সালেহ আহমদ, বিশ্বম্ভরপুর
দেশের সকল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ২০১৬ সালে ৫ম শ্রেণীর সমাপনী পরীক্ষার ফলাফল যথাসময়ে প্রকাশ হয়েছে। উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা ২০১৭ সালে বছরের শুরুতেই ৬ষ্ঠ শ্রেণীতে ভর্তি হবে নিজ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নাকি হাই স্কুলে এমন দ্বিধাধন্দে পড়েছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। কেউ কেউ হাইস্কুলে ভর্তি হয়েছেন। অনেকেই সরকারি সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় দিন গুনছেন। গত বছর সংশ্লিষ্ট বিভাগের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ঘোষণা দিয়েছিলেন ২০১৭ সাল থেকে দেশের সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে ৬ষ্ঠ থেকে ৮ম শ্রেণীর পাঠদান চালু হবে। পিএসসি নামে কোন পরীক্ষা আর থাকবে না। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ৫ম শ্রেণী পাস করে নিজ নিজ বিদ্যালয়েই ৬ষ্ঠ শ্রেণীতে ভর্তি হতে পারবে, এভাবে ৮ম শ্রেণী পর্যন্ত নিজ বিদ্যালয়েই শিক্ষার সুযোগ পাবে। এজন্য প্রতি বছর সেশন ফিস ও মোটা অংকের মাসিক বেতন গুনতে হবে না। নতুন বছরের ১৮ দিন চলে গেল, সরকারের দেয়া পূর্বের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হবে কি না এই দ্বিধা-ধন্দে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। এব্যাপারে বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) অনুকূল চন্দ্র দাস জানান, প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে ২০১৭ সালে ৬ষ্ঠ শ্রেণী চালু করার সরকারি কোন সিদ্ধান্ত এখনো পাওয়া যায়নি। এবছর আর চালু হবে বলে আমার মনে হয় না। অনেক অভিভাবক নিজ সন্তানদের অতিরিক্ত সেশন ফিস দিয়ে হাই স্কুলে ভর্তি করিয়েছেন। আবার অনেক দরিদ্র অভিভাবক সরকারি সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় দিন গুনছেন।
নওয়াগাঁও গ্রামের কৃষক তাজুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা গরিব লোক কৃষি কাজ করে অভাব ও কষ্টে জীবিকা নির্বাহ করে আসছি। হাইস্কুলে ছেলে মেয়েদের লেখাপড়া করানো অনেক ব্যয়বহুল হয়ে পড়েছে। একটা ছাত্র হাই স্কুলে ভর্তি করলে ৮শত থেকে ১৫শত টাকা সেশন ফিস/ভর্তি ফিস বাবদ দিতে হয়। তাছাড়া মাসিক বেতন আরো শতাধিক
টাকা, এছাড়া অন্যান্য খরচাদিতো আছেই। সরকার যদি গত বছরের সিদ্ধান্তটি বাস্তবায়িত করে দেশের সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৬ষ্ঠ থেকে ৮ম শ্রেণী পর্যন্ত ক্লাস চালু করতেন তাহলে আমাদের গরীবের ছেলে মেয়েরা বিনা খরচে চলার মত শিক্ষা অর্জন করে দেশ ও জাতির কল্যাণ বয়ে আনতে পারতো।’
দেশের অনেক হাইস্কুলে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হয় কারণ স্কুলগুলোতে আবাসন ও সিট সংখ্যা সীমিত অনেক হাই স্কুলে অতিরিক্ত ছাত্র/ছাত্রীর ভর্তির ফলে লেখা পড়ার সঠিক মান ও পরিবেশ বজায় থাকে না। ফলে অনেক শিক্ষার্থীরা মানসিকভাবে বিপর্যস্থ হয়ে লেখা পড়া ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়। এমতাবস্থায় প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে ৬ষ্ঠ থেকে ৮ম শ্রেণী পর্যন্ত ক্লাস চালু করলে লেখা পড়া সুষ্ঠ পরিবেশ বজায় থাকবে। ঝরে পড়া রোধ হবে, অস্বচ্ছল গরীব শিক্ষার্থীরা শিক্ষার সুযোগ বেশী পাবে। এব্যাপারে পূর্বের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট জোর দাবী জানাচ্ছেন অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা।