাল দেয়া হয়। কিছু মানুষকে চাল দিয়েই চাল নাই বলে দুর্ব্যবহার করে ডিলারের মানুষরা। সরকার আমরার জন্যে চাল দেয়। আর এই চাল টাউটরা খায়।
সাবেক ইউপি সদস্য শহীবুর রহমান, সংগঠক টিপু মিয়া, সমাজকর্মী এমরুল হাসান ও সাজ্জাদুর রহমানসহ স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি বলেন, প্রতিদিন কত মানুষ খালি হাতে বাড়ি ফিরে যায়।  শ’ খানেক মানুষকে দিয়েই চাল দেয়া বন্ধ করে দেয় তারা। ডিলার, ট্যাগ অফিসার সবসময় আসে না। ইচ্ছে মতো চাল বিক্রি করেন বাজারের কিছু প্রভাবশালীরা। আমরা এ বিষয়ে তাদের সাথে অনেকবার কথা বলছি এতে কোন কাজ হচ্ছে না। মঙ্গলবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি । এই অনিয়ম বন্ধে প্রশাসনের সহযোগিতা চান তারা।
উপজেলা চেয়ারম্যান আবুল কালাম বলেন, আমরা মাসিক মিটিং ওএমএস চালের অনিয়ম বিষয়ে কথা বলেছি। পূর্ব বীরগাঁওসহ উপজেলার একাধিক ইউনিয়নে ওএমএস ডিলারদের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ আমাদের কাছে এসেেেছ। সাধারণ মানুষ যাথে সঠিক ভাবে ওএমএসএর চাল পেতে পারে সেজন্য প্রশাসনের নজরদারি আরো বাড়াতে হবে।
ওএমএস ডিলার  জিএম সাজ্জাদুর রহমান সিন্ডিকেটের বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, সিন্ডিকেট বলে কিছু নেই। আমি নিজে দাঁড়িয়ে থেকে চাল দেই। আমার বিরুদ্ধে অহেতুক অভিযোগ আনা হচ্ছে। যারা এমন অভিযোগ করে তারা ভাগ পায় না বলে মিথ্যাচার করছে।
ট্যাগ অফিসার চিন্তাহরণ চৌধুরীর সাথে অনিয়মের বিষয়ে কথা তিনি বলেন, অনিয়মের বিষয়ে গতকাল (মঙ্গলবার) স্থানীয়  অনেকেই জানিয়েছেন। আজ আমি সরেজমিনে গিয়ে বিষয়টি খতিয়ে দেখবো।