ছাতক প্রতিনিধি
ছাতকের প্রাচীনতম ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান মোহাম্মদীয়া মুসাফিরখানা ও পঞ্জেগানা মসজিদ ভেঙে বহুতল বিশিষ্ট বাণিজ্যিক মার্কেট গড়ে তোলার চেষ্টার প্রতিবাদে ৭ জনের বিরুদ্ধে আদালতে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
উপজেলার কালারুকা ইউনিয়নের শিমুলতলা গ্রামের দেওয়ান আলী রাজা চৌধুরীর পুত্র আব্দুল্লাহ আল মামুন চৌধুরী বাদী হয়ে শহরের বাগবাড়ী এলাকার আলতাব মিয়ার পুত্র ইকবাল হোসেন, একরাম হোসেন সহ ৭ জনের বিরুদ্ধে সুনামগঞ্জ সহকারী জজ আদালতে এবং অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে পৃথক মোকদ্দমা দায়ের করেন।
রবিবার দুপুরে শহরের সোলেমান কমিউনিটি সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে আব্দুল্লাহ আল মামুন চৌধুরী এক লিখিত বক্তব্যে এসব তথ্য তুলে ধরেন।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, প্রায় ৭৫ বছর আগে শহরের প্রধান সড়কের পাশে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল মোহাম্মদীয়া মুসাফিরখানা ও পঞ্জেগানা মসজিদ। শহরে আগত মুসাফিরদের থাকা ও ধর্মীয় উপাসনা করার লক্ষ্যে বাগবাড়ী এলাকার মৃত হাজী উসমান মিয়ার স্ত্রী মৃত ছুরতুন্নেছা বিবি তার নিজ বাড়ির সামনে আড়াই শতক ভূমি মুসাফিরখানা ও পঞ্জেগানা মসজিদ নির্মাণের জন্য ওয়াকফনামা-দানপত্র সম্পাদন করে দিয়েছিলেন। দেওয়ান আলী রাজা চৌধুরীর পিতা দেওয়ান হাজী দেওয়ান আলম রাজা চৌধুরীর নিজ অর্থায়নে মুসাফিরখানা নির্মাণ করে দেয়ার এক প্রস্তাবের ভিত্তিতে ছুরতুন্নেছা বিবি ১৯৪৭ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর বাগবাড়ী মৌজার, জেএল নং-২১৬, খতিয়ান নং-৫৮ এবং ৮৬৯/৮৮০ দাগের ভূমি ৪১৭২ নং দলিলে ওয়াকফনামা রেজিষ্ট্রারী সম্পাদন ও মুসাফিরখানা পরিচালনা কমিটি বরাবরে হস্তান্তর করেন। এ ভূমিতে তার উত্তরাধিকারী কারো কোন রকম স্বত্ব বা দাবি থাকবে না বলেও দলিলে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়।
সম্প্রতি একটি ভূমিখেকো সন্ত্রাসী চক্র জ্বাল কাগজপত্র সৃজন করে ভুয়া মালিকানা ও কাল্পনিক স্বত্ত্বাধিকারী সেজে ঐ ভূমিতে বহুতল বিশিষ্ট বাণিজ্যিক মার্কেট নির্মাণের লক্ষ্যে ৭৫ বছরের পুরাতন মুসাফিরখানা ভবনটি ভেঙে ক্ষতবিক্ষত করে। গভীর রাতে মুসাফিরখানা ভবন ভাঙার বিষয়টি অবহিত থানা পুলিশ বেআইনী কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন। পরে সুনামগঞ্জ সহকারী জজ আদালতে স্বত্ব (মোকদ্দমা নং- ৫৬/২২) এবং অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে কার্যবিধি ১৪৪ ধারা মোতাবেক মোকদ্দমা (নং- ৫৪০/২২) দায়ের করেন। উভয় মামলায় এ ভূমিতে নিষেধাজ্ঞা প্রদান করেন আদালত। আদালতে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ভবন ভাঙা অব্যাহত রাখলে ঘটনাস্থল থেকে ইকবাল হোসেনকে আটক করে পুলিশ। পরে মুচলেকা দিয়ে থানা থেকে ছাড়া পায় সে।
লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, মুসাফিরখানা দখলে নিয়ে প্রতিপক্ষরা ভুয়া কাগজপত্র দাখিল করে পৌরসভা থেকে ৩ নামে পৃথক হোল্ডিং ও বিদ্যুৎ সংযোগ এবং মিটার গ্রহণ করে। যা পরবর্তিতে পৌর কর্তৃপক্ষ এসব হোল্ডিং সমুহের এসেসমেন্ট কার্যক্রম স্থগিত করে দেয়। একইভাবে বৈধ কাগজপত্র উপস্থাপন না করতে পারায় বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে নোটিশ প্রদান করলে তারা সময় চেয়ে আবেদন করে।
এদিকে চলমান মামলা নিস্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বিদ্যুতের অবৈধ সংযোগ ও মিটার বাতিল করার জন্য একটি আবেদন করেন আব্দুল্লাহ আল মামুন চৌধুরী।
তিনি জানান, ভূমি খেকো চক্রের প্রধান ইকবাল হোসেন হোসেনের বিরুদ্ধে হিন্দু ধর্মাবলম্বিদের আখড়ার ভূমি জোর দখলের চেষ্টার অভিযোগ রয়েছে। ভূমি সংক্রান্ত বিষয়ে সে জেলও খাটতে হয়েছে। এসব ভূমি খেকোর চক্রের লালসার হাত থেকে মোহাম্মদিয়া মুসাফিরখানা ও পঞ্জেগানা মসজিদ রক্ষায় ধর্মপ্রাণ সকল মুসলমানদের এগিয়ে আসার আহবান জানান উপস্থিত নেতৃবৃন্দ।
সংবাদ সম্মেলনে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান নজরুল হক, স্থানীয় আশিদ আলী, জমির উদ্দিন, আরশ আলী, কবির আহমদ, হাজী মনির আলী, বাবুল মিয়া, নুরুল ইসলাম মেম্বার, আশরাফ চৌধুরী প্রমূখ। এসময় স্থানীয় অধ্যাপক ফখর উদ্দিন স্বপন, আশরাফল আলম, আব্দুন নূর, সিরাজ মিয়া, ইলিয়াছ মিয়া, কবির মিয়া, সেলিম আরাফাত, দৌলত মিয়া, আনোয়ার হোসেন, ছাব্বির হোসেন, জিলু মিয়া প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।


