প্রসিকিউশনকে সর্বোচ্চ আদালতের তিরস্কার

সু.খবর ডেস্ক
সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ জামায়াতে ইসলামী নেতা মীর কাশেম আলীকে যুদ্ধাপরাধ আদালতের দেয়া মৃত্যুদ-ের রায় বহাল রেখেছে। পূর্ববর্তী রায়ের সময় ১৯৭১ সালের যুদ্ধাপরাধ উপস্থাপনায় কৌঁসুলিদের দুর্বলতার জন্য আদালত তাদের তিরস্কার করেছে।
সর্বোচ্চ আদালত ২০১৬ সালের ৬ জুন দেয়া ২৪৪ পৃষ্ঠার রায়ের বিবরণ উদ্ধৃত করে বলা হয়, ‘সরাসরি অপরাধে যুক্ত থাকার অভিযোগ ১১ নম্বর মামলায় প্রমাণিত হওয়া সত্ত্বেও অভিযুক্ত ব্যক্তিকে (মীর কাশেম আলী) কৌঁসুলিরা তাকে কেন সহযোগী হিসেবে বিকৃত করেছেন, যেটি আমাদের (সর্বোচ্চ আদালত) বোধগম্য নয়।
রায়ে বলা হয়, ‘ঘটনার সময় (১৯৭১) অত্যন্ত ক্ষমতাশালী ব্যক্তি এবং অত্যন্ত ভয়ঙ্কর অপরাধী এবং কিলিং স্কোয়াডের কমান্ডার হওয়া সত্ত্বেও এই মামলা সরকার নিযুক্ত দুইজন দক্ষ ও উপযুক্ত কৌঁসুলির কাছে ন্যস্ত করা হয়নি এটি রহস্যজনক।’
রায়ে বলা হয়, এর আগে মামলার শুনানিকালে সাক্ষীদের বক্তব্য আদালতে একত্রে যাচাই অথবা জেরা করা হয়নি প্রতীয়মান হওয়ায় দেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিটি-বিডি) অপর দুইজন কৌঁসুলিকে একই মামলা থেকে সরিয়ে দেয়া হয়।
সর্বোচ্চ আদালত মনে করে, একজন কৌঁসুলি কিছু সাক্ষ্য যাচাই করেন এবং অপর কৌঁসুলি অপর কিছু সাক্ষর সাক্ষ্য যাচাই করেন। এর ফলে স্বাভাবিকভাবেই তাদের মনোযোগ কেন্দ্রীভূত হয়নি।
রায়ে বলা হয়, আপিলে শুনানিকালে কৌঁসুলিদের পক্ষে মামলা পরিচালনায় সর্বোচ্চ আদালত এটর্নি জেনারেলের মনোযোগ আকর্ষণ করেন। সর্বোচ্চ আদালত মনে করে, ত্রুটির বিষয় অনুধাবন করে তিনি (এটর্নি জেনারেল) নিরব থাকেন।
মীর কাশেম আলীর মামলা কৌঁসুলিদের দুর্বল পারফরমেন্সের জন্য এখনো তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নেয়ায় ২৮ আগস্ট আপিল আদালত রিভিউ মামলার শুনানিকালে অসন্তোষ ব্যক্ত করেন।
এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম জবাবে বলেন, এই মামলায় দক্ষ ও উপযুক্ত কৌঁসুলিকে দায়িত্ব না দেয়ায় তিনিও বিস্মিত হয়েছেন। প্রসিকিউশনের সিনিয়র আইনজীবী তুরিন আফরোজ মঙ্গলবার বলেন, ‘মামলা পরিচালনায় আমাদের প্রসিকিউশন অংশে কিছু ঘাটতি থাকতে পারে। প্রধান বিচার আমাদের অভিভাবক তাই আমরা তার গঠনমূলক পর্যবেক্ষণ গ্রহণ করছি।’
তবে তিনি বলেন, ‘প্রসিকিউশনের দক্ষতা অন্তত একটি অভিযোগের রায়ে মৃত্যুদ- নিশ্চিত করতে পেরেছে।’ ১৯৭১ সালের যুদ্ধাপরাধের জন্য বিশেষ তদন্ত সংস্থার প্রধান সমন্বয়কারী আবদুল হান্নান খান বলেন, ‘এ মামলায় পানি যথেষ্ট ঘোলা হয়েছিলো। তবে শেষ পর্যন্ত বিচার পাওয়া গেছে।’