বন্দোবস্তপ্রাপ্ত জমির দখল পাচ্ছেন না মুক্তিযোদ্ধা সাদাক আলী

শহীদ নূর আহমেদ
সাকাদ আলী সদর উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের ৯০ বছর বয়সি এক বৃদ্ধ। দীর্ঘদিন ধরে ভোগছেন বার্ধক্য জনিত রোগে । এক পা এখন মৃত্যুর দুয়ারে। এখন শুধু সরকারের দেয়া জমিতে ছেলে মেয়েদের রেখে চলে যেতে চান পরপারে। ২০১৬ সালের জুলাইয়ের শেষের দিকে সদর  উপজেলা ভূমি অফিসের মাধ্যমে চিরস্থায়ী বন্দোকস্তকৃত ১৫ শতাংশ  ভূমির সীমানা চিহ্নিত করে দেয়া হলেও প্রভাবশালী দখলদারের কারণে  ১১ মাসেও জমির সত্ব বুঝে পাননি এই মুক্তিযোদ্ধা। জমির সত্ব বুঝে পেতে ঘুরছেন প্রশাসন  ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের দুয়ারে দুয়ারে। কিন্তু জমির মালিকানা পাওয়া তো দূরের কথা একটু শান্তনাও মিলছে না তার। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে সরকারের দেয়া জমিতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করতে চান  ৭১ এর এই মুক্তিযোদ্ধা।
জানা যায়, বন্দোবস্ত পাওয়ার আবেদনের প্রেক্ষিতে মোহনপুর ইউনিয়নের দাড়ারগাঁও মৌজায় ১৩০৫,১৩০৭/৭    নং দাগে ১৫ শতাংশ জমি নামজারি ও জমাখারিজ মোকদ্দমা আদেশে খতিয়ান খোলে সাকাদ  আলী ও তার স্ত্রী নুরজাহানের নামে বন্দোবস্ত  দেন উপজেলা ভূমি অফিস। ২০১৬ সালে ২৫ শে জুলাই ভূমি অফিসের সার্ভেয়ারের মাধ্যমে ১৫ শতাংশ ভূমির সীমানা নিরার্ধারণ দেয়া হয়। এই জমির তিন শতাংশ জায়গার মুরগের ফার্ম রয়েছে এলাকার লতিব নামে একজন প্রভাবশালীর। ভূমি অফিস জমির সীমানা নির্ধারণ করে দিলেও লতিব নামে এই ব্যাক্তি  কোন নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে দখল ছাড়ছেন না এই জমির । উপরন্তু জমি নিয়ে নানা প্রশ্ন তুলা ও জমি বিক্রি করতে চাপ সৃষ্টি করছেন  সাকাদ আলীর পরিবারকে।
জমির মালিকানা পেতে  স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, উপজেলা প্রশাসন ও থানায় বার বার গিয়েও কোন সমাধান পান নি তিনি।
৯০ বছরের এই মুক্তিযোদ্ধা বলেন, যুদ্ধ কইরা দেশকে স্বাধীন করেছি আইজ ৪৬ বছর।  নিজের কোন জায়গা জমি নাই। সরকার আমারে কিছু জায়গা দান করছে । এই জায়গারও মালিক অইতে পাররামনা। ইউএনও অফিস, থানা, চেয়ারম্যান অফিস সব খানেই গেছি । কেউ আমার জায়গা দিতে পারে না। মরার আগে পুয়া ফুরুত্তারে জায়গায় রাইক্কা বুঝি যাইতাম পারতাম না।
মোহনপুর ইউনিয়নের ইউপি সদস্য সামছুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি অনেকদিন ধরে আমরা অবগত। স্থানীয়ভাবে অনেকবার চেষ্টা করেছি কিন্তু কাজ হয়নি। সাকাদ আলী যে জায়গা বন্দোবস্ত নিয়েছেন সেই জমির দখল ছাড়ছেন না লতিব মিয়া । এক ধরনের জোর জবর দখল করে জায়গা নিয়ন্ত্রণে রেখেছেন।
ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নুরুল হক বলেন, সাকাদ আলী বিষয়টি  আমি অবগত আছি। একবার চেষ্টা করেছি কিন্তু কোন সমাধান করতে পারিনি।  আমি একটু ব্যস্ত আছি । ঈদের পরে সাকাদ আলীর বিষয়টি সমাধান করার চেষ্টা করবো।
দখলদার লতিব মিয়া  দখলের বিষয় স্বীকার করে  বলেন, আমি অনেকদিন ধরে এই জায়গায় ব্যবসা করে আসছি। কিন্তু এতো খাস জমি থাকতে আমার এই জমি বন্দোবস্ত নিয়ে আসতে হবে কেন। আমার দখলে যে জমি আছে আমি টাকা দিতে চাই কিন্তু তারা জমি চায়। আমরা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নষ্ট করে জমি কি করে দিব।