ইয়াকুব শাহরিয়ার, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ
১ জুলাই থেকে সারা দেশে শুরু হয়েছে ‘কঠোর লকডাউন’। এ লকডাউন চলবে ১৪ জুলাই পর্যন্ত। লকডাউনে মানুষকে ঘরে রাখতে সারা দেশের ন্যায় মাঠ পর্যায়ে দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা ও পুলিশ প্রশাসন। বাইরে বের না হওয়ার জন্য সতর্ক করছেন সাধারণ মানুষকে, করছেন জরিমানাও। জনসমাগম যেনো না ঘটে সেজন্য করেছেন বাজার স্থানান্তর। সড়কে যেনো যানবাহন চলাচল না করে সে ব্যাপারেও ‘হার্ডলাইনে’ উপজেলার এই দুই প্রশাসন। তবুও রাস্তায় বেরুচ্ছে মানুষ। খোলবার চেষ্টা করছে দোকানপাট। প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তাড়া খেয়েও চলছে সিএনজি চালিত অটোরিকশা।
এসব বিষয়ে এ প্রতিবেদকের কথা হয় দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার কয়েকজন সিএনজি চালিত অটোরিকশা-লেগুনা, টমটম চালক, চা বিক্রেতা ও ক্ষুদ্র পান দোকানদারের সাথে। তারা জানান, মূলত: পেটের টানেই এতো বাঁধা উপেক্ষা করে, জীবন ও মালের ঝুঁকি নিয়ে তারা রাস্তায় বের হচ্ছেন। এ ছাড়া তাঁদের আর কোনো উপায় নেই। ঘরে খাদ্য নেই, প্রয়োজনীয় অনেক জিনিস নেই, টাকা নেই। রোজগার না করলে স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে অনাহারেই থাকতে হবে তাদের। তাই একরকম বলতে গেলে বাধ্য হয়েই এই কঠোর লকডাউনের মাঝে বাড়ির বাইরে বের হওয়া।
তারা জানান, এমন কোনো সময় নেই যে তারা কাজ করেন না। যদি পেটে টান না থাকতো তাহলে এই লকডাউনে নিজের শরীরকে একটু আরাম দিতেন। অবসর নিতেন। নিজেকে বিশ্রাম দিতেন। কিন্তু তা না করে বরং আরো কঠোর পরিশ্রম আর আইন অমান্য করে রাস্তায় বের হয়েছেন। বাধ্য হয়েই তারা বাড়ির বাইরে বের হচ্ছেন বলেই জানিয়েছেন অনেকে। একে তো লকডাউন তার উপর চারদিকে চলে এসেছে বর্ষার পানি। উপার্জন ছাড়া উপায় নেই। গরিব মানুষের পেটে ক্ষুধা। এই ক্ষুধা-ই তাদেরকে টেনে আনে পথে। ঘরে খাবার থাকলে লকডাউন মেনে ঘরেই থাকতেন তারা।
পরিবহণ শ্রমিক ফারুক আহমদ বলেন, পেট চলছে না। ৪/৫দিন হলো লকডকউনের। কীভাবে চলবো। সংসারই বা কীভাবে চলবে। পেট তো আর লকডাউন বুঝে না? মূলত: পেটের টানেই পথে না নামা।
ক্ষুদ্র চা দোকানদার রাজু উদ্দিন বলেন, আমাদের বড় সংসার। একদিন দোকান বন্ধ থাকলে সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হয়। লকডাউনের এ লম্বা সময় দোকান বন্ধ থাকলে অনাহারে থাকতে হবে আমাদের। পুলিশ বার বার বাঁধা দিচ্ছেন, তবু বেহায়ার মতো দোকান খোলার চেষ্টা করি। ঘরে খাবার থাকলে এ বেহায়ামি করতাম না।
পাগলা বাজারে টং দোকানে পান-সিগারেটের ব্যবসা করেন নোয়াব আলী (৫৫)। দরিদ্র নোয়াব আলীরও বড় সংসার। তিনি বলেন, আমরা কী করবো, কোথায় যাবো। ঘরে খাবার নেই, তাই বাধ্য হয়েই প্রশাসনকে লুকিয়ে দোকান খোলবার চেষ্টা করি। তাতেও লাভ নেই, কাস্টমার একেবারে নেই। খুব কষ্টে দিনগুলো কাটছে।
দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেছেন, আমরা প্রথমদিন থেকেই মাঠে কঠোর অবস্থানে আছি। মানুষকে লকডাউন মানাতে চেষ্টা করছি। পাগলায় কাঁচা বাজার স্থানান্তর করেছি। তবু কিছু মানুষ বের হচ্ছেন। আমরা তাদেরকে বুঝানোর চেষ্টা করছি। নিম্ন আয়ের মানুষদেরকে খাদ্য সহায়তা দেওয়ার কাজটি প্রক্রিয়াধীন আছে। শিগগির আমরা কার্যক্রমটি শুরু করবো।


