স্টাফ রিপোর্টার
হাওরের বোরো ফসল রক্ষায় বাঁধ নির্মাণে অনিয়ম-দুর্নীতি বন্ধ ও দ্রুত সব হাওরে বাঁধের কাজ শেষ করার দাবিতে বৃহস্পতিবার দুপুরে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে। শহরের আলফাত স্কয়ারে সকাল ১১টায় এই মানববন্ধনের আয়োজন করেন টিআইবির সুনামগঞ্জ সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক)। এতে বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার লোকজন অংশ নেন।
মানববন্ধনে জানানো হয়, সুনামগঞ্জবাসী এই বোরো ফসলের ওপরই নির্ভরশীল। জেলার প্রধান ফসল বোরো। এ বছর জেলার ৪২টি হাওরের ফসল রক্ষায় ৫৮ কোটি টাকা ৭০ লাখ টাকার বাঁধের কাজ হচ্ছে। জেলায় বোরো ফসলের আবাদ হয়েছে ২ লাখ ২০হাজার ৮৫০ হেক্টর জমিতে। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে বাঁধের কাজ শেষ না হওয়া, বাঁধের কাজে পানি উন্নয়ন বোর্ড, ঠিকাদার ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সদস্যদের অনিয়ম-গাফিলতি থাকায় ফসল নিয়ে সুনামগঞ্জের মানুষ উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। গত ২৮ ফ্রেব্রুয়ারি সব হাওরে বাঁধের কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও
এখনো অনেক বাঁধে কাজ শুরু হয়নি। তড়িঘড়ি করে যেনতেনভাবে কাজ হচ্ছে। ঠিকাদারদের কাজে অনিয়ম হচ্ছে বেশি।
বক্তারা বলেন, প্রতি বছর বাঁধের কাজ নিয়ে অনিয়ম-দুর্নীতি আর লুটপাট হয়। এর কারণে গত বছরও অকাল বন্যা ও পাহাড়ি ঢলে হাওরে ফসলহানি হয়েছে। এবার মার্চের প্রথম থেকে বৃষ্টি শুরু হওয়ায় কৃষকেরা জমির ধান নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েছেন। বাঁধের কাজ শেষ না হওয়ার তাঁদের চিন্তা আরও বেড়েছে। তাই হাওরের ফসল রক্ষায় প্রয়োজনীয় উদ্যোগ ও বাঁধ নির্মাণে অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রধানমন্ত্রী ও কৃষিমন্ত্রীর কাছে দাবি জানান তাঁরা।
বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে আরও বলেন,‘প্রতি বছর হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণে কোটি কোটি টাকা বরাদ্দ হয়, বাঁধ নির্মাণ কাজের নামে পাউবো ও ঠিকাদার বরাদ্দ লুটপাট করে। দুর্নীতিবাজ পাউবো কৃষক ও সাধারণ মানুষের দৃষ্টি অন্যদিকে রাখতে কম বরাদ্দে পিআইসিদের ঝুঁকিপুর্ণ কাজ দেন। অন্যদিকে ঠিকাদারকে দিয়ে কম ঝুঁকিপুর্ণ বাঁধে অধিক বরাদ্দের কাজ করান। পিআইসি দিয়ে ১০ কোটি ৭৭ লাখ টাকার কাজ করানো হলেও ঠিকাদার দিয়ে ৪৮ কোটি টাকার কাজ করানো হচ্ছে। যাতে প্রকল্পের বরাদ্দ লুটপাট করা যায় সেজন্য পাউবোর দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাগণ সিন্ডিকেট তৈরি করেছেন। ’
মানববন্ধন চলাকালে বক্তব্য দেন টিআইবির সুনামগঞ্জ সচেতন নাগরিক কমিটির সভাপতি মো. গোলাম কিবরিয়া, সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) জেলা কমিটির সভাপতি হোসেন তওফিক চৌধুরী, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি সৈয়দ শায়েখ আহমদ, সাধারণ সম্পাদক মো. আবদুল হক, সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ পরিমল কান্তি দে, জেলা কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি চিত্তরঞ্জন তালুকদার, সনাক সদস্য ধূর্জটি কুমার বসু, সঞ্চিতা চৌধুরী ও কানিজ সুলতানা, জেলা খেলাঘর আসরের সভাপতি বিজন সেন রায়, সাংবাদিক বিন্দু তালুকদার, প্রথম আলো বন্ধুসভার সভাপতি মো. রাজু আহমেদ প্রমুখ।
উল্লেখ্য, পানি উন্নয়ন বোর্ড সুনামগঞ্জের বৃহৎ ৩৭টি হাওরসহ মোট ৪২টি হাওরে ১০ কোটি ৭৭ লাখ ব্যয়ে ২২৫টি পিআইসি (প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি) ও ৪৮কোটি টাকা ব্যয়ে ৭৬টি প্যাকেজে ঠিকাদার দিয়ে বোরো ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণ করছে। পিআইসির কাজ ২৮ ফেব্রুয়ারি ও ঠিকাদারের কাজ ৩১ মার্চের মধ্যে ষে হওয়ার কথা থাকলেও পিআইসির কাজ শেষ হয়নি ও ঠিকাদারের কাজ শুরু হয়নি।


