বিশেষ প্রতিনিধি
হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধের প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি) গঠন এবারও বিলম্বিত হচ্ছে। গত আট ডিসেম্বর জেলা হাওররক্ষা বাঁধ বাস্তবায়ন ও মনিটরিং কমিটির সভায় ১৯৩ টি বাঁধের কাজের অনুমোদন হলেও মঙ্গলবার পর্যন্ত ১২ উপজেলায় পিআইসি গঠন হয়েছে মাত্র ৬৬ টি। এ কারণে বাঁধের কাজও দ্রুত শুরু হচ্ছে না।
নীতিমালা অনুযায়ী ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে হাওরের প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি গঠন করে বাঁধের কাজ শুরু হবার কথা। বাঁধ নির্মাণের জন্য প্রত্যেক প্রকল্পের জন্য সাত সদস্যের প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি) গঠন করতে হয়। কমিটিতে সংশ্লিষ্ট হাওরের সুবিধাভোগী তিন কৃষক, একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা, সংশ্লিষ্ট এলাকার প্রাথমিক অথবা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বা অন্য কোন শিক্ষক, স্থানীয় ইউপি সদস্য এবং একজন গণ্যমান্য ব্যক্তি সদস্য করার নির্দেশনা রয়েছে। কমিটির দুই জনকে সভাপতি ও সদস্য সচিব নির্বাচন করার দায়িত্বও সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পালন করবেন।
গেল বছর সুনামগঞ্জের ১২ উপজেলার ৪৮ টি হাওর এবং অন্যান্য ছয়টি অঞ্চলের জন্য ৭২৭ টি বাঁধ নির্মাণ করা হয়। এজন্য পিআইসি গঠন হয় ৭২৭ টি। এসব পিআইসি গঠন নিয়ে নানা কথা ওঠেছিল। পিআইসি গঠন নিয়ে অর্থ লেনদেনের অভিযোগও ছিল কোন কোন এলাকায়। সংশ্লিষ্ট এলাকার কৃষককে যুক্ত না করে অন্য এলাকার কৃষককে দিয়ে বাঁধের কাজ করানোসহ অপেক্ষাকৃত দুর্বল কৃষককে কমিটিতে রেখে নেপথ্যে প্রভাবশালীদের বাঁধ ব্যবসা করার অভিযোগ ছিল হাওরজুড়েই। এসব অভিযোগ সবচেয়ে বেশি ছিল ধর্মপাশা উপজেলায়। এবারও শুরুতেই কোন কোন এলাকায় নানা কথা ওঠেছে।
হাওর বাঁচাও আন্দোলনের শাল্লা উপজেলার সভাপতি তরুণ কান্তি দাস বললেন, বিগত বছরগুলোতে পিআইসি গঠনে অর্থ লেনদেনের কথাও ওঠেছিল। বরাবরেই মতোই পিআইসি গঠনে লুকোচুরি আছে এবারও। এ কারণেই হয়তো পিআইসি বিলম্বিত হচ্ছে।
শাল্লা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু তালেব অবশ্য বলেছেন, প্রথম দফায় অনুমোদন হওয়া ২৪ বাঁধের কাজের ১১ টি’র পিআইসি গঠন করে বাঁধের কাজ শুরু হয়েছে। অন্য ১৩ টি প্রকল্পের পিআইসি গঠনের কাজ চলছে। পিআইসি গঠন নিয়ে এই উপজেলায় কোন সমস্যা বা অভিযোগ কেউ করে নি বলে জানান তিনি।
জামালগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিশ^জিত রায় জানালেন, প্রথম দফায় অনুমোদন হওয়া ১৩ প্রকল্পের একটির পিআইসি গঠন হয়েছে। তিন চার দিনের মধ্যে আরও কিছু প্রকল্প অনুমোদনের পর একসঙ্গে সকল পিআইসি প্রকাশ করা হবে।
বিশ^ম্ভরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাদিউর রহিম জাদিদ জানালেন, অনুমোদন হওয়া ২১ প্রকল্পের পিআইসিই বুধবার প্রকাশ করবেন তিনি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রথম দফায় অনুমোদন হওয়া ১৯৩ টি বাঁধের কাজের মধ্যে সুনামগঞ্জ সদর, জগন্নাথপুর ও শান্তিগঞ্জে শতভাগ প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি গঠন হয়েছে। সুনামগঞ্জ সদরে ১৮ প্রকল্পের জন্য ১৮ টি, শান্তিগঞ্জে ১১ প্রকল্পের জন্য ১১ টি এবং জগন্নাথপুরে পাঁচ প্রকল্পের জন্য পাঁচটি পিআইসি গঠন হয়েছে। অন্য সবগুলো উপজেলায়ই মঙ্গলবার পর্যন্ত পিআইসি গঠন প্রক্রিয়া সন্তোষজনক নয়।
বুধবার সকাল পর্যন্ত তাহিরপুরে ১৫ প্রকল্পের মধ্যে একটি, ধর্মপাশায় ১৫ প্রকল্পের মধ্যে একটি, জামালগঞ্জে ১৩ প্রকল্পের মধ্যে একটি, মধ্যনগরে তিন প্রকল্পের মধ্যে একটি, বিশ^ম্ভরপুরে ২১ প্রকল্পের মধ্যে একটি, দিরাইয়ে ২৫ প্রকল্পের মধ্যে ১৫ টি, শাল্লায় ২৪ প্রকল্পের মধ্যে ১১ টি, দোয়ারায় ২৬ প্রকল্পের মধ্যে একটি এবং ছাতকে ১৭ প্রকল্পের মধ্যে কোন পিআইসি গঠন হয় নি।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার বললেন, পিআইসি গঠনের কাজ করেন উপজেলা হাওররক্ষা বাঁধ বাস্তবায়ন ও মনিটরিং কমিটি। তাদেরকে দ্রুত কমিটি গঠন করে বাঁধের কাজ করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
জেলা প্রশাসক, জেলা হাওররক্ষা বাঁধ বাস্তবায়ন ও মনিটরিং কমিটির সভাপতি দিদারে আলম মোহাম্মদ মাকসুদ চৌধুরী বললেন, ২২ ডিসেম্বর জেলা কমিটির সভা আছে। কেন পিআইসি গঠনে বিলম্বিত হচ্ছে, দায়িত্বশীলদের কাছে জবাব চাওয়া হবে।
- শহরে সিএনজি অটোরিকশা চুরি বেড়েছে/ রাত জেগে পাহাড়া দিচ্ছেন মালিক-চালকরা
- ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণির সরকারি পদ/ সমন্বিত নিয়োগ প্রক্রিয়া গ্রহণযোগ্য


