ছাতক প্রতিনিধি
ছাতকের গোবিন্দগঞ্জে নিজ গ্রুপে কর্মী ভিড়ানোকে কেন্দ্র করে ছাত্রদলের বিবদমান দু’গ্রুপের সংঘর্ষে রবিবার সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়ক পরিণত হয়েছিল রণক্ষেত্রে।
প্রায় দু’ঘণ্টা ব্যাপি দফায়-দফায় সংঘর্ষে পুলিশ, ব্যবসায়ীসহ উভয় গ্রুপের অন্তত ২০ নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন। ভাংচুর করা হয়েছে একটি ফিলিং স্টেশন, একটি মার্কেট ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারসহ দু’টি দোকানকোটা। সংঘর্ষের সময় প্রতিপক্ষ গ্রুপের একটি মোটরসাইকেলেও অগ্নি সংযোগ করা হয়। এ সময় গোবিন্দগঞ্জ পয়েন্ট, কলেজ রোডসহ আশপাশ এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে আতংক। সংঘর্ষ চলাকালে সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কের উভয় পাশে যাত্রী ও মালবাহী গাড়ি আটকা পড়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি করে।
রবিবার দুপুরে বিএনপির কেন্দ্রিয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক, সাবেক এমপি কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন নেতৃত্বাধীন উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি মতিউর রহমান রুমান গ্রুপ ও বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান চৌধুরী নেতৃত্বাধীন উপজেলা ছাত্রদলের আহবায়ক গোলাম হোসেন শাকিল গ্রুপের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ছাত্রদলের রুমান গ্রুপ থেকে দু’জন কর্মী শাকিল গ্রুপ যোগ দেয়া নিয়ে ক’দিন ধরে উভয় গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। রবিবার দুপুরে মিজানুর রহমান চৌধুরী পুনরায় বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য নির্বাচিত হওয়ায় তাকে স্বাগত জানিয়ে উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম-আহবায়ক ফয়ছল আহমদ সুমনের নেতৃত্বে আল আমিন ফিলিং স্টেশনের সামনে থেকে স্বাগত মিছিল বের করার প্রস্তুতি নিলে পূর্ব বিরোধের জের ধরে ছাত্রদলের প্রতিপক্ষ গ্রুপ তাদের উপর হামলা চালায়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছাত্রদলের উভয় গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়। দফায়-দফায় সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনায় গোটা এলাকা পরিণত হয় রণক্ষেত্রে। সংঘর্ষ চলাকালে সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি করে। এক পর্যায়ে ছাত্রদলের রুমান গ্রুপ, বিএনপি নেতা রহুল আমিন মালিকানাধীন আল আমিন ফিলিং স্টেশনে হামলা চালিয়ে ভাংচুর করে। এসময় ফিলিং স্টেশনের সামনে থাকা একটি মোটরসাইকেলও অগ্নিসংযোগ করে ছাত্রদল নেতাকর্মীরা।
অপরদিকে ফয়ছল আহমদ সুমনের নেতৃত্বে ছাত্রদল কর্মীরা অবস্থান নিয়ে রুমানের মালিকানাধীন পরিজা মার্কেট ও ভিশন ডায়াগনস্টিক সেন্টারসহ দু’টি দোকান কোটা ভাংচুর করে।
খবর পেয়ে ছাতক থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। তবে বিলম্বে আসার কারণে জনতার তোপের মুখে পড়তে হয় পুলিশকে। অবশেষে স্থানীয় গণ্যমান্যদের সহায়তায় পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সংঘর্ষে পুলিশসহ অন্তত ২০ ব্যক্তি আহত হয়।
সংঘর্ষে ছাতক থানার এসআই তরিকুল ইসলাম, আল-আমিন ফিলিং ষ্টেশনের ক্যাশিয়ার বাসু দেব, সেলসম্যান সালেহ আহমদ, রাহুল আহমদ, শাহীন আহমদ, গোবিন্দগঞ্জ সিএনজি স্ট্যান্ডের সাধারণ সম্পাদক ইজ্জাদ আলী, ভিশন ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ম্যানেজার মানিক মিয়া, ছাত্রদলের সুমন মিয়া, রইছ উদ্দিন, মোজাম্মেল হক, আল আমিন, ফয়ছল আহমদসহ অন্যান্য আহতদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে আব্দুল মোমিন নামের এক ছাত্রদল নেতাকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি মতিউর রহমান রুমান জানান, বিএনপির নব গঠিত কমিটির সিলেট বিভাগের নেতৃবৃন্দকে স্বাগত জানিয়ে মিছিল বের করার প্রস্তুতি নিলে প্রতিপক্ষ গ্রুপ আল-আমিন ফিলিং ষ্টেশন থেকে তাদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুঁড়াকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়েছে। অপর গ্রুপের আহবায়ক গোলাম হোসেন শাকিল জানান, কোন উস্কানী ছাড়াই প্রতিপক্ষ গ্রুপ আল-আমিন ফিলিং স্টেশনে থাকা আমাদের কর্মীদের উপর হামলা করায় এ সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়।
ছাতক থানার ওসি আশেক সুজা মামুন জানান, পরিস্থিতি বর্তমানে শান্ত রয়েছে।


