স্বয়ং জেলা প্রশাসক যখন বলেন বাঁধ নির্মাণ নিয়ে তিনি পাউবোর কোন ধরনের উদ্বিগ্নতা দেখতে পান না কিংবা জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে একজন সংসদ সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন রতন যখন বলেন, অধিকাংশ হাওরে এখনও বাঁধের কাজ শুরু হয় নি; তখন মূলত ফসল রক্ষা বাঁধের বেহাল অবস্থা সম্পর্কে অন্য কিছু বলার অবকাশ থাকে না। তদুপরি জেলা সদরের এক অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্য পীর ফজলুর রহমান মিসবাহ বাঁধ নির্মাণে দুর্নীতি বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন। এই বক্তব্য থেকে যে সত্যটি সামনে চলে আসে সেটি হলো বাঁধ নির্মাণে দুর্নীতি হয়। দেখা যাচ্ছে শুধু হাওরপাড়ের ভূক্তভোগী কৃষকরা নয়, ফসল রক্ষা বাঁধের সীমাহীন অনিয়ম দুর্নীতি বিষয়ে নীতি নির্ধারক মহলও মুখ খোলা শুরু করেছেন। শুরু করবেন না কেন। এই বাঁধের সাথে যে জেলার লক্ষ লক্ষ কৃষক পরিবারের সারা বছরের জীবিকার প্রশ্ন জড়িত। এই বাঁধ নির্মাণে দুর্নীতির কারণে হাওর তলিয়ে জেলার একমাত্র প্রধান ফসল বোরো ধান তোলা সম্ভব না হলে জেলাজুরে নেমে আসবে হাহাকার। সুতরাং এমন জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে নীতিনির্ধারকরাই তো সবার আগে কথা বলবেন। আমরা ধন্যবাদ জানাই তাঁদের। কথাগুলো যাদের উদ্দেশ্যে বলা সেই ঠিকাদার, পিআইসি ও পাউবো যদি এখন সচেতন হন তাহলেই স্বার্থকতা পাবে এই উদ্বিগ্নতা। না হলে সবই হবে অরণ্যে রোদন।
যেকোন বিষয়ে ব্যাপক আলাপ-আলোচনা চালু থাকলে সেটি সমধিক গুরুত্ব অর্জন করে। বাঁধের কাজটিকে এমন গুরুত্বপূর্ণ করে তুলতেই আমাদের এই নিরবিচ্ছিন্ন প্রয়াস। গত বারও এমন আলোচনা-সমালোচনার ঝড় উঠেছিলো কিন্তু কাজের কাজ কিছু হয়নি। ফসল তলিয়েছে। এবার আবার গণমাধ্যম ও কৃষক সমাজ এবং বিভিন্ন স্তরের সচেতন ব্যক্তিরা সরব হয়েছেন। এবারও যদি কাজ না হয় তাহলে ক্ষোভ বিক্ষোভে পরিণত হবে। অথচ সরকারি কোষাগারের টাকা ঠিকই বেরিয়ে গিয়ে মহল বিশেষের ব্যাংকের তহবিল স্ফীত করবে। এই যে সরকারি টাকায় সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভকে আমন্ত্রণ করা হচ্ছে এর বিরুদ্ধে সরকারকে কঠোর অবস্থানে আসতে হবে। ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণে অনিয়ম-দুর্নীতি-অবহেলাকে কঠোর শাস্তির আওতায় আনতে প্রয়োজনে নতুন আইন প্রণয়ন করতে হবে।
গতকাল আরেকটি গুরুতর খবর সকলকে পীড়া দিয়েছে। তাহিরপুরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বাঁধের বিষয়ে আলোচনার জন্য ঠিকাদারদের উপস্থিত হতে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। কিন্তু ঠিকাদাররা একযোগে ওই বৈঠক বর্জন করেছেন। সরকারি কাজ করার জন্য চুক্তিবদ্ধ ঠিকাদাররা সরকারি নির্দেশনাকে অমান্য করেন কেমন করে সেটি আমাদের বোধগম্য হয় না। তাহলে কি এমপি মোয়াজ্জেম হোসেন রতন জাতীয় সংসদে যেমনটি বলেছেন, ‘কারণ ঠিকাদারদের নাকি অনেক শক্তি। তাদের হাত অনেক লম্বা’ কথাটিই সত্যি ? এমন শক্তিধর ও লম্বা হাতের অধিকারীদের সরকারের শক্তির চাইতে বড় হতে দিলে আখেরে কী হতে পারে তাহিরপুরে বৈঠক বর্জনের ধৃষ্টতা দেখিয়ে তারা সেটি প্রমাণ করলেন।
সর্বাঙ্গে ব্যথা অষুধ দিব কোথা এর মতো বাঁধের কাজের যেখানেই দৃষ্টিপাত করা হবে সেখানেই অনিয়মের পাহাড়। গতকালই প্রকাশিত আরেক সংবাদ থেকে জানা যায়, জামালগঞ্জের একটি বাঁধে ঠিকাদার বাঁধের একেবারে কিনারা থেকে মাটি তুলে ফেলছেন। নিয়ম মোতাবেক অন্তত ৩২ ফুট দূর থেকে মাটি তোলার কথা। এই নিয়মের ব্যত্যয় ঘটিয়ে কিনারা থেকে মাটি তুলে ঠিকাদার নিজের খরচ ঠিকই সাশ্রয় করছেন কিন্তু এতে যে মূল বাঁধটিই দুর্বল হচ্ছে সেটি বিবেচনা করছেন না।
বাঁধের সকল কাজে আমরা অতীত এবং বর্তমানের অনিয়ম-দুর্নীতি কাটিয়ে উঠতে চাই।
- বড় অংকের বিনিয়োগ করবে কাতার: বাণিজ্যমন্ত্রী
- খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ৫০ লাখ উপকারভোগীর তালিকা ওয়েবসাইটে

