এনামুল হক এনি, ধর্মপাশা
ধর্মপাশায় বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি) এর ডিলারের বিরুদ্ধে ফরিদপুর, যশোর ও পাবনা বিএডিসির বোরো ধানবীজের প্যাকেটের স্টিকারে ভিন্ন নামের সিল ব্যবহার করে বিক্রি করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ওই ডিলার আনোয়ার এন্টারপ্রাইজের সত্ত্বাধিকারি মো. আনোয়ার হোসেন। ডিলার আনোয়ার হোসেনের এমন কৌশলের কাছে এখানকার সহজ সরল কৃষকেরা প্রতারিত হচ্ছে।
জানা যায়, বিএডিসি থেকে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে মো. আনোয়ার হোসেনের নামে ৩২.১২ মেট্রিক টন বোরো ধানবীজ বরাদ্দ দেওয়া হয়। তিনি বরাদ্দ পাওয়ার পর ফরিদপুর, যশোর ও পাবনা বিএডিসির বীজধান সংগ্রহ করে ওইসব ধানবীজের প্যাকেটের স্টিকারে স্ট্যাম্পপ্যাড দিয়ে ‘গুণগতমান মধুপুর-টাঙ্গাইল’ লেখা সিল ব্যবহার করে তা কয়েকদিন ধরে বিক্রি করে চলেছেন।
সদর ইউনিয়নের নোয়াবন গ্রামের কৃষক লিটন মিয়া জানান, তিনি সোমবার দুপুর আড়াইটার দিকে টাঙ্গাইল-মধুপুরের বীজ কিনতে ওই ডিলারের দোকানে যান। তিনি বীজের প্যাকেটের গায়ে বিএডিসির স্টিকারের ওপর টাঙ্গাইল-মধুপুর লেখা সমৃৃদ্ধ অতিরিক্ত সিল দেখতে পান। পরে তিনি বীজ না কিনেই বাড়ি ফিরে
যান। লিটন মিয়া ছাড়াও আরো অনেক কৃষক ওইসব ধানবীজ ‘মধুপুর-টাঙ্গাইল’ এর ধানবীজ মনে করে ক্রয় করে প্রতারণার শিকার হচ্ছেন।
ডিলার মো. আনোয়ার হোসেন জানান, তিনি বিএডিসির ধানবীজ বিক্রি করছেন। তিনি টাঙ্গাইল মধুপুরের ধানবীজ বিক্রি করছেন না। তবে বিএডিসির ধানের বীজের প্যাকেটে স্টিকারে টাঙ্গাইল মধুপুরের সিল তিনি নিজে মারেননি এবং এ সিল বীজের প্যাকেটের স্টিকারে কিভাবে এলো তিনি জানেন না।
এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শোয়েব আহমেদের সাথে কথা বলতে তাঁর ব্যবহৃত মুঠোফোন নম্বরে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
বিএডিসির সুনামগঞ্জ জেলার সিনিয়র সহকারি পরিচালক (বীজ বিপণন) আওলাদ হোসেন জানান, বিএডিসির একটি প্রসেসিং সেন্টারের নাম আরেকটি প্রসেসিং সেন্টারে ব্যবহার করার বা অন্য কোনো সিল ব্যবহার করার কোনো সুযোগ নেই। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে বলে জানান তিনি।
বিএডিসির সিলেট বিভাগীয় উপ-পরিচালক (বীজ বিপণন) সুপ্রিয় পাল জানান, উপজেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটি এ বিষয়টি দেখতে পারে। তবে এ বিষয়টি তিনিও দেখছেন বলে জানান।


