বস্তা প্রতি এক, দেড়শ টাকা বেশি মূল্যে সার বিক্রয়

বিশেষ প্রতিনিধি
শাল্লার আনন্দপুরের কৃষক নিতেশ দাশ ৫ কেজি ইউরিয়া সার দুদিন আগে কিনেছেন ২৫ টাকা কেজিতে। অর্থাৎ ৫০ কেজির বস্তা পড়ছে ১২৫০ টাকায়।
একই উপজেলার প্রতাপপুরের কৃষক হাদিছ মিয়া তিন দিন আগে ৫০ কেজির ইউরিয়া সার কিনেছেন ৯০০ টাকা বস্তা এবং ৫০ কেজির টিএসপি সার কিনেছেন ১২০০ টাকা বস্তায়।
অথচ. সরকার ৫০ কেজির ইউরিয়া সারের খুচরা মূল্য ৮০০ টাকা এবং টিএসপির ৫০ কেজির বস্তা ১২০০ টাকা নির্ধারণ করে দিয়েছেন।
উচ্চমূল্যে সার কেবল শাল্লা উপজেলায় নয়। জেলার প্রত্যন্ত এলাকার বেশিরভাগ ডিলারই উচ্চমূল্যে সার বিক্রয় করছেন। সার বিক্রয় করার সময় কৃষককে সাবধান করে দেওয়া হচ্ছে, কাউকে বললে আর কোনদিন তাকে সার দেওয়া হবে না, আরও নানাভাবে শাসিয়েও দেওয়া হচ্ছে প্রান্তিক কৃষকদের। এ কারণে বেশিরভাগ কৃষকই এই বিষয়ে মুখ খুলতে চান না।
বৃহস্পতিবার দুপুর পৌঁনে ১২ টায় হাওরের একেবারে ভাটি এলাকা শাল্লা উপজেলার ভেড়াডহর বাজারের সার ডিলার রঞ্জিত বৈষ্ণবের কাছ থেকে চার বস্তা সার গড়ে ৮০০ টাকা করে কিনেছেন একই এলাকার গণেশ বৈষ্ণব। ৭৫০ টাকার এমওপি সার তিনি ৮০০ টাকায় কিনেছেন।
ডিলারের ফোনে ফোন দিয়ে কথা বলার সময় প্রথমে গণেশ বৈষ্ণব ৭৫০ টাকার বস্তা ৮০০ টাকায় কিনেছেন বললেও পরক্ষণেই বললেন ৫০ টাকা লেবার খরচ নিয়েছেন তারা, আমার কাছ থেকে সারের মূল্য ঠিকই রাখা হয়েছে।
শাল্লার প্রতাপপুরের ডিলার বাবলু রায় অবশ্য বলেছেন, তার কাছে ইউরিয়া সার ছাড়া আর কোন সার আপাতত নেই। তিনি ৫০ কেজির ইউরিয়া সার ৮০০ টাকা করেই বিক্রি করছেন।
ভেড়াডহরের সারের ডিলার রঞ্জিত বৈষ্ণব বললেন, তিনি সরকারের নির্ধারিত দামেই সার বিক্রয় করছেন, ১০-২০ টাকা বেশি নেওয়া হলে সেটি লেবাররা পৌঁছে দেবার জন্য নিচ্ছে।
শাল্লা উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি এলাকার বড় কৃষক আব্দুস সাত্তার বললেন, সার পাওয়া যাচ্ছে না, সরকার দাম বাড়িয়ে দিয়েছে, এসব কথা বলে বস্তা প্রতি ১০০ থেকে ১৫০ টাকা বেশি দাম নিচ্ছে ডিলাররা। তিনি জানালেন, শাল্লার বড় ডিলাদের সকলেই নদীরপাড়ের বাজারগুলোতে ব্যবসা করছে, পরিবহন খরচও এসব এলাকায় কম, প্রত্যন্ত এলাকা পরিবহন খরচ বেশি এসব কথা বলারও এখানে সুযোগ নেই। তিনি সার বিক্রয়ে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানান।
ধর্মপাশার বাদশাগঞ্জের বাসিন্দা কৃষক সংগ্রাম সমিতির কেন্দ্রীয় নেতা খায়রুল বাশার ঠাকুর খান বললেন, ধর্মপাশার সকল ডিলাররাই সরকার সারের দাম বাড়িয়েছে উল্লেখ করে বেশি দামে সার বিক্রয় করছে। কারো কাছেই সরকার নির্ধারিত মূল্যে সার পাওয়া যাচ্ছে না। তারা নিজেরা সিন্ডিকেট করে সারের দাম বাড়িয়েছে।
সুনামগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপপরিচালক ফরিদুল হাসান জানালেন, বোরো মৌসুম শুরু হয়েছে। হাওরজুড়ে এখন সারের চাহিদা আছে। ডিসেম্বর থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত ইউরিয়া সারের চাহিদা রয়েছে ৩৪ হাজার ৬৮১ টন, বরাদ্দের অনুমোদন হয়েছে ২২ হাজার ৯৩৬ টন, ডিএপি সারের চাহিদা রয়েছে ১০ হাজার ৩১৩ টন, বরাদ্দের অনুমোদন হয়েছে নয় হাজার ১৪৫ টন, এমওপি’র চাহিদা ১৬ হাজার ৯৮৪ টন, অনুমোদন পাওয়া গেছে ৩৭৫০ টনের, টিএসপি’র চাহিদা ছয় হাজার ৬১০ টন, বরাদ্দের অনুমোদন হয়েছে চার হাজার ৭৬ টনের। জেলায় ৮৮ জন সারের ডিলার রয়েছেন জানিয়ে তিনি বলেন, সরকারের নির্ধারণ করা ইউরিয়া সার ৫০ কেজির বস্তা ৮০০ টাকা, ডিএপি ৮০০ টাকা, এমওপি ৭৫০ টাকা এবং টিএসপি ১১০০ টাকা। এই দামের বেশি কেউ সার বিক্রয় করলে তাকে আইনের আওতায় এনে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।