আলী আহমদ, জগন্নাথপুর
প্রেম অত:পর অন্ত:সত্তা¡। তারপর গ্রাম ছাড়া। আলোচিত এই ঘটনাটি ঘটেছে জগন্নাথপুরের পল্লীতে। গতকাল শুক্রবার পর্যন্ত অন্ত:সত্ত্বা ওই কুমারি মেয়ে এবং তার পরিবারের লোকজনের কোন খবর খবর পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়রা জানান, কুৎসা আর ‘কলংকের’ ভয়ে পালিয়েছে দরিদ্র এই পরিবার।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সর্বনাশের শিকার ওই তরুণির বাড়িতে তালবদ্ধ অবস্থায় রয়েছে বসতবাড়িপটি। লোকজন নেই। কেউই জানেন না, তারা কোথায় আছেন। কেমন আছেন।
শুক্রবার বিকেলে স্থানীয় ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আবুল কালাম জানান, গত ২৬ জানুয়ারি মেয়েটি আমাকে মোবাইলে কল দিয়ে জানায়, মেম্বার সাব আমার পাশের ঘরের আখলুল মিয়ার ছেলে জামিল মিয়া প্রেমের ফাঁদে পেলে আমাকে নষ্ট করেছে। আমি এখন পাঁচ মাসের অন্ত:সত্তা¡। হাসপাতালে আইছিলাম (এসেছিলাম) সন্তান নষ্ট করতে কিন্তু ডাক্তাররা রাজি হননি। এরপর মেয়েটি ফোন কেটে দেয়।
ইউপি সদস্য জানান, আমি শুনেছি মেয়েটির পরিবার বাড়িঘর ছেড়ে চলে গেছে। কোথায় গেছে আমি জানি না। বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করেছিলেন কিনা এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি বললেন জ্বি না।
গ্রামের লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, উপজেলার রানীগঞ্জ ইউনিয়নের আখলুছ মিয়ার ছেলে টমটম চালক জামিল মিয়া প্রতিবেশি দরিদ্র প্রতিবন্দ্বী’র মেয়ের সঙ্গে বিয়ের প্রতিশ্রতি দিয়ে প্রেমের সর্ম্পক গড়ে তুলে। একপযার্য়ে তাঁরা শারীরিক সর্ম্পকে লিপ্ত হয়। এতে কুমারি মেয়েটি পাঁচ মাসের অন্ত:সত্তা হয়ে পড়ে। বিয়ের জন্য ছেলেটিকে বলা হলে, উল্টো তরুণিকে পেটের বাচ্চা নষ্ট করার জন্য হুমকি দেয়া হয়। লোকলজ্জা আর হুমকিদুমকিতে অসহায় পরিবার অবশেষে সন্তান নষ্ট করতে গত ২৬ জানুয়ারি উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যান। সেখানে দায়িত্বরত চিকিৎসা ও নার্স সন্তান নষ্ট করতে রাজি না হওয়াতে পরিবারের লোকজন মেয়েকে নিয়ে বাড়ি ফিরে আসেন। এরপর থেকে অর্থাৎ গত ২৭ জানুয়ারি ভোরবেলা থেকে অন্তঃসত্ত্বা তরুণিসহ তাদের পরিবারের লোকজন গ্রাম ছেড়ে চলে যান।
স্থানীয় কয়েকজন জানান, প্রতিবন্দ্বী ওই দরিদ্র ব্যক্তির স্ত্রী, দুই মেয়ে ও এক ছেলে নিয়ে সংসার। প্রতিবন্দ্বী ভাতা আর মানুষের সাহায্য সহযোগিতা সংসার চলত তাদের। মাথায় কলংকের বোঝা নিয়ে গ্রামছাড়া বড় মেয়ে প্রায় দেড় বছর পূর্বে জর্দান থেকে দেশে ফিরে। দেশে ফেরার পর জামিল মিয়ার সঙ্গে প্রেমের সর্ম্পক তৈরী হয়। তবে ঘটনা জানাজানির পর থেকে অভিযুক্ত জামিল মিয়া গা ডাকা দিয়েছে।
এবিষয়ে জামিল মিয়ার বাবা আখলুছ মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ চেষ্ঠা করে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নার্স জোৎসনা জানান, মেয়েটি এসেছিল হাসপাতালে। অবৈধভাবে গর্ভপাত বেআইনি বলায় তারা চলে গেছেন।
জগন্নাথপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। থানায় কেউ অভিযোগও করেনি। খোঁজ নিয়ে দেখব।


