ফুটপাতের দোকান ও যানজট আর্থ-সামাজিক অবস্থা থেকেই উদ্ভূত

দফুটপাতের দোকান যানজটের কারণ’ বিষয়টি হলো শাঁখের করাতের মতো। এদিকেও কাটে ওদিকেও কাটে। অস্বীকার করার উপায় নেই যে, ফুটপাতে কিংবা রাস্তার কিনারায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা দোকানগুলোর কারণে রাস্তার যান ও মানুষ চলাচল দারুণভাবে বাধাগ্রস্ত হয়, ক্ষেত্রবিশেষে যানজটও তৈরি হয়। আবার এসব দোকান সরিয়ে দিলে বহু সংখ্যক মানুষ যারা সামান্য মূলধন বিনিয়োগ করে কায়ক্লেশে জীবিকা নির্বাহ করে আসছিলেন তাদের জীবন দূর্বিষহ হয়ে উঠে। ধরুন, ফুটপাত কিংবা রাস্তার কিনারায় কোন দোকান নেই। এসব দোকান থেকে আমরা যারা সবজি, ফল, ডিম, পান-সুপারি, সস্তা কাপড়, সস্তা চা-নাস্তা এসব কিনতে অভ্যস্ত তাদেরকে যেতে হবে কোন বিপণি-বিতান অথবা বড় দোকানে। ফুটপাতের চাইতে এইসব জায়গায় একই জিনিসের মূল্য বেশি থাকে। আমাদেরকে তখন বেশি দাম দিয়ে জিনিসপত্র কিনতে হবে। সুতরাং ফুটপাত বা রাস্তার দোকান নিয়ে বহুমুখী সম্পর্ক ও সংকট রয়েছে বলেই দুনিয়ার কোথাও এসব দোকানকে একেবারে নির্মূল করা সম্ভব হয়নি। উন্নত রাষ্ট্রের বড় শহরেও ভাসমান বা অস্থায়ী দোকানের সদম্ভ উপস্থিতি রয়েছে। আর আমাদের দেশের খোদ রাজধানী থেকে শুরু করে সর্বত্র এই ভাসমান দোকানের অস্তিত্ব শক্তপোক্ত হয়ে আছে। সুতরাং পত্র-পত্রিকায় আমরা যতই মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে এসব দোকান উচ্ছেদের দাবি জানাই না কেন বাস্তবে আমাদের আর্থ-সামাজিক অবস্থার কারণে এর কোন সহজ সমাধান সম্ভব নয়। তবে সুষ্ঠু পরিকল্পনা আর সদিচ্ছা থাকলে সমস্যার ভয়াবহতা কমানো যেতে পারে। গতকাল দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরে বিষয়টির উপর যে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে তাতে দেখানো হয়েছে শহরের সর্বত্র ভাসমান দোকানের উপস্থিতি রয়েছে। কিছুদিন আগে প্রশাসনের পক্ষ থেকে পোস্ট অফিস ও সিএন্ডবির আবাসিক ভবনের লাগুয়া ফলের দোকানগুলো উচ্ছেদ করা হয়েছে। মাঝেমধ্যেই শহরের বিভিন্ন রাস্তার ভাসমান দোকান উচ্ছেদ করা হয়। কিন্তু এসব উদ্যোগের মাধ্যমে সমস্যাটির স্থায়ী সমাধান পাওয়া যাচ্ছে না। উচ্ছেদের কয়েকদিন পরেই দোকানগুলো স্বমহিমায় ফিরে আসে। তাই বলা যেতে পারে আমাদের দেশের মানুষের অর্থনৈতিক অবস্থা যতদিন পর্যন্ত একটি সন্তোষজনক পর্যায়ে উন্নীত না হচ্ছে ততদিন পর্যন্ত ভাসমান দোকানের ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ের স্বার্থ বজায় থাকবে এবং সঙ্গত কারণেই ততদিন পর্যন্ত বিভিন্ন উপায়ে এসব দোকানের অস্তিত্বও বিরাজমান থাকবে।
শহর রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে নিয়োজিত স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো এক্ষেত্রে কিছু সৃজনশীল উদ্যোগ গ্রহণ করতে পারেন। মূল রাস্তা যাতে দোকানীরা দখল না করে রাখেন সেজন্য যেসব রাস্তার কিনারে খালি জায়গা রয়েছে সেসব স্থানে শেড নির্মাণ করে দেয়া যেতে পারে। শেডের ভিতরে বসে দোকানীরা নামমাত্র ভাড়া কিংবা বিনা ভাড়ায় পণ্য বিক্রি করবেন। মনে রাখতে হবে বাইরে রোদে পুড়ে বা বৃষ্টিতে ভিজে যারা ব্যবসা করেন তারা কখনও উপযুক্ত ভাড়ার বিনিময়ে দোকানকোঠা নিয়ে ব্যবসা পরিচালনার সামর্থ রাখেন না।  মূল রাস্তা দোকানীদের দখলমুক্ত রাখতে সার্বক্ষণিক নজরদারি ব্যবস্থা চালু করতে হবে। এখন ঠেলাগাড়িতে করে সবজি, মাছ, ফলমূল প্রতিটি মহল্লায় বিক্রি করছেন এক শ্রেণির ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। এই ধরনের মোবাইল ব্যবসার যত প্রসার ঘটবে তত রাস্তার দোকানের বিলুপ্তি ঘটবে। ফলের দোকানীদের জন্য সদর থানার সামনে একটি মিনি মার্কেট করে দেয়া হয়েছিল। তাদের নাকি জায়গাটি পছন্দ হয়নি, তাই বন্দোবস্থ গ্রহীতা ফল ব্যবসায়ীরা অন্য ব্যবসায়ীর নিকট বন্দোবস্থীয় সত্ব বিক্রি করে দিয়েছেন। এই অবস্থা গ্রহণযোগ্য নয়। কেউ এরকম বন্দোবস্থ হস্তান্তর করতে পারেন বলে আমাদের জানা নেই।
বিদ্যমান আর্থ-সামাজিক অবস্থার মধ্যেই আমরা সমস্যাটির একটা গ্রহণযোগ্য সমাধান কামনা করি।