ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার
ভারতের মেঘালয়ে অতিবৃষ্টির কারণে সুনামগঞ্জে বেড়েছে নদীর পানি। এতে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে গেছে হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধ। তাহিরপুরের নজরখালী বাঁধ, দিরাইয়ের বৈশাখীর বাঁধ ভেঙে চাপতির হাওরসহ ছোট বড় মিলিয়ে ১৩ হাওরের বাঁধ বেঙে প্রায় ৪ হাজার ৯০০ হেক্টর জমি পানির নিচে চলে গেছে। আরও ৩০ থেকে ৩৫ টি বাঁধে ফাটল দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পিআইসি গঠনে অনিয়মের কারণে বাঁধ ঠিক মতো হয়নি। এজন্য পানির প্রথম ধাক্কায় বাঁধ ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
মাটিয়ান হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধের ৪৩ নম্বর পিআইসি’র সভাপতি কৃষক মো. গোলেনুর মিয়া। তার নাম ব্যবহার করে আরেকজন পিআইসি এনেছে। নামে মাত্র কৃষক গোলেনুর, পেছন থেকে কলকাটি নাড়ছে আরেক জন। এখন অতিরিক্ত বৃষ্টিতে নদীতে পানি আসায় বাঁধ হয়েছে নড়বড়ে। এতে শংকিত তিনি। এ প্রতিবেদকের কাছে বললেন, বিপদে পড়ে কাজ করতে গেছেন, মূলত টাকা পয়সা নিচ্ছে অন্যজন।
শুধু মাটিয়ান হাওরের ৪৩ নম্বর বাঁধ নয়, তাহিরপুরের ৬৮ টি পিআইসির ৫৩ কিলোমিটার ফসল রক্ষা বাঁধে এরকম অনিয়ম হয়েছে। নীতিমালা অনুযায়ী বাঁধে মাটি ফেলার ৬ ইঞ্চি পরপর কমপেকশন করার কথা। এছাড়াও কাজ শেষ হবার পর বাঁধের উপর ঘাস লাগানোর কথা বলা হয়েছে। কিন্তু এসব নিয়মনীতি বাঁধ নির্মাণের ক্ষেত্রে না মানার কারণেই পানি বৃদ্ধির সঙ্গে ঝুঁকি বেড়েছে।
তাহিরপুরের দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়নের পাটাবুকা গ্রামের বাসিন্দা মো. আলমগীর বললেন, আমাদের হাওরে অন্যান্য এলাকার মানুষ এসে পিআইসি করছে। আমাদের এলাকার মানুষকে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটিতে (পিআইসি) কাগজে কলমে রেখে কাজ করছে। এজন্য কিছু বাঁধের কাজ ঠিকমতো হয়নি। পিআইসির সভাপতি—সাধারণ সম্পাদক যারা স্থানীয় তাদের বাঁধের কাজ ঠিক মতো হয়েছে। বাইরের লোকের করা বাঁধগুলোর স্লোপ, দুরমুজ হয়নি। সময় মতো ঘাস লাগায় নি। মাটিয়ান হাওরের ১৮, ২০, ২১, ২২, ৪৩ ও ৪৪ নম্বর পিআইসিতে নামমাত্র কৃষক রেখে কাজ করেছে অন্য এলাকার প্রভাবশালী মানুষ। এতে এসব বাঁধে ঝুঁকি বেড়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কৃষক বলেন, বাঁধের পাশে আমাদের বাড়ি, কিন্তু আমরা পিআইসিতে থাকতে পারিনি। একজন প্রভাবশালী ব্যক্তি আমাদের এলাকার বাঁধের পিআইসি এনেছে। এখানে টাকা পয়সার মালিক অন্য আরেকজন, নামে একজন কৃষককে রেখেছে। পাঁচ থেকে দশ হাজার টাকার বিনিময়ে এসব কৃষকদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে তারা। আমাদের ৪৩ নম্বর পিআইসির সভাপতি নামে মাত্র আছেন, সম্পূর্ণ টাকা পয়সা থেকে শুরু করে কলকাটি নাড়েন আরেকজন।
এদিকে ধর্মপাশার ডুবাইলের বাঁধ এবং শাল্লার পুটিয়ার হাওর ও দিরাইয়ের চাপতির হাওরের বাঁধ ভেঙে কয়েক হাজার কৃষকের স্বপ্ন ডুবে গেছে। বাঁধ নির্মাণের অনিয়মের অভিযোগ এসব এলাকার কৃষকদের।
জেলা প্রশাসক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, পিআইসি গঠনে এবং বাঁধ নির্মাণ কাজে যদি কোন অনিয়ম থাকে, তাহলে আমি তদন্ত কমিটি গঠন করবো। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে যারা দোষি সাব্যস্ত হবেন এবং যারা কর্তব্য অবহেলায় অভিযুক্ত হবেন তাদের বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নেবো। সরকারি কর্মকর্তা হলে সরকারের কাছে ব্যবস্থা নেয়ার অনুরোধ করবো এবং পিআইসি হলে সরাসরি মামলা করা হবে। এছাড়াও জনপ্রতিনিধি দোষী সাব্যস্ত হলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য স্থানীয় সরকার বিভাগের কাছে সুপারিশ করা হবে।