জগন্নাথপুর প্রতিনিধি
জগন্নাথপুরে গত তিন দিনে পৃথক ৫টি সংঘর্ষের ঘটনায় কমপক্ষে দেড় শতাধিক লোক আহত হয়েছেন। আহতের কে সিলেট ওসমানি মেডিকেল কলেজ ও স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শুক্রবার উপজেলার কলকলিয়া ইউনিয়নের কান্দারগাঁও (নোওয়াগাঁও) গ্রামে পূর্ব বিরোধের জের ধরে দুই শিশুর ঝগড়াকে কেন্দ্র করে এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধসহ উভয়পক্ষের ২৫ জন আহত হয়েছেন। ওই গ্রামের আলকাব মিয়ার ভাতিজা জিলু মিয়ার সাথে একই গ্রামের মনু মিয়ার ছেলে আবির মিয়ার মধ্যে তুচ্ছ বিষয় নিয়ে কথাকাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে উভয় পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র স্বস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। প্রায় ঘন্টাব্যাপী সংঘর্ষে উভয়পক্ষের ২৫ জন আহত হন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংঘর্ষের সময় দুই রাউন্ড গুলি ছুঁড়া হয়। সংঘর্ষে গুরুত্বর আহত আকলিছ মিয়া (৪০), সেলিম আহমদ (২৫), ও সমছু মিয়া (৬০), আজাদ মিয়া(৪৫), ইজ্জাদ মিয়া(৩৮),সিজিল মিয়া(৩৫), আবু খালেদ(৩২), আনর বাদশা(৫০),আব্দুল কদ্দুছ(৫৫) সিলেট ওসমানি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তন্মধ্য সাংবাদিক আনোয়ারুল পারভেজের ভাই গুলিবিদ্ধ সেলিম আহমদকে আশংকাজনক অবস্থায় রাজধানীর বক্ষব্যাধি হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। মনু মিয়ার ভাই ছফরুল ইসলাম জানান, পূর্ববিরোধের জের ধরে প্রতিপক্ষের লোকজন আমাদের বাড়িঘর ভাংচুর ও গুলিবিদ্ধ করে আমাদেরকে আহত করে। অতীতেও তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের অভিযোগ রয়েছে।
অপরদিকে আলকাব মিয়া জানান, আমরা কোন হামলা করিনি অন্যায়ভাবে আমাদের ওপর হামলা হয়েছে। এছাড়া গুলিবিদ্ধের কোন ঘটনা ঘটেনি। সংঘর্ষে অপর আহতরা স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। একই দিনে উপজেলার চিলাউড়া হলদিপুর ইউনিয়নের বাউধরন গ্রামের তুচ্ছ বিষয় নিয়ে প্রতিপক্ষের হামলায় মহিলাসহ ৪ জন আহত হন। এর আগের দিন বৃহস্পতিবার রানীগঞ্জ ইউনিয়নে কুবাজপুর গ্রামে সরকারী চাল বিতরন কে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে এর রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে ৫০ জন আহত হন। এছাড়াও পাইলগাও ইউনিয়নের গোতগাঁও গ্রামে আব্দুল খালিছ ও আব্দুস ছুপানের লোকজনের মধ্যে ঈদের জামাতের সময় নির্ধারন কে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ সংগঠিত হয়। এতে ৫০ জন আহত হন। বুধবার পৌরএলাকায় রথযাত্রাকে কেন্দ্র করে হিন্দু সম্প্রাদায়ের দুই পক্ষের লোকজনরে মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় ঘটে। এতে থানার ওসিসহ আহত হন ২০জন। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে ৭ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরো ১২০জন কে আসামী করে থানায় মামলা দায়ের করা করেছে।
জগন্নাথপুর থানার ওসি মুরছালিন জানান, তিন দিনের সংঘর্ষের ঘটনায় থানায় একটি মামলা দায়ের হয়েছে। পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।


