সুনামগঞ্জ পৌরসভার মেয়রকে অভিনন্দন ও ধন্যবাদ জানাতেই হয় এ কারণে যে, তিনি পৌর নাগরিকবৃন্দের মনের কষ্ট অনুধাবন করে ‘মাত্রাতিরিক্ত’ পরিমাণে পৌরকর ধার্যের নোটিশের কার্যকারিতা স্থগিত করেছেন। সত্যিকার জনপ্রতিনিধিসুলভ আচরণ এরকমই। মানুষ যখন নিজেকে বঞ্চিত মনে করবে অথবা নিজে যখন অন্যায্য আচরণের শিকার হবে তখন সেই মানুষ প্রথমেই যার কাছে ছুটে যান তিনি হলেন জনপ্রতিনিধি। এই জনপ্রতিনিধি হতে পারেন পৌরসভার কাউন্সিলর, মেয়র, ্উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অথবা সংসদ সদস্য। জনগণ ক্ষুব্ধ হয়ে নিজের প্রতিক্রিয়াও ব্যক্ত করতে পারেন। এসবই শালীনতার সীমা পর্যন্ত গণতান্ত্রিক সমাজে রীতিসিদ্ধ। জনপ্রতিনিধির দায়িত্ব হলো মানুষের কষ্টকে ধারণ করে উপযুক্ত সমাধানের পথ বাতলে দেয়া। জনগণ যদি নিজের মনোভাব প্রকাশ না করেন তাহলে জনপ্রতিনিধিদের সমস্যাটি বুঝার কোন উপায় থাকে না। কিন্তু আমাদের সমাজে খোলশের অন্তরালে বসবাসকারী কিছু ব্যক্তি মনে করেন এরকম দাবি উত্থাপন করার অর্থ হচ্ছে বিরুদ্ধাচরণের নামান্তর। এই ভ্রান্ত ধারণার বিপরীতে দাঁড়িয়ে সুনামগঞ্জের পৌর মেয়র জনদাবির পক্ষে অবস্থান নিয়ে যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন সেটি সম্ভব হয়েছে জনগণের ভিতর থেকে এই দাবি উচ্চকিত হওয়ার ফলে। নতুবা মেয়র হয়তো এরকম একটি বিষয় জানতেই পারতেন না, জানতেন তখন, যখন সমাধানের পথ আরও কঠিন হয়ে পড়ত।
দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরে প্রকাশিত সংবাদ থেকে জানা যায় পৌর নাগরিকদের বসতবাড়ির করের পরিমাণ বর্তমান হারের চাইতে ক্ষেত্র বিশেষে ২৭ গুন পর্যন্ত বর্ধিত করে নোটিশ জারি করা হয়েছিলো। যারা নোটিশ পেয়েছেন তাদের একটি বড় অংশই কয়েক গুন বেশি কর নির্ধারণে বিভিন্ন উপায়ে হতাশা প্রকাশ করছিলেন। একটি আধুনিক রাষ্ট্রে নিয়মিত সামঞ্জস্যপূর্ণ কর পরিশোধ করা নাগরিকের কর্তব্য হিসাবে গণ্য করা হয়। রাষ্ট্র বা এর অঙ্গসমূহের কল্যাণ বা সেবাধর্মী কাজগুলোর অর্থায়ন ঘটে এই করের টাকা থেকেই। পৌরসভা একটি স্বশাসিত স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান হওয়ায় সরকার প্রতিষ্ঠানটিকে কর আরোপ, আদায় ও এই টাকা খরচের ক্ষমতা দিয়েছেন। একটি স্বয়ম্ভর পৌরসভার বৈশিষ্ট্য হলো উপযুক্ত করারোপ ও আদায়ের পারদর্শিতা। এরকম অবস্থায় দশক বা তার চাইতেও বেশি সময় ধরে এসেসম্যান্ট না হওয়ায় করহার বাড়ানোর জন্য নতুন এসেসম্যান্ট শুরু করা একটি অতি স্বাভাবিক কাজ। পৌরনাগরিকরা কখনও কর বাড়ানোর বিষয়ে দ্বিমত করবেন না। কিন্তু এটি অস্বাভাবিক হওয়ার কারণেই নাগরিকরা আতংকিত হয়ে পড়েন।
নোটিশ স্থগিত করায় এখন নতুন করে এসেসম্যান্ট শুরু করার সুযোগ তৈরি হলো। আমরা আশা করব আইন, বিধি, সরকারি আদেশ ও নাগরিকদের সক্ষমতা বিবেচনা করে যুক্তিসঙ্গত ও গ্রহণযোগ্য হারে কর নির্ধারণী প্রক্রিয়া পৌরসভা শুরু করবে, এই প্রক্রিয়ায় দায়িত্বশীল নাগরিকবৃন্দকেও সম্পৃক্ত করা যেতে পারে। গ্রহণযোগ্য করকাঠামো নির্ধারণ করা হলে আদায়ের বিষয়েও অধিকতর সফলতা আসবে। পৌরনাগরিকবৃন্দের মধ্যে এখন আগের যেকোন সময়ের চাইতে কর পরিশোধের প্রবণতা বেশি। নাগরিকের এই দায়িত্ববোধকে লালন করতে হবে। সর্বোপরি পৌরসভার আর্থিক সক্ষমতা বাড়ানো, উন্নয়নমূলক কর্মকা-ে বেশি বেশি নিজস্ব উৎস থেকে অর্থায়নের সক্ষমতা বাড়ানোর মাধ্যমে পৌরসভাকে একটি আদর্শ প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার আকাক্সক্ষার পূর্ণতাপ্রাপ্তি ঘটুক , মানুষ বর্ধিত করকে স্বাভাবিক মনে করে নিয়মিত কর পরিশোধ করুক এই আমাদের প্রত্যাশা। জনগণের প্রতি আমাদের আহ্বান থাকবে, একটি নির্দিষ্ট পরিমাণে কর বাড়ানোকে আপনারা উৎসাহিত করুন। কর পরিশোধের মাধ্যমে নাগরিকগণ দেশের উন্নয়নের অংশীদার হন। পরোক্ষভাবে মানুষে প্রতিক্ষণ কর দিয়ে আসছেন, সুতরাং প্রত্যক্ষ করের পরিমাণ কিছুটা বাড়তেই পারে এই বিষয়টিও রপ্ত করা উচিৎ।
- গভীর হাওর এলাকায় প্রয়োজনে ফ্লাইওভার করে সুনামগঞ্জ-নেত্রকোনা সড়ক করার ইচ্ছা প্রধানমন্ত্রীর
- বিশ্বম্ভরপুরে প্রিপ ট্রাস্টের মতবিনিময়

