ছাতক প্রতিনিধি
ছাতকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকের একটি তুচ্ছ স্ট্যাটাস নিয়ে কালী মন্দির এবং এক মুক্তিযোদ্ধা পরিবারসহ ৪ নিরীহ পরিবারের উপর হামলার ঘটনায় সোমবার ২২ জনকে আসামী করে মামলা হয়েছে। সোমবার দুপুরে সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে হামলায় ক্ষতিগ্রস্তদের শান্তনা দেন।
এর আগে রোববার রাতেই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ গোলাম কবির, সুনামগঞ্জের সহকারী পুলিশ সুপার, ছাতক সার্কেল বিল্লাল হোসেন, ছাতক থানার ওসি মোস্তফা কামাল ও সাবেক পৌর চেয়ারম্যান আব্দুল ওয়াহিদ মজনু ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
তাঁতিকোনা গ্রামের বাসিন্দা মুক্তিযোদ্ধা স্বরাজ কুমার দাস, শিক্ষক প্রনব দাস মিটু ও গ্রামের নুপুর দাস জানান, আরিফ আহমদ ও তাপস দাসের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের মধ্যে গত কয়েকদিন ধরে তাদের মধ্যে মনমালিন্য চলে আসছিল। এর মধ্যে তাপস দাস তার ফেইসবুক আইডিতে ‘গরুর কাছে ঘাসের গল্প করতে হয়, ফুলের গল্প তার নিকট বেমানান’ এমন একটি স্ট্যাটাস গরুর ছবিসহ পোষ্ট করে তাপস। এই স্ট্যাটাস তাকে উদ্দেশ্য করে দেওয়া হয়েছে দাবী করে আরিফসহ ১৫-২০ জন যুবক দেশীয় অস্ত্র-সস্ত্র নিয়ে গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা স্বরাজ দাস, শিক্ষক প্রনব দাস মিটু ও মোবাইল ম্যাকানিক পবলু দাসের বাড়িতে হামলা চালায় এবং ব্যাপক ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। এতে এসব বসতঘরের ব্যাপক ক্ষতি হয়। হামলায় আহত হয় তাপস দাস, পবলু দাস, পিলু দাস, রাতুল চৌধুরী, শিমুল দাস, শিপরু দাসসহ ১০ জন।
আহতরা জানান, হামলাকারীরা গ্রামের কালী মন্দির লক্ষ্য করে ইট- পাটকেল নিক্ষেপ করায় মন্দিরের আসবাবপত্রের ক্ষতি হয়। হামলায় কয়েকজন নারীও লাঞ্চিত হয়েছেন।
এদিকে আরিফ আহমদের ভাই শরীফ আলম জানান, বাসাবাড়ি বা মন্দিরে হামলার কোন ঘটনা ঘটেনি। এটি কোন গোষ্ঠির বা সম্প্রদায়ের ঘটনা নয়।
এ ঘটনায় সোমবার তাঁতিকোনা এলাকার বাসিন্দা রবীন্দ্র দাসের পুত্র তাপস দাস বাদী হয়ে একই এলাকার সাহেদ আলী সরকারের পুত্র আরিফ আহমদকে প্রদান আসামী করে করে ২২ জনের বিরুদ্ধে ছাতক থানায় মামলা (নং-৯) দায়ের করেন।
ছাতক থানার ওসি মোস্তফা কামাল জানিয়েছেন, আসামীদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছে পুলিশ।


