পৌরবিপণিতে যাই

ইকবাল কাগজী
একটি দোকানের চাদির পাটিপাতার ছবি
পাড়ার তেমাথার মোড়টিকে অভয়মুদ্রার জাদু দিয়ে
                         ঝলমল করে রাখে রাত্রিদিন

প্রতিদিন নিয়মিত পৌরবিপণিতে যাই
যেতে যেতে এই অভয়মুদ্রার নীচে জাদুর জগতে এলেই
বৃদ্ধ থেকে শিশু পর্যন্ত নারীপুরুষ নির্বিশেষে কেউ না কেউ
পিঁপড়ের মতো ব্যক্তিগত গর্ত থেকে বহির্গত
সতরো কোটির ছিঁটেফোঁটা অংশ বিশেষকে
দেখা যায় সেখানে দাঁড়িয়ে আছে
কোন একটি ত্রিচক্রযানে উঠে বসতে উসখুস
অথবা তিনদিক থেকে নিয়মিত পদযাত্রা অনুশীলনে
তেমাথাটি পার হয়ে যায় নির্বিকার অন্য তেমাথার দিকে
তারা ভিন্ন ভিন্ন বাসনায় ভিন্ন ভিন্ন দিকে যাত্রাপর
এমনকি হয় তো বা রিরংসু কেউ কেউ খালি কুঠির খুঁজে
                           উদ্ভ্রান্ত ভীষণ
অথবা দু’এক মুহূর্ত দাঁড়িয়ে গল্পচ্ছলে রাজাউজির মারে

কালনিরবধি রাস্তার এই বিখ্যাত তেমাথা অভয়মুদ্রার নীচে
                   কদমফুলের মতো বিস্তৃত
এখানে রাজনীতির পকাপক অধ্যাপকীয়পনা বড় বেশি
                  রমণীয় বিভঙ্গে দেখা যায়
যখন সেনানিবাসের এক ঝোপের চত্বরে পড়ে থাকে
    ধর্ষিতা তনুর লাশ
কচি পড়–য়ার পিঠের কোমল পথে জুতো পায়ে হেঁটে যায়
                 উপজেলা চেয়ারম্যান

এই অভয়মুদ্রার নীচের গল্প সবটাই
বাঁদরের পিঠে ভাগ
              অসম বণ্টনের তঞ্চকতা
স্বৈরতন্ত্রের পরচুলা পরে গণতন্ত্র
থুড়ি খুন করার অতন্দ্র অধিকার
উদ্বাহু পাঁচ আঙুলের সুদৃশ্য কবজিতে প্রস্ফুটিত
অভয়মুদ্রার নীচ দিয়ে
প্রতিদিন আমি পঞ্চমকারে নিমগ্ন বাংলাবাজারের পথে
হাঁটতে হাঁটতে পৌরবিপণিতে যাই