বন্যা পরিস্থিতির অবনতি, দুর্ভোগ বেড়েছে মানুষের

স্টাফ রিপোর্টার
সুনামগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। রোববার দুপুর ১২ টায় সুরমা নদীর সুনামগঞ্জ পয়েন্টে বিপদ সীমার ৬৩ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে এবং ভারতের মেঘালয় থেকে নেমে আসা যাদুকাটার পানি বিপদ সীমার ১০০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। নদীর পানি বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় জনপদে ঢুকছে পানি। সুনামগঞ্জ পৌর এলাকার বেশিরভাগ এলাকা বন্যা কবলিত হয়েছে। উঁচু এলাকায় হাটু সমান পানি। নিচু এলাকার ঘরবাড়িতে কোমর থেকে গলা সমান পানি। জেলার দক্ষিণ সুনামগঞ্জ ছাড়া অন্য সকল উপজেলার যোগাযোগ সড়ক বিচ্ছিন্ন হয়ে আছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় সুনামগঞ্জে বৃষ্টি হয়েছে ২১৩ মিলিমিটার। এর চেয়েও অনেক বেশি বৃষ্টি হয়েছে উজানের মেঘালয় ও চেরাপুঞ্জিতে। ভারী বর্ষণ ও উজানের পানিতে জেলাজুড়ে বন্যা দেখা দিয়েছে। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন সীমান্ত উপজেলা সুনামগঞ্জ সদর, ছাতক, দোয়ারা, তাহিরপুর ও বিশ^ম্ভরপুর উপজেলাবাসী। পাহাড়ীঢলে গ্রামের পর গ্রাম ডুবে যাচ্ছে, পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন লাখ লাখ মানুষ। জেলা প্রশাসন থেকে ৪৪ হাজার মানুষ পানিবন্দি রয়েছেন জানানো হলেও বেসরকারি হিসাবে এই সংখ্যা অনেক বেশি। দুর্ভোগে পড়া মানুষজন জ¦ালানী ও খাদ্য সংকটে পড়েছেন।
সুনামগঞ্জ শহরের নবীনগর এলাকার বাসিন্দা শেলী রানী দাস বলেন, ‘কোথাও গলা, কোথাও কোমর সমান পানি ডিঙিয়ে বাজারের দিকে রওয়ানা দিয়েছি, ঘরে চাল নেই, গ্যাসের চুলাও ডুবে গেছে। চুলা মেরামত করার মানুষ খুঁজে পাচিছ না। লাকুরিও পাচ্ছি না। কী যে করি, কোথায় যাই। সকালে বাচ্চাদের ব্রেড দিয়েছিলাম। দুপুরে, রাতে কি খাওয়াবো জানি না।’
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ বন্যাদুর্গতদের সরকারি নানা সহায়তা দেওয়া শুরু হয়েছে জানিয়ে বলেন, পানিবন্দি মানুষজনকে আশ্রয়কেন্দ্রে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জেলার ১১ উপজেলা কমপ্লেক্স ভবনকে আশ্রয় কেন্দ্র করা হয়েছে। বন্যা কবলিত এলাকায় ৪১০ মেট্রিকটন চাল এবং নগদ ২৯ লাখ ৭০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ৪ হাজার ৭৫২ টি পরিবারের জন্য শিশু খাদ্য দেওয়া হয়েছে উপজেলায় উপজেলায়। এলাকায় এলাকায় মাইকিং করে সাধারণ মানুষকে বন্যা আক্রান্তদের আশ্রয় কেন্দ্রে যেতে বলা হচ্ছে।