বিশেষ প্রতিনিধি
জেলার ছাতক, দোয়ারাবাজার উপজেলা এবং ধর্মপাশার মধ্যনগর থানা আওয়ামী লীগের কমিটি জেলা আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের আগে হচ্ছে না। ছাতক -দোয়ারা আওয়ামী লীগের কমিটি নিয়ে বিতর্ক রয়েছে গত প্রায় ১৫ বছর ধরে। মধ্যনগর আওয়ামী লীগের কমিটি নিয়েও বিতর্ক চলছে গত প্রায় ৫ বছর ধরে। জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার এম এনামুল কবির ইমন বলেছেন,‘জেলা আওয়ামী লীগের কমিটি গঠনের পর এই তিন ইউনিটের পূর্ণাঙ্গ কমিটি হবে’। আবার জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মতিউর রহমান বলেছেন,‘২৫ ফেব্রুয়ারির জেলা সম্মেলনের আগে কেন্দ্রীয় নির্দেশ মোতাবেক সকল উপজেলার আহ্বায়ক কমিটি দেওয়া হয়েছিল, নতুন করে কমিটি দিতে কেন্দ্রীয় কমিটির নির্দেশনা লাগবে’।
জেলার ছাতক ও দোয়ারাবাজার উপজেলা আওয়ামী লীগের কমিটি নিয়ে দ্বন্দ্ব রয়েছে গত প্রায় ১৫ বছর ধরে। আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা ছাতকে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল নিরসনের জন্য প্রায় ১৫ বছর আগে প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা প্রয়াত ডা. হারিছ আলীকে আহ্বায়ক ও লুৎফুর রহমান সুরকুমকে যুগ্মআহ্বায়ক করে উপজেলা আহ্বায়ক কমিটি করে দেন। এই কমিটিও ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে পারেনি। স্থানীয় সংসদ সদস্য মুহিবুর মানিক সমর্থকরা লুৎফুর রহমান সুরকুমের নেতৃত্বে এবং অপরাংশ (বর্তমান পৌর মেয়র আবুল কালাম সমর্থক) ডা. হারিছ আলীর নেতৃত্বে কার্যক্রম পরিচালনা করে।
২০১৪ সালের ডিসেম্বর মাসে জেলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মতিউর রহমান এবং ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নুরুল হুদা মুকুট ছাতকের আওয়ামী লীগ নেতা আবরু মিয়া তালুকদারকে আহ্বায়ক (আবুল কালাম সমর্থক), লুৎফুর রহমান সুরকুম (মানিক সমর্থক) ও আজমল হোসেন সজলকে (কালাম সমর্থক) যুগ্মআহ্বায়ক করে ৬৫ সদস্য উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা দেন। এই কমিটির সিংহভাগই আবুল কালাম সমর্থক হিসাবে পরিচিত। সংসদ সদস্য মুহিবুর রহমান মানিক সমর্থকরা এই কমিটি প্রত্যাখ্যান করে এবং তারা দাবী করে দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনা ছাতকের কমিটি করে দিয়েছিলেন, কমিটির আহ্বায়ক মারা যাওয়ায় গঠনতন্ত্র অনুসারে যুগ্ম আহ্বায়ক লুৎফুর রহমান সুরকুমই ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক। কমিটি ভাঙতে হলে বা নতুনভাবে করতে হলে সভানেত্রী-ই করবেন দাবী করে জেলা কমিটির দেওয়া কমিটি প্রত্যাখান করে এই অংশ।
একইভাবে দোয়ারাবাজার উপজেলা কমিটি নিয়ে বিতর্ক ছিল। ইদ্রিছ আলী বীরপ্রতীককে আহ্বায়ক করে এই উপজেলার কমিটি করে দেন দলীয় সভানেত্রী।
বিগত ২৫ ফেব্রুয়ারি সংগঠনের জেলা সম্মেলনের আগে এই উপজেলার কমিটি নিয়ে দুই দফায় দুই ধরণের বক্তব্য দেন জেলা আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীলরা। একবার বলা হয় উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ইদ্রিছ আলী বীরপ্রতীককে আহ্বায়ক করে কমিটি দেওয়া হয়েছে, আরেকবার বলা হয় ফরিদ আহমদ তারেককে আহ্বায়ক করে কেন্দ্রে কমিটি জমা দেওয়া হয়েছে।
এই উপজেলায় সংগঠনের বৃহৎ অংশ (মুহিবুর রহমান মানিক সমর্থক অংশ) ইদ্রিছ আলী বীরপ্রতীককে এখনো আহ্বায়ক মেনেই কার্যক্রম পরিচালনা করছে। অন্যদিকে, দলের অন্য আরেকাংশ ফরিদ আহমদ তারেককে আহ্বায়ক মেনে আসছে।
ধর্মপাশার মধ্যনগর থানা আওয়ামী লীগের আহ্বায়কও আব্দুল আউয়ালকে করে দিয়েছিলেন দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনা। মাঝখানে প্রায় ৫ বছর আগে স্থানীয় সংসদ সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন রতনের সমর্থক হিসাবে পরিচিত দলীয় নেতা গিয়াস উদ্দিনকে নূরীকে আহ্বায়ক, মোবারক হোসেন, আকরাম হোসেন ও পরিতোষ সরকারকে যুগ্ম আহ্বায়ক করে ৭১ সদস্য আহ্বায়ক কমিটি করে দেন জেলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মতিউর রহমান ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নুরুল হুদা মুকুট। কিন্তু আব্দুল আউয়াল সমর্থকরা এই কমিটি প্রত্যাখ্যান করে।
গত বছরের জানুয়ারি মাসে মধ্যনগর থানা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক কমিটি আবার পরিবর্তন করেন জেলা নেতৃত্ব। আব্দুল আউয়ালকে আহ্বায়ক, নৃপেন্দ্র রায়, প্রভাকর তালুকদার পান্না, আব্দুল খালেক, আলমগীর খসরু, কুতুব উদ্দিন, প্রবীর বিজয় তালুকদার ও মনোরঞ্জন তালুকদারকে যুগ্ম আহ্বায়ক করে ৫১ সদস্যের কমিটি করে দেন। স্থানীয় সংসদ মোয়াজ্জেম হোসেন রতন সমর্থকরা এই কমিটি প্রত্যাখান করেন।
এই তিন ইউনিটের কমিটি নিয়ে দ্বন্দ্ব এখনো নিরসন হয়নি।
জেলা আওয়ামী লীগের বিগত কমিটির একজন নেতা বলেছেন, ‘বিগত কমিটির দায়িত্বশীলরা এই তিন কমিটি’র অনুমোদনের কোন কাগজ এখনো জেলা কমিটির বর্তমান দায়িত্বশীলদের দিতে পারেননি বলে জেনেছি আমরা’।
গত মাসে (মে মাসে) জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার এম এনামুল কবির ইমন ইউপি নির্বাচন এবং সংগঠনের চলমান কার্যক্রম মূল্যায়ন সংক্রান্ত উপজেলা নেতৃবৃন্দকে দেওয়া চিঠি দোয়ারাবাজারে ইদ্রিছ আলী বীরপ্রতীককে, ছাতকে লুৎফুর রহমান সুরকুমকে এবং মধ্যনগরে আব্দুল আউয়ালের কাছে পাঠান।
জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার এম এনামুল কবির ইমন বলেন,‘জেলা আওয়ামী লীগের কমিটি গঠন করার পর কমিটির কার্যনির্বাহী পরিষদের সভায় সিদ্ধান্ত নিয়ে ছাতক, দোয়রাবাজার ও ধর্মপাশা উপজেলার পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হবে’।
অন্যদিকে, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মতিউর রহমান বলেন,‘সম্মেলনের আগে কেন্দ্রীয় নেতাদের নির্দেশে সুনামগঞ্জের সকল ইউনিট কমিটি কেন্দ্রের দায়িত্বশীলদের কাছে জমা দেওয়া হয়েছিল, এখন আবার কোন ইউনিটের কমিটি পরিবর্তন করতে হলে কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অনুসারেই করতে হবে’।
- জামালগঞ্জ সদরে প্রচারণায় সাত চেয়ারম্যান প্রার্থী
- মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির ব্যবসা ও অর্থনীতি অনুষদের Conference Proceedings এর মোড়ক উন্মোচন


