জামালগঞ্জ মৎস্য অফিসে জনবল সংকট/ সেবাবঞ্চিত মৎস্যচাষিরা

জামালগঞ্জ প্রতিনিধি
জনবল সংকটের কারণে জামালগঞ্জ উপজেলা মৎস্য অফিসের কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। অফিসে ৫ জন কর্মকর্তা কর্মচারী থাকার কথা থাকলেও মৎস্য কর্মকর্তা একাই করছেন অফিসের সকল কাজ। দীর্ঘদিন ধরে খালি রয়েছে সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা, অফিস সহকারী, ক্ষেত্র সহকারী ও অফিস সহায়কের পদ। জনবল না থাকায় কাঙ্খিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন মৎস্যচাষীরা।
উপজেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা যায় জামালগঞ্জে ৪৫০টি ছোট বড় পুকুর রয়েছে। সরকারি পুকুর ১২টি, বেসরকারি পুকুর ৪৩৮টি। রয়েছে ৯৫টি ছোট বড় বিল। যাতে বছরে ৬ হাজার ৩৪৫ মেট্রিক টন মাছ উৎপাদন হয়। যার মূল্য আনুমানিক ১৫ কোটি ৮৬ লক্ষ টাকা।
জেলার শ্রেষ্ঠ মৎস্য চাষী জামালগঞ্জের রামপুর গ্রামের ফজলুল হক জানান, সুনামগঞ্জ জেলার মধ্যে মৎস্য সেক্টরের জন্য এই উপজেলাটি গুরুত্বপূর্ণ। সে অফিসে জনবল কম থাকায় আমাদের প্রয়োজনে সময়মত সেবা পাই না। এই উপজেলার মৎস্যখ্যাতকে এগিয়ে নিতে হলে জনবল বাড়ানো দরকার।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সুনন্দা রানী মোদক বলেন, হাওর অধ্যুষিত এই উপজেলা। এই উপজেলার মানুষের ধান এবং মাছ উৎপাদন হচ্ছে একমাত্র আয়ের উৎস। মৎস্য সেক্টরের জন্য উপজেলাটি গুরুত্বপূর্ণ হলেও বিভিন্ন পদে জনবল না থাকায় অফিসের কাজ কর্ম একা করতে হিমসিম খেতে হচ্ছে। অভিযান পরিচালনা ও মৎস্য চাষীদের মাঠ পর্যায়ে গিয়ে পরামর্শ প্রদান করতে গেলে অফিস বন্ধ করে যেতে হয়।
জামালগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ইকবাল আল-আজাদ বলেন, ছোট বড় বারটি হাওর নিয়ে এই উপজেলা। এই উপজেলায় মৎস্য কর্মকর্তা একাই অফিস কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন। এই মৌসুমে অনেক বিলের মালিক বিলের তলা শুকিয়ে মাছ ধরার চেষ্টা করেন। একজন কর্মকর্তার পক্ষে অফিস এবং বিভিন্ন অভিযান পরিচালনা করা অসম্ভব। তাই উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট দাবি জানাচ্ছি দ্রুত জনবল পদায়ন করে মৎস্যখ্যাতকে রক্ষা করার জন্য।
সুনামগঞ্জ জেলা মৎস্য কর্মকর্তা সুনীল মন্ডল জনবল সংকটের কথা স্বীকার করে জানান, আমরা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট জনবল সংকটের বিষয়ে জানিয়েছি। জনবল সংকটের কারণে মৎস্য চাষীদের সেবা দিতে হিমসিম খেতে হচ্ছে।
সিলেট বিভাগীয় মৎস্য অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, আমাদের পুরো বিভাগেই জনবল সংকট। কোন অফিসে একজন কোন অফিসে দুই জন কাজ করছে। আমরা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট লিখিত ভাবে জানিয়েছি। আশা করি দ্রুতই জনবল সংকটের সমাধান হবে।