প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে মামলা দিয়ে ঘায়েলের আশঙ্কা

ধর্মপাশা প্রতিনিধি
ধর্মপাশা উপজেলার বংশীকুন্ডা দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী আজিম মাহমুদের বিরুদ্ধে নির্বাচনী আচরণ বিধি ভঙ্গসহ সাইদুর রহমান নামের এক স্বতন্ত্র প্রার্থীকে মিথ্যা মামলা দিয়ে ঘায়েল করতে পারে বলে অভিযোগ উঠেছে। সাইদুর রহমান গত সোমবার বিকেলে এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন। এদিকে মঙ্গলবার দুপুরে নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গের অভিযোগে আজিম মাহমুদকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই দিনে সদর ইউনিয়নের আব্দুল করিম নামের আরও এক চেয়ারম্যান প্রার্থীকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
সাইদুর রহমান তার লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেন, ২০১৬ সালের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনেও আজিম মাহমুদ আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী ছিলেন। ওই নির্বাচনে তিনি (সাইদুর) স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছিলেন। আর আজিম মাহমুদ তখন তাঁর নির্বাচনী এলাকায় ভোট গ্রহণের আগে সাতুর-নতুন বাজার সড়কের পাশে নৌকার আদলে বাঁশ ও কাপড় দিয়ে নৌকা প্রতীকের প্রতিকৃতিসহ তোরণ নির্মাণ করেন। ওই বছরের ২৬ মে গভীর রাতে নৌকার প্রতিকৃতিতে নিজেরাই (আজিমের লোকজন) অগ্নিসংযোগ করে। আর এ অভিযোগে সাইদুর রহমানকে প্রধান আসামি করে মামলা করা হয়। এ মামলায় সাইদুর রহমানসহ তাঁর লোকজনকে গ্রেফতারের ভয় দেখিয়ে হেনস্থা করা হয় এবং আজিম মাহমুদ বিজয়ী হন। নির্বাচন পরবর্তী সময়ে এ ঘটনার সাথে সাইদুর রহমানের সম্পৃক্ততা না থাকায় মামলাটি খারিজ করে দেন আদালত। মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মুনতাসির হাসান, সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. সালমুন হাসান বিপ্লব ওই নির্বাচনী এলাকা সরেজমিন পরিদর্শন করেন। এ সময় আজিম মাহমুদের বিরুদ্ধে নির্বাচনী বিধি ভঙ্গের সত্যতা পাওয়ায় তাঁকে (আজিম) ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
সাইদুর রহমান বলেন, ‘এবারও আজিম মাহমুদ বিভিন্ন স্থানে নৌকার প্রতিকৃতিসহ একই রকম তোরণ নির্মাণ করেছেন। তাই এবারও সেই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটিয়ে আমি ও আমার লোকজনকে মিথ্যা মামলা দিয়ে ঘায়েল ও হেনস্থা করতে পারে। তাই সম্ভাব্য শান্তি ভঙ্গের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সার্বিক পরিস্থিতি গুরুত্বসহকারে পর্যবেক্ষণের জন্য সংশ্লিষ্টদের জোর দাবি জানাই।’
এ ব্যাপারে আজিম মাহমুদের বক্তব্য জানতে তাঁর মুঠোফোনে একাধিবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ না করে কেটে দেওয়ায় বক্তব্য জানা যায়নি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মুনতাসির হাসান বলেন, ‘নির্বাচন আচরণ বিধি ভঙ্গের অভিযোগে আজিম মাহমুদ ও আব্দুল করিম নামের দুই চেয়ারম্যান প্রার্থীকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা এবং তাদের বিধি মেনে চলার জন্য নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।’