বিশেষ প্রতিনিধি
দিরাই সাব রেজিস্ট্রি অফিসে কোটি টাকার পে- অর্ডার জালিয়াতির ঘটনা ঘটেছে। এই জালিয়াতির ঘটনায় দিরাই সাবরেজিস্ট্রি অফিসের ২ কর্মচারী বরখাস্ত হয়েছেন। ঘটনা তদন্তের জন্য তাহিরপুরের সাব রেজিস্ট্রার আবুল বাশারকে আহ্বায়ক করে ১০ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটিকে আগামী ৩ দিনের মধ্যে জেলা রেজিস্ট্রারের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেবার কথা রয়েছে।
দিরাই রেজিস্ট্রি অফিসে জমি রেজিস্ট্রি ফি’এর পে অর্ডার সরকারি কোষাগারে জমা না দিয়ে নানা কৌশলে পে-অর্ডার ভাঙিয়ে টাকা আত্মসাৎ করছে জালিয়াত চক্র। এ ধরণের একটি অভিযোগ গত ৩ জুন ডাকযোগে আসে জেলা রেজিস্ট্রার সাইফুল ইসলামের কাছে। জুনের দ্বিতীয় সপ্তাহে জেলা রেজিস্ট্রার এই বিষয়ে তদন্ত করতে দিরাই রেজিস্ট্রি অফিসে যান। ওখানে গিয়ে প্রাথমিকভাবে একটি জমি রেজিস্ট্রি’র পে-অর্ডার জমা না হবার প্রমাণ পান তিনি।
ঘটনার দুদিন পরই ছাতকের সাব রেজিস্ট্রার আব্দুল করিম দুলা মিয়াকে আহ্বায়ক করে ১০ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে দেন জেলা রেজিস্ট্রার। তদন্ত চলাকালীন
সময়ে আহ্বায়ক আব্দুল করিম দুলা মিয়া অসুস্থ হওয়ায় তাহিরপুরের সাব রেজিস্ট্রার মো. আব্দুল বাতেনকে তদন্ত কমিটির আহ্বায়কের দায়িত্ব দেওয়া হয়।
এই ১০ সদস্যের তদন্ত কমিটি ২০১৭ সাল থেকে ২০১৯ সালের অক্টোবর মাস পর্যন্ত জমি রেজিস্ট্রি’র সংখ্যা পে-অর্ডারের টাকা জমা হয়েছে কী-না, জালিয়াতি হয়ে থাকলে কীভাবে জালিয়াতি হয়েছে তা তদন্ত করে দেখছে।
দিরাই সাব রেজিস্ট্রি অফিস ও জেলা সাব রেজিস্ট্রি অফিসে কর্মরত কয়েকজন স্টাফ জানান, ২০১৭ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত পে- অর্ডার ব্যাংকে জমা না দিয়ে, জমি রেজিস্ট্রি হয় নি বলে পে-অর্ডার নগদায়ন করে প্রায় কোটি টাকা আত্মসাৎ হয়েছে বলে শুনেছেন তারা।
ওই কর্মচারীরা জানান, জমি রেজিস্ট্রি’র পে-অর্ডার রেজিস্ট্রি’র পরদিন ব্যাংকে জমা দেওয়া হয়। কোনো জমি রেজিস্ট্রি না হলে, সাব রেজিস্ট্রার পে অর্ডারের পেছনে লিখে দেন এই পে-অর্ডার দলিল রেজিস্ট্রি’র কাজে ব্যবহৃত হয় নি। পরে সেটি নগদায়ন হয়।
দিরাই সাব রেজিস্ট্রি অফিসে ২০১৭ সাল থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত জমি রেজিস্ট্রি হবার পরও অনেকগুলো পে-অর্ডার সরকারি কোষাগারে জমা না দিয়ে নগদায়ন হয়েছে। যার পরিমাণ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে। এ ঘটনায় দিরাই সাব রেজিস্ট্রি অফিসের অফিস সহকারী ইলিয়াছ মিয়া ও টিসি মহরার আভা রানী পুরকায়স্থকে জুন মাসের শেষ সপ্তাহে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।
জেলা রেজিস্ট্রি অফিসের একজন কর্মচারী জানান, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ধারণা করছেন, ওখানে একটি জালিয়াত চক্র হয়তো বহুদিন ধরে এমন জালিয়াতি করে আসছে। তদন্ত সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রে জানা গেছে ৫০ লাখ টাকারও বেশি জালিয়াতির প্রমাণ ইতিমধ্যে পাওয়া গেছে। তদন্ত দল এখনো কাজ করছেন।
জেলা সাব রেজিস্ট্রি অফিসের একজন কর্মচারী জানান, দিরাইয়ের বর্তমান সাব রেজিস্ট্রার ২০১৭ সালের নভেম্বর মাসে যোগ দেন। তার সময়কাল থেকেই এই জালিয়াতি শুরু হয়েছে না এর আগে থেকেই জালিয়াতি হচ্ছে, এই বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এর আগে শুরু হয়ে থাকলে, আত্মসাৎকৃত অর্থের পরিমাণ আরও বেড়ে যাবে বলে জানান ওই কর্মচারী।
তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক তাহিরপুর উপজেলা সাব রেজিস্ট্রার আবুল বাশার জানালেন, দিরাইয়ের পে-অর্ডার জালিয়াতির বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তের কাজ শেষ পর্যায়ে। কমিটির ২ জন সদস্য ছুটিতে রয়েছেন। তারা আসলে তাদের স্বাক্ষর নিয়ে আগামী ৩ দিনের মধ্যেই তদন্ত রিপোর্ট জেলা রেজিস্ট্রারের কাছে জমা দেওয়া হবে।
দিরাই উপজেলা সাব রেজিস্ট্রার মো. আব্দুল বাতেনের কাছে এই বিষয়ে জানার জন্য বার বার ফোন দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেন নি। ক্ষুদে বার্তা পাঠানোর পরও সাড়া পাওয়া যায় নি।
জেলা রেজিস্ট্রার মো. সাইফুল ইসলাম মঙ্গলবার এই বিষয়ে খোঁজ নেবার জন্য দিরাইয়ে গিয়েছিলেন। জানতে চাইলে তিনি এই জালিয়াতির সত্যতা স্বীকার করে বলেন, এ ঘটনায় দিরাই সাব রেজিস্ট্রি অফিসের দুই কর্মচারীকে সঙ্গে সঙ্গেই বরখাস্ত করা হয়। তদন্ত কমিটি গঠন করে দেওয়া হয়। তদন্ত কমিটি কাজ করছে। তদন্ত রিপোর্ট পাওয়া গেলে বিস্তারিত বলা যাবে।


