নগরভিত্তিক প্রান্তিক মহিলা উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ২৭ হাজার ৬শ’ সুবিধাবঞ্চিত নারীকে কর্মমুখী প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। ১৮ কোটি ৮০ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটির প্রথম পর্যায় শেষ হয়েছে। সারাদেশের শহরাঞ্চলের নারীদের প্রশিক্ষণের আওতায় আনতে নতুন করে প্রকল্পটির দ্বিতীয় পর্যায় চালু করছে সরকার। জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) প্রকল্পটি অনুমোদন করেছে। অনুমোদন পাওয়া এই প্রকল্পটি ২০২০ সালের মধ্যে বাস্তবায়ন করবে মহিলা বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের জাতীয় মহিলা সংস্থা। প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৮৬ কোটি ১৫ লাখ টাকা। এই টাকা ব্যয় করা হবে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে।
শহর এলাকার দরিদ্র অসহায় ও বিত্তহীন নারীদের যথাযথ প্রশিক্ষণ দিয়ে উৎপাদনমুখী কর্মসংস্থান ও আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে প্রকল্পটি হাতে নেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পের আওতায় আটটি ট্রেডে মোবাইল ফোন মেরামত, হাউসকিপিং, মাশরুম চাষ, বিউটি পার্লারসহ আরও বেশ কিছু বিষয়ে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অর্থনৈতিক কর্মকা-ে নারীর অংশগ্রহণ বাড়াতে এই প্রকল্প কাজে লাগবে। জাতীয় উৎপাদনে পুরুষের সমকক্ষ হতে সহায়তা পাবে নারী। প্রশিক্ষণে পাওয়া দক্ষতা কাজে লাগিয়ে উৎপাদিত পণ্য বাজারজাতকরণে সহায়তা করা হবে প্রকল্পের আওতায়। পরিকল্পনা কমিশনের কর্মকর্তারা বলছেন, প্রকল্পটির আওতায় ভারত, ভুটান বা পূর্ব এশিয়ার দেশে দুই থেকে তিনটি মেলারও আয়োজন করা হবে। সেখানে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নারীরা রফতানিযোগ্য পণ্য প্রদর্শনের এবং সম্ভাব্য বাজারের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পাবেন।
আমাদের জনসংখ্যার অর্ধেকই নারী। জনসংখ্যার অর্ধেক অংশকে কর্মবিমুখ রেখে দেশের সার্বিক উন্নয়ন যে কোনোভাবে সম্ভব নয়, এ ব্যাপারে দ্বিমতের কোনো অবকাশ নেই। একসময় নারীরা ছিল যথার্থ অর্থেই ‘পুরবাসিনী’। গৃহকাজে অংশগ্রহণ ছাড়া পরিবারের আর্থিক অবস্থা উন্নত করার কোনো সুযোগ তাদের ছিল না। সমাজ, রাষ্ট্রে তাদের অবদান রাখার বিষয়টি ছিল কল্পনারও বাইরে। সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে নারীরা এখন পরিবারের জন্য আর্থিক ক্রিয়াকর্ম সম্পাদন ছাড়াও সমাজ, রাষ্ট্রের বিভিন্ন পর্যায়ে অবদান রাখছে। দেশের অর্থনীতিতে নারীদের অবদান দিন দিনই বাড়ছে। বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী সেক্টর গার্মেন্টসে প্রায় ৮০ শতাংশ অবদান রাখছে নারীরা। শুধু তাই নয়, দেশের প্রায় সব ক্ষেত্রে নারীদের অংশগ্রহণ ও ক্ষমতায়ন দিন দিন বাড়ছে। শহরের শিক্ষিত নারীরা পুরুষের পাশাপাশি নানা ক্ষেত্রে কাজ করছে। এসব ইতিবাচক পরিবর্তন সত্ত্বেও বাস্তবতা হল শহরাঞ্চলে বিরাট সংখ্যক নারী রয়েছে, যারা দরিদ্র, অসহায় ও কর্মহীন। তারা অনেকটাই পরিবার তথা সমাজের ওপর নির্ভরশীল হয়ে আছে। এসব প্রান্তিক নারীকে যদি আয়বর্ধক এবং আত্মকর্মসংস্থানের যোগ্য হিসেবে গড়ে তোলা যায়, তাহলে তাদের নিজেদের ভাগ্যের দুয়ার যেমন খুলবে, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে তাদের অবদান রাখার সুযোগও সৃষ্টি হবে।
শহরাঞ্চলের প্রান্তিক নারীদের প্রশিক্ষণ দেওয়াটা অবশ্যই একটি ইতিবাচক কাজ। তবে এটাই শেষ কাজ মনে করার কোনো সুযোগ নেই। প্রশিক্ষণ পাওয়া নারীরা প্রশিক্ষণ শেষে যদি কর্মক্ষেত্র খুঁজে না পায় তাহলে সরকারের বিপুল অঙ্কের টাকা ব্যয়ের কোনো ফল লাভ হবে না। সেজন্য আমরা মনে করি, এসব নারীকে উৎপাদনমুখী কাজে নিয়োজিত হওয়ার সুযোগ তৈরি করে দিতে হবে। তাদের তৈরি পণ্যসামগ্রী বিক্রির জন্য দেশের বাইরে মেলা করার যে পরিকল্পনা আছে, সেটি ভালো। অনুরূপভাবে দেশের ভেতরও মেলার আয়োজন করা প্রয়োজন। প্রশিক্ষণ পাওয়া নারীদের ডাটাবেজ সংরক্ষণ করতে হবে। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, সরকারি অর্থ ব্যয়ে নারীরা যে প্রশিক্ষণ নিচ্ছে তা পরবর্তী সময়ে তারা কাজে লাগাতে পারছে কি না সেটি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করতে হবে। যদি প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কোনো নারী আয়বর্ধক কর্মকা-ে সম্পৃক্ত হতে অসুবিধার সম্মুখীন হয় তা দূর করার ব্যবস্থা নিতে হবে।
- পৃথিবীতে অনেক নেতা এসেছেন কিন্তু বঙ্গবন্ধুর মত নেতার আর্বিভাব ঘটেনি আব্দুল গাফফার চৌধুরী
- ছাতকে সাজাপ্রাপ্ত আসামী গ্রেফতার

