স্টাফ রিপোর্টার
শাল্লায় ভূমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে এক নিরীহ পরিবারের নারী ও শিশুরা আতঙ্কে আছে। প্রভাবশালী প্রতিপক্ষের ভয়ে পুরুষরা বাড়িছাড়া থাকায় তাদেরকে নানাভাবে হুমকি ধমকি দিচ্ছে। এ ঘটনায় মামলা করায় বাড়ি এসে মামলা তুলে নেওয়ার হুমকি দিচ্ছে নারী ও শিশুদের। প্রতিপক্ষ প্রভাবশালী হওয়ায় তাদের ভয়ে কেউ মুখ খুলছেনা। এ ঘটনায় গত ২০ এপ্রিল শাল্লা থানায় ৭ জনকে আসামি করে মামলা হয়েছে।
মামলার বিবরণ ও এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শাল্লা উপজেলার শাল্লা গ্রামের মন্নান মিয়ার ছেলে সুজানুর মিয়া ও তার আতœীয় স্বজনরা একই গ্রামের তাদের প্রতিবেশি হারিছুজ্জামান মনু ও তার পরিবারকে নানাভাবে নির্যাতন করছে। বসবাড়ি দখলের জের ধরে বেশ কয়েকবার মারধরও করেছে। জোরপূর্বক তারা হারিছুজ্জামান মনুর ভাই জামাল আহমদের ঘরের ছাদে পানিনিষ্কাশনের টিন বসিয়ে দিয়েছে। এতে বৃষ্টির পানিতে তার বসতঘর নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এছাড়াও তাদের রেকর্ডিয় বসতবাড়ির জায়গা দখলেরও চেষ্টা করছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। লোকবল বেশি থাকায় নানা ছুতোয় মনুর পরিবারকে হুমকি ধমকিসহ নির্যাতন করে আসছে বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
জানা গেছে গত ১৬ এপ্রিল নিজ বাড়িতে কাজ করা অবস্থায় মামলার বাদি হারিছুজ্জামান মনু ও তার পরিবারকে ঘরে ঢুকে মারধর ও নির্যাতন করেছে সুজানুর ও তার লোকজন। সুজানুর মিয়ার নেতৃত্বে দেশিয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে কয়েকজন ঘরে প্রবেশ করে হামলা করে। হারিছুজ্জামান মনুর চিৎকার শুনে তার ভাতিজা কামরুজ্জামান এগিয়ে এলে তাকেও রামদা দিয়ে কুপিয়ে আহত করা হয়। প্রতিপক্ষকে থামাতে চাইলে প্রতিবেশি দোকানদার ও প্রত্যক্ষদর্শী নজির মিয়া চৌধুরীও হামলাকারীদের হামলার শিকার হন। আহত হন হারিছুজ্জামানের ঘরের কাজে নিয়োজিত এক নির্মাণশ্রমিক। তাদেরকে হবিগঞ্জের আজমিরিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়। হামলার সময় ঘরের নারী ও শিশুরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। তাদেরকেও শারিরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করে বলে ভুক্তভোগীরা জানান।
মামলার বাদি হারিছুজ্জামান মনু বলেন, ‘আমার পরিবারের নারী ও শিশুরা বের হতে পারছেনা। আমরাও পলাইয়া পলাইয়া থাকি। দাঙ্গাবাজ লোকরা অস্ত্রসস্ত্র লইয়া আমাদেরকে প্রাণে মারার জন্য হুমকি দিচ্ছে। তিনি বলেন, এরা আমাদের বাড়িঘর দখল করে আমাদের এলাকাছাড়া করতে চায়।
অভিযুক্ত সুজানুর মিয়া বলেন, হারিছুজ্জামান অনু ও তার পরিবারের লোকদেরর সঙ্গে আমাদের জমি নিয়ে বিরোধ চলছে। সেদিন তারা আমাদের উপর হামলা করলে আমাদের প্রতিরোধে কয়েকজন আহত হয়েছে। আমরা কারো জায়গা দখল করিনি।
শাল্লা থানার ওসি নূর আলম বলেন, মামলা দায়েরের পর আমরা এক আসামিকে গ্রেপ্তার করে জেল হাজতে পাঠিয়েছি। অন্যদেরও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।


