স্টাফ রিপোর্টার
শহরের ফুটপাতের রাস্তা স্থায়ী ব্যবসার স্থানে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে পথচারীদের চলাচলে সমস্যা হয় এ কারণে। শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে লেগে থাকে যানজট। এই যানজট নিরসনে ব্যবসায়ীদের দখলে থাকা ফুটপাতের রাস্তা উদ্ধারের দাবি পথচারীদের।
পৌর শহরের বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখা যায়, পুরাতন বাসস্টেশন এলাকায় জন চলাচল রাস্তায় পিঠার দোকান, তেলে ভাজার দোকান, ফলের দোকান, কামারখাল এলাকায় বৈদ্যুতিক সরঞ্জামের দোকান, স্থায়ী দোকানের মালামাল ফুটপাতে রাখা, পিঠার দোকান, কালীবাড়ি পয়েন্ট এলাকার ফুটপাতে ফলের দোকান, পিঠার দোকান, সবজির দোকান, সাইকেল রিকশার যন্ত্রপাতির দোকান, চেম্বার অব কমার্স অফিসের সামনে স্থায়ীভাবে চা-পানের দোকান, কালীবাড়ি রোড ও দোজা শপিং সেন্টারের সামনে মাছ, সবজি, তেলে ভাজা ও কলার দোকান, স্যানিটারী দোকানের সামনে পাইপ ও অন্যান্য মালামাল সংরক্ষণ করা, ট্রাফিক পয়েন্ট এলাকায় ফুটপাতসহ মেইন সড়কের উপর সবজির দোকান, ফলের দোকান, পানের দোকান, টাউন হল মার্কেটের সামনে এবং কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকায় ফুটপাতের রাস্তার উপর ছানা-বড়ার দোকান, পুরান কাপড় ক্রয়-বিক্রয়, ডিমের দোকান, পৌর মার্কেটের স্থায়ী জুতার দোকানের সামনে ড্রেনের উপর স্থায়ীভাবে মালামাল সংরক্ষণ, পাবলিক লাইব্রেরির সামনে ছানাবড়ার দোকান, ফলের দোকান, থানার সামনে ভাজা ভুট্টার অস্থায়ী দোকান, জেইল রোডের মুখে পানের দোকান বিস্কুটের দোকান, ফলের দোকান গড়ে উঠায় জন চলাচল রাস্তা প্রায় বন্ধ হয়ে আছে।
ফুটপাতের রাস্তা বন্ধ করে ব্যবসা করার কারণে মেইন সড়ক সংকীর্ণ হয়ে পড়েছে। এই সংকীর্ণ সড়কে যেখানে সেখানে যানবাহন পার্কিং এবং স্টপেজ হিসাবে যাত্রী উঠা নামায় যানজটের সৃষ্টি হয়ে আসছে। যানজট নিরসন ও পথচারীদের চলাচল নিরাপদ করতে শহরের প্রাণ কেন্দ্রের পুরাতন বাসস্টেশন এলাকা, কালীবাড়ি পয়েন্ট এলাকা, ট্রাফিক পয়েন্ট এলাকা, টাউন হল মার্কেট এলাকা, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকা, পৌরমার্কেট এলাকা, থানার সম্মুখ, জেইল রোডের মুখে ফুটপাতের দোকান উচ্ছেদের দাবি চলাচলকারীদের।
কালীবাড়ি পয়েন্টে লেগে থাকা যানজটে অতীষ্ঠ প্রবীণ ব্যক্তি সামাদ আলী বলেন, সুনামগঞ্জ চেম্বার অব কমার্সের সামনের ড্রেনে এবং রাস্তায় চা-পান সহ সকল প্রকার দোকান সাজিয়ে স্থায়ীভাবে ব্যবসা করছেন অনেকে। এইসব দোকানীদের কি পৌরসভা ইজারা দিয়েছে বুঝে উঠা দায়। ফুটপাতের ব্যবসায়ীদের কারণে যানজটে পড়ে জনগণের চরম ভোগান্তি হচ্ছে।
পথচারী আব্দুল ছুবহান বলেন, ট্রাফিক পয়েন্ট থেকে মুক্তারপাড়া পয়েন্ট হয়ে বাসস্টেশন যেতে হলে ফটুপাতে চলাচল করা যায় না। ড্রেনের উপর ও মেইন রোডে বাজার জমে উঠেছে। এটা পৌরসভা বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দেখে না। শহরে চলাচল নিরাপদ করতে ফুটপাতের দোকান উচ্ছেদের দাবি আমাদের।
অপর পথচারী আলী আজগর বলেন, যেখানে সেখানে যানবাহন পার্কিং, যাত্রী উঠানামার স্টপেজ হিসাবে ব্যবহারে জরিমানা চালু করলে রাস্তা পরিস্কার হবে। শহরে আসা জাকির হোসেন বলেন, পুরান বাসস্টেশন থেকে ট্রাফিক পয়েন্ট হয়ে মা ও শিশুকল্যাণ কেন্দ্র পর্যন্ত ফুটপাতের দোকান উচ্ছেদ করলে যানজট নিরসন হবে। চলাচলে পথচারীরা শান্তি পাবে এবং নিরাপদও হবে।
প্রবীণ ব্যক্তি সাজাউর রহমান বলেন, বয়স হয়েছে, শহরে আসলে চলাচলে ভয় হয়। বেপরোয়া গাড়ি চলে। স্থায়ী দোকানীরা ধীরে ধীরে ফুটপাত দখল করায় অস্থায়ীরাও এসে এভাবে দখল করে বসে ফুটপাত। যেমন রাস্তা দখলের প্রতিযোগিতা। এসব সমস্যা জরুরি উদ্যোগে নিরসন প্রয়োজন।
পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর চঞ্চল কুমার লৌহ বলেন, ফুটপাতে যাতে অস্থায়ী দোকানপাট না বসতে পারে, সে জন্য ড্রেনের উপর টাইলস স্থাপন করে দেয়া হবে। পৌরসভার পক্ষ থেকে মাঝে মাঝে অস্থায়ী দোকান উচ্ছেদ করা হয়। পরে আবার তারা স্বস্ব স্থানে দোকান সাজিয়ে ব্যবসা করেন।
- বিয়াম ল্যাবরেটরী স্কুল পরিদর্শনে সিলেট শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান
- সুনামগঞ্জে আ. লীগের ৭ বিদ্রোহী বহিষ্কার


