ধর্মপাশা প্রতিনিধি
অবৈধ হ্যান্ডট্রলি লরিগাড়িসহ মালবাহী বিভিন্ন যানবাহনের দাপটে আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন ধর্মপাশা (মধ্যনগর) উপজেলার বংশীকুন্ডা উত্তর ইউনিয়নের জনগণ। পাশ্ববর্তী তাহিরপুর উপজেলার বাগলী শুল্ক স্টেশন থেকে প্রতিদিনই ওই ইউনিয়নের মহিষখলা বাজারের ওপর দিয়ে কয়লা, পাথরসহ বিভিন্ন মালামাল নিয়ে যাওয়া হয় নেত্রকোনার কলমাকান্দায়। এসব অবৈধ মালবাহী যান চলাচলের কারণে প্রতিদিনই ঘটছে দুর্ঘটনা। প্রায়ই ঝরছে শিশুসহ নারী পুরুষের প্রাণ। তাই স্থানীয়রা দীর্ঘ দিন ধরে এ রুটে নিষিদ্ধ যান চলাচল বন্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দাবি জানিয়ে আসছেন। গত বুধবার এ রুটে চলাচলকারী মালবাহী যান চলাচল বন্ধ করে দেয় স্থানীয়রা। খবর পেয়ে বাগলী শুল্ক স্টেশনের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা ছুটে এসে ওইদিনের মতো মালবাহী যানগুলো ছেড়ে দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানালে স্থানীয়রা তা মেনে নেয় এবং বৃহস্পতিবার থেকে এসব যান চলাচল বন্ধ করা হবে- এমন শর্তে দেন স্থানীয়রা। কিন্তু বৃহস্পতিবার আবারও মালবাহী যান চলাচল শুরু হলে স্থানীয়রা তা আবার বন্ধ করে দেন। বৃস্পতিবার বিকেলে রুপনগর এলাকায় অন্তত ৪০টি মালবাহী অবৈধ হ্যান্ডট্রলি আটকে দেওয়া হয়। এদিকে বংশীকুন্ডা উত্তর ইউপি চেয়ারম্যান জানিয়েছেন, কলমাকান্দার কতিপয় ব্যবসায়ীরা এতে ক্ষুদ্ধ হয়ে পাঁচগাঁও এলাকায় মহিষখলাগামী কিছু যাত্রীবাহী মোটরসাইকেল ও পণ্যবাহী অটোরিকশা আটকে দেওয়ার ঘটনা ঘটিয়েছে।
গেল বছরের ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহে মহিষখলা বাজারের পশ্চিমপাশে মহিষখলা-কালাগড় সড়কে অবৈধ হ্যান্ডট্রলি চাপায় তামজিদ নামের পাঁচ বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়। তামজিদ সাউদপাড়া গ্রামের ওয়াসিম মিয়ার ছেলে। এর কয়েকদিন আগে বাকাতলা গ্রামের সামনের সড়কে মালবাহী হ্যান্ডট্রলির চাপায় এক মানসিক ভারসাম্যহীন নারীর মৃত্যু হয়। তখনও এ রুটে অবৈধ যান চলাচল বন্ধে দাবি তুলেছিলেন স্থানীয়রা।
তাহিরপুর উপজেলার বাগলী শুল্ক স্টেশনের সাধারণ সম্পাদক মনির ডাক্তার বলেন, ‘নদী ও সড়পথ উভয় পথেই চলাচল করার নিয়ম আছে। নদী পথেই চলতে হবে এমন কোনো বিষয় না। আর সরকারি রাস্তাঘাটে হ্যান্ডট্রলি, মোটরসাইকেল, গাড়িঘোড়া সবকিছুই চলে এগুলোর জন্য পারমিশন লাগেনা। একবার আসেন সাক্ষাতে কথা বলি।’
বংশীকুন্ডা উত্তর ইউপি চেয়ারম্যান নূর নবী তালুকদার বলেন, ‘এসব মালামাল নদী পথে ডেলিভারি হওয়ার কথা থাকলেও হ্যান্ডট্রলি ও লড়ি দিয়ে মানুষের যানমাল হুমকির মুখে ফেলে সড়কের ক্ষতি সাধন করে মালবাহী যান আনা নেওয়া করা হচ্ছে। বুধবার স্থানীয়রা মালবাহী যানগুলো আটকে দিলে বাগলী শুল্ক স্টেশনের সাধারণ সম্পাদকসহ অন্যরা এসে লোড গাড়িগুলো ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ করে আর এ রুট ব্যবহার করবে না বলে জানিয়ে গেলেও বৃহস্পতিবার আবারও তারা একই কাজ করেছে।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মুনতাসির হাসান সমকালকে বলেন, ‘এ সমস্যা নিরসনে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানসহ উভয়পক্ষকে নিয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।’


