বিশেষ প্রতিনিধি
বন্যায় সুনামগঞ্জের পাঁচটি উপজেলার যাতায়াত সড়কের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। কেবল স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ ও সড়ক ও জনপথ বিভাগের প্রায় দেড়শ কোটি টাকার সড়কের ক্ষতি হয়েছে। একটি সেতু ও সড়কের দুটি অংশ ভেঙে সুনামগঞ্জ— দোয়ারা ও ছাতকের সরাসরি সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। এছাড়া প্রায় ২৭২ কিলোমিটার সড়ক ভেঙেছে। কোথাওবা খানাখন্দ হয়ে চলাচল অনুপযোগি হয়ে গেছে।
পাহাড়ি ঢল ও ভারি বর্ষণে সুনামগঞ্জ—দোয়ারা—ছাতকের দোহালি ইউনিয়নের রামনগরের পাশের সেতু দেখতে দেখতে ঢলের ে¯্রাতে গেল ১৭ মে সকালে ভেসে যায়। ১৫ থেকে ১৯ মে এর মধ্যে এই সড়কের কাঞ্চনপুরের পাশের দুটি অংশ এবং রাজনপুর গ্রামের পাশের অংশ ভেঙে যায়। যোগাযোগ ভোগান্তিতে পড়েন কাঞ্চনপুর, রাজনপুর, চণ্ডিপুর, ইধনপুর, প্রতাপপুর, বাজিতপুর, কাটাখালিসহ সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার মান্নারগাঁও ও দোহালী ইউনিয়নের প্রায় ৫০ হাজার মানুষ। সুনামগঞ্জ— দোয়ারা—ছাতকের সরাসরি যান চলাচলও বন্ধ হয়ে আছে। এছাড়া স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) আওতাধীন প্রায় ২৭২ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক সেতুর সংযোগস্থল ধসে বা ভেসে যাওয়ায় সেতু অকার্যকর এবং সড়কে যান চলাচলও বন্ধ হয়ে গেছে।
দোয়ারাবাজারের দোহালি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বশির উদ্দিন বললেন, ঢলের পানি এসে যখন সড়কের একপাশের হাওর অনেক উঁচু হয়ে যায়, ওই সময় কয়েকজন এসে বললেন, রামপুর সেতুর পাশে সড়কে ফাটল দেখা দিছে, কিছুক্ষণের মধ্যেই ওখানে পেঁৗছাই, ওখানে যাওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই চাইতে চাইতে সেতু ভাসিয়ে নিয়ে গেছে।
দোহালির নাজিম উদ্দিন বললেন, দুটি ছোট্ট শিশু রামপুর সেতুতে খেলা করছিল, ওদেরকে চিৎকার দিয়ে আরেকজন বলেন দৌঁড়ে নামার জন্য, ওরা নামার মিনিট খানেকের মধ্যেই ঢলের পানির সঙ্গে সেতু ভেসে যায়। পাশের গভীর অংশে ডুবে যায় সেতু।
সেতুর পাশের প্রতাপপুরের বাসিন্দা সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক অ্যাড. আব্দুল আজাদ রুমান বললেন, সেতু নির্মাণ না হওয়া পর্যন্ত দোয়ারাবাজারের লাখো মানুষের ভোগান্তি হবে। সুনামগঞ্জ— ছাতকের সরাসরি যান চলাচলও বন্ধ থাকবে।
গুরুত্বপূর্ণ এই সড়ক ছাড়াও গোবিন্দগঞ্জ—ছাতক, সুনামগঞ্জ—কাছিরগাতি—বিশ^ম্ভরপুর, সুনামগঞ্জ—জামালগঞ্জ ও নিয়ামতপুর—তাহিরপুর সড়কে পানি ওঠায় পঞ্চাশ থেকে ৬০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে সড়ক ও জনপথ বিভাগের সুনামগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী আশরাফুল ইসলাম প্রাং দাবি করেছেন।
শহরতলির বাদেরটেকের বাসিন্দা মো. জাহাঙ্গীর আলম বললেন, চালবন্দ আসতে চার অংশে সড়কের বেহাল দশা। সড়কে চলাচলে দুর্বিষহ অবস্থা। অনেক কষ্ট করে চলাচল করছি।
একই গ্রামের মোহাম্মদ আলী বললেন, বাদেরটেক বাজার থেকে সোনাপুর পর্যন্ত সড়ক ভেসে গেছে।
চালবন্দের বাসিন্দা হাছান আলী বললেন, সড়ক দিয়ে গাড়ি চলা দূরে থাক, পায়ে হেঁটেই চলাচল করা যায় না।
গৌরারং ইউনিয়নের অচিন্তপুর গ্রামের বাসিন্দা নিহাররঞ্জন বললেন, আমাদের সড়কে কোমরপানি ছিলো। এখন পানি কমলেও সড়ক দিয়ে হাঁটা যায় না। কয়েকদিকে ভেঙে গেছে।
লালপুরের বাসিন্দা নুরুল আমিন বললেন, আগের দুর্বল সড়ক বন্যার ঢলে ভেঙে গেছে। মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীরা আসতে পারছে না। গবাদিপশু, মানুষ কোনো কিছুই সড়ক পথে চলাচল করতে পারছে না।
বিশ্বম্ভরপুরের ফতেপুর গ্রামের বাসিন্দা টিটু দাস বলেন, তাহিরপুর—নিয়ামতপুর সড়কটি এমনিতেই ভাঙাচোরা। বন্যায় সড়কটির বিভিন্ন স্থানে ধসে গেছে। পানি কমলে এই সড়ক দিয়ে চলাচল কঠিন হয়ে যবে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর সুনামগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাহবুব আলম বললেন, ভারি বৃষ্টিপাত ও উজানের ঢলে সুনামগঞ্জের গ্রামীণ সড়কের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বিভিন্ন উপজেলা থেকে আসা প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী প্রায় দুইশ’ বাহাত্তর কিলোমিটার সড়কের ক্ষতি হয়েছে। তিনটি ব্রিজ কালভার্ট বিধ্বস্ত হয়েছে। একটি রাবার ড্যামের ক্ষতি হয়েছে। এখন পর্যন্ত ৮০ থেকে ৯০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। পানি কমে যাচ্ছে। পানি নেমে যাওয়ার পরে ক্ষতির প্রকৃত হিসাব বলা যাবে।
- জয়শ্রী ইউপি আ.লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত
- বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতা গোল্ডকাপ, উদ্বোধনী ম্যাচে জয়ী দিরাই


