শাল্লায় স্নাতক শ্রেণীর ভর্তিতে বাড়তি টাকা আদায়ের অভিযোগ

সুব্রত দাশ খোকন, শাল্লা
শাল্লা উপজেলা সদরে অবস্থিত একমাত্র  ডিগ্রি কলেজ, শাল্লা ডিগ্রি কলেজে ২০১৬-২০১৭ সেশনের স্নাতক শ্রেণীর ভর্তি বাবদ শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ফি আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। কলেজ কৃর্তপক্ষ ভর্তি ফি আদায়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্দেশনা না মেনে প্রকৃত ফি ৭৩৫ টাকার স্থলে ৩১০০ টাকা করে আদায় করছেন।  
গতকাল বিকাল ৫টার সময় কলেজটির সামনে ভর্তি হয়েছেন এমন একজন শিক্ষার্থীর ভর্তি রশিদে দেখা যায় চলতি মাসের বেতন ৯০০ টাকা ও ভর্তি বাবদ ৩১০০ টাকা সহ মোট ৪০০০ টাকা আদায় করা হয়েছে। ঐ শিক্ষার্থীর বাবা অসহায় ভঙ্গিতে বললেন, “ভর্তির টাকাটা অনেক বেশি, আমি সামান্য কৃষি জমি চাষ করি। শুনেছি আজ ভর্তির শেষ দিন। উপায়ন্তর না দেখে টাকাটা মহাজনের কাছ থেকে দেড়া সুদে দেনা করে ছেলেকে ভর্তি করেছি। এখন সরকার যদি কিছু করে”।
পাশেই দাঁড়ানো আরেক জন অভিভাবক ক্ষুদ্ব কণ্ঠে বলে উঠলেন, যে নিয়ম কলেজ কর্তৃপক্ষ মানে না, সে ফালতু নিয়ম করে লাভ কী ?
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের জারি করা ভর্তির প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ আছে, রেজি: ফিস ৪৫০ টাকা, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক ফিস ২০ টাকা, পিএনসিসি ফিস ৫ টাকা, স্কাউট ফিস ১০ টাকা, ফরম বাবদ ২৫০ টাকা সহ মোট ৭৩৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর অতিরিক্ত ফি নিলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।  
কলেজটির অফিস সূত্রে জানা যায়, এ বছর ২০১৬-২০১৭ শিক্ষাবর্ষে এখন পর্যন্ত শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছে ৭৯ জন। ফেব্রুয়ারীর ২ তারিখ থেকে ভর্তি কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং ভর্তির শেষ তারিখ ১১-ই ফেব্রুয়ারী। কলেজ কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত মোতাবেকই শিক্ষার্থী প্রতি ভর্তি বাবদ ৩১০০ টাকা করে আদায় করছেন।  
শাল্লা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুস শহীদ সুনামগঞ্জের খবরকে বলেন- কলেজের গর্ভনিং বডির সিদ্ধান্ত মোতাবেক গত বছরও আমরা ডিগ্রি (পাস) ভর্তি বাবদ ৩১০০ টাকা নিয়েছি এবারও নিচ্ছি।  
জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা নিজাম উদ্দিন বলেন- কলেজগুলা নিয়ে আমরা ড্রিলিং করি না। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্দেশনার বাহিরে অতিরিক্ত টাকা নেওয়া কোন মতেই কাম্য নয়। ভর্তির অতিরিক্ত টাকা নিতে হলে যেমন মাসিক বেতন এবং কলেজের উন্নয়ন খাত বাবদ ফিস নিতে হলে প্রত্যেকটি বিষয় উল্লেখ করে আলাদা আলাদা রশিদে নিতে হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (অতি: দায়িত্ব) তৌহিদুজ্জামান পাভেল সুনামগঞ্জের খবরকে বলেন- কলেজের গর্ভনিং বডির সভাপতি তো ছিলেন এমপি মহোদয়, উনি তো গত হয়েছেন। আমি প্রেন্সিপাল সাহেবকে বিষয়টা জিজ্ঞাসা করব?