প্রতিদিন ১৫ লাখ টাকার মাছ কেনাবেচা

স্টাফ রিপোর্টার
নিস্তব্ধ ওয়েজখালী মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র জেলে ও পাইকারদের হাঁক ডাকে সরগরম হয়ে উঠেছে। চলতি মাসের এক তারিখ থেকে আড়ৎদারেরা জেলা মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে গেছেন। এতে জমে উঠেছে মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রটি।
সুনামগঞ্জ মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র আড়ৎদার সমবায় সমিতির সূত্রে জানা যায়, আগে পৌর কিচেন মার্কেটে তাদের প্রতিদিন বেচাকেনা হতো পাঁচ থেকে সাত লাখ টাকার মাছ। এখন মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে আসার ফলে প্রতিদিন তাদের ১২ থেকে ১৫ লাখ টাকার মাছ কেনাবেচা হচ্ছে। এছাড়াও যোগাযোগে সহজলভ্যতার ফলে অন্যান্য উপজেলায় মাছ পরিবহন বেড়েছে। অন্য জেলার বড় ট্রাকও আড়তে আসতে পারছে। এতে লাভবান হচ্ছেন আড়ৎদার, পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতারা।
খুচরা ব্যবসায়ী মো. আলাল মিয়া বলেন, পৌর কিচেন মার্কেট থেকে আড়ৎ বাজার এখানে আসাতে অনেক সুবিধা পেয়েছি। কোনো ঝামেলা নেই। চারপাশের পরিবেশও অনেক পরিষ্কার। পানির সুবিধা রয়েছে, যাতায়াতের সুবিধা ও গাড়ি একদম আড়তে আসার সুবিধাও রয়েছে। আগের থেকে বেচাকেনাও ভালো।
বিশ^ম্ভরপুর উপজেলার শক্তিয়ারখলার মাছ ব্যবসায়ী মো. খুরশেদ আলম বলেন, সকালে সরাসরি গাড়ি নিয়ে আড়তে চলে আসি। এখানে গাড়ি পার্কিং করার ব্যবস্থা রয়েছে। মাছ কিনে সহজেই এলাকায় চলে যেতে পারি।
খুচরা ও পাইকারী বিক্রেতা মো. কাওসার আলম বলেন, আমি দিরাইয়ের পাথারিয়া এলাকা থেকে মাছ নিয়ে আসি। আবার সুনামগঞ্জ থেকে মাছ নিয়ে এলাকায় বিক্রিও করি। ওয়েজখালীতে মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র থেকে মাছ নিয়ে আসা খুব সুবিধা হয়েছে। আগের মাছ বাজারে গাড়ি যেতো না। গেলেও অনেক ঝামেলা হতো। এখানে গাড়ি ঢুকাতে অনেক সুবিধা।
পি-কাপ গাড়ি চালক মো. নুরুল আমিন বলেন, শহরের ভেতরে যে বাজার ছিলো সেখানে যেতে সমস্যা হতো। এখানে আড়ৎ আসায় আমাদের সবার সুবিধা হয়েছে। এখান থেকে মাছ নিয়ে সহজেই অন্য এলাকায় যাওয়া যায়।
ময়মনসিংহের ট্রাক চালক মো. আমিরুল্লাহ বলেন, একদিন পরপর ময়মনসিংহ থেকে সুনামগঞ্জে মাছ নিয়ে আসি। ওয়েজখালী মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে অনেক বড় জায়গা। আগে যে ধরণের সমস্যা হতো এখন আর নেই।
এদিকে গেল বৃহস্পতিবার সুনামগঞ্জ মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র উদ্বোধনের কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। উচ্চ আদালতে সুনামগঞ্জ পৌরসভা কিচেন মার্কেটের ইজারাদার আমির হোসেনের করা রিট পিটিশনে উদ্বোধন স্থগিত করা হয়।
কিভাবে তারা এখানে এসে ব্যবসা করছেন বিষয়ে সুনামগঞ্জ মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র আড়ৎদার সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক কামাল উদ্দিন বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাদের জন্য ১০ কোটি টাকা খরচ করে এই মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রটি করেছেন। এখানকার কর্তৃপক্ষ অনুমতি দেন নি। আমাদের সংগঠনের উদ্যোগে সবাই এখানে এসে ব্যবসা শুরু করেছি।
এই মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে রয়েছে প্রতি আড়ৎদারতের অফিস। এখন পর্যন্ত ১৬ জন আড়ৎদারদের অফিস হয়েছে এখানে।
আড়ৎদার মো. ওহি আলম বলেন, আগের জায়গায় আমাদের কোনো অফিস ছিলো না। এখানে সবার একটি করে চমৎকার অফিস হয়েছে। এতে আমরা খুশী।
সুনামগঞ্জ মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র আড়ৎদার সমবায় সমিতির সভাপতি মো. হানিফ উদ্দিন বলেন, আগের আড়তে প্রতিদিন ৫ থেকে ৭ লাখ টাকার মাছ বেচাকেনা হতো। এখানে আসার পর ১২ থেকে ১৫ লাখ টাকা বেচাকেনা হচ্ছে। এখানের আধুনিক সুযোগ সুবিধা আমাদের ব্যবসায় সহায়ক হয়েছে। এতো সুন্দর একটি উপহার দেয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই।
সুনামগঞ্জ মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক আবু সাঈদ ফিরোজ বলেন, গেল মাসের ৩ তারিখ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সভা করে পহেলা জুন মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র উদ্বোধনের ঘোষণা হয়। তবে এটির উপর উচ্চ আদালতে রিট হওয়ায় উদ্বোধন কার্যক্রম বাতিল হয়।
তিনি বলেন, যেহেতু মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এটি আড়ৎদারদের সুবিধার জন্য তৈরি করেছেন তাই তারা সউদ্যোগে এসেছেন। আমাদের পক্ষ থেকে তাদের উৎসাহ বা বাঁধা প্রদান করা হয় নি।
পৌর কিচেন মার্কেটের ইজারাদার আমির হোসেন বলেন, হাইকোর্ট শুধু ওয়েজখালী মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের উদ্বোধন ও সকল কার্যক্রম আগামী ৩ মাসের জন্য স্থগিত করেছেন। কর্তৃপক্ষ উদ্বোধনী অনুষ্ঠান স্থগিত করলেও অন্যান্য কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। এতে হাইকোর্টের নির্দেশ অবমাননা হয়েছে।