প্রত্যয়ে প্রদীপ্ত তাঁরা

শহীদনূর আহমেদ
‘সহকর্মীর ছেলে শিশু রুদ্র তালুকদার (৮) বিনা চিকিৎসায় মারা যাবে তা হতে পারে না। তার বাবা একা চিকিৎসার ব্যয় বহন করতে পারবেন না। কিন্তু দশজনের সাহায্যে রুদ্রের চিকিৎসার ব্যয় কিছুটা লাঘব করতে পারবো, এ আমাদের বিশ্বাস। রুদ্র আবার স্কুলে যাবে, ফিরবে তাঁর মায়ের বুকে। এটা আমাদের প্রত্যাশা। তাই প্রয়োজন সকলের আর্থিক সহযোগিতা।’ এ ভাবে নিজেদের প্রতিক্রিয়া জানালেন, শিশু রুদ্রের জীবন বাঁচানোর জন্য অর্থ সংগ্রহের ক্যাম্পেইনে অংশ নেয়া মাইক্রো-মিনিবাস শ্রমিকরা।
সোমবার পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় সহকর্মী গাড়ি চালক নিতেশ   
 তালুকদারের ছেলে সুনামগঞ্জ শহরের আদর্শ শিশু শিক্ষা নিকেতনের স্ট্যান্ডার্ড-২ এর মেধাবী ছাত্র  রুদ্রের জীবন বাঁচাতে যানবাহন শ্রমিক, পথচারী, দোকানপাটে রুদ্রের ছবি সম্বলিত লিফলেট বিতরণ করে অর্থ সংগ্রহ করেন মাইক্রো মিনি বাস চালক-শ্রমিকরা।
জানা যায়, সুনামগঞ্জ শহরের ষোলঘরের বাসিন্দা গাড়ি চালক নিতেশ তালুকদারে ছেলে আদর্শ শিশু শিক্ষা নিকেতনের স্ট্যান্ডার্ড-২ এর মেধাবী ছাত্র রুদ্র তালুকদার। ৮ বছর বয়সী রুদ্র এখন ভোগছে মরণব্যাধি ব্রেইন টিউমারে। দ্রুত অপরেশন না করলে যে কোন সময় রুদ্রের প্রাণহানী হতে পারে বলে জানিয়েছেন চিকিৎকরা। চিকিৎসার জন্য প্রয়োজন মোট ১৫ লক্ষ টাকা। যা গাড়ী চালক দরিদ্র পিতা নিতেশের পক্ষে বহন করা সম্ভব নয়। তাই রুদ্রের জীবন বাঁচাতে সমাজের বিত্তশালীদের সহযোগিতা চেয়েছেন অসহায় পরিবার ও শ্রমিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
‘রুদ্রের জীবন বাঁচাতে এগিয়ে আসুন’ এই শ্লোগানকে সামনে রেখে গাড়ি চালানো বিরত রেখে সহকর্মী নিতেশ তালুকদারের ছেলের জীবন বাঁচাতে এভাবেই ব্যানার টাঙ্গিয়ে দিনভর যানবাহন ও পথচারীদের মাঝে লিফলেট বিতরণ করে আর্থিক সাহায্য প্রার্থনা করতে দেখা গেছে মাইক্রো মিনিবাস চালক-শমিকদের। নিষ্পাপ শিশু রুদ্রের জীবন বাঁচাতে সমাজের বিত্তশালীদের এগিয়ে আসার আহবান জানিয়েছেন শ্রমিকরা।
মাইক্রোবাস চালক ময়না মিয়া বলেন,‘রুদ্রের বাবা আমাদের সাথে গাড়ী চালায়। সেই খুবই গরীব মানুষ। তার ছেলে রুদ্রের চিকিৎসায় যে টাকা প্রয়োজন তার পক্ষে একা ব্যয় বহন করা সম্ভব নয়। তাই আমরা তাকে সাহায্য করতে মাঠে নেমেছি। আমরা আশা করব সমাজের বিত্তশালীরাও রুদ্রের জীবন বাঁচাতে এগিয়ে আসবেন।
মো. রাজু নামে আরেক মাইক্রোবাস চালক বলেন,‘আমরা চাই রুদ্র অন্য দশটা শিশুর মতো সমাজে বেড়ে উঠুক। মেধাবী এই শিশুটি অকালেই প্রাণ হারাবে তা হতে পারে না। আমাদের বিশ্বাস রুদ্র আবার স্কুলে যাবে। তাই সমাজের সকলের আর্থিক সহযোগিতা কামনা করছি।’