শহরে সিএনজি অটোরিকশা চুরি বেড়েছে/ রাত জেগে পাহাড়া দিচ্ছেন মালিক-চালকরা

সোহানুর রহমান সোহান
শহরে সিএনজি অটোরিকশা চুরির উপদ্রুপ বেড়েছে। চুরি বাড়ায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন সিএনজি অটো রিকশা মালিক-চালকরা। চুরির ঘটনা বেশি ঘটছে শহরের হাজীপাড়া, মোহাম্মদপুর, বড়পাড়া, তেঘরিয়া, কোর্ট পয়েন্ট এলাকায়।
দিনভর গাড়ী চালিয়ে ক্লান্ত মালিকদের অনেকেই রাত জেগে পাহাড়া দিতে হচ্ছে নিজের সিএনজি অটো রিকশা। শিকল দিয়ে তালা মেরেও চোরের কবল থেকে রক্ষা করতে পারছেন না পরিবারের সকলের মুখে অন্ন তুলে দেবার বাহনটিকে।
অসহায় দরিদ্র চালক যাদের গাড়ি রাখার গ্যারেজ নেই বাড়ীর সামনেই গাড়ি রাখতেন। গেলো কয়েকদিনের চুরির ঘটনার ভীত এসব চালকরা অন্যের গ্যারেজে নিয়ে গাড়ী রাখছেন। তাতেও ভয় কাটছে না।
বড়পাড়া এলাকার সিএনজি চালক মিজান মিয়া বললেন, ইদানিং গাড়ি বেশি চুরি হওয়ায় আতঙ্কে আছি। অন্যের গ্যারেজে নিয়ে গাড়ি রাখতে হচ্ছে। চোরের আতঙ্কে ঘুম হয় না। গাড়িটি কত কষ্ট করে করেছি। চুরি হলে সব শেষ।
শহরের সাত নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা গিয়াস উদ্দিন ভাড়ায় গাড়ি চালন। গত ১৫ ডিসেম্বর রাতে বাড়ীর সামনে তার সিএনজি রাখেন। ভোর ছয়টায় ওঠে দেখেন তালা ভেঙে গাড়িটি নিয়ে গেছে। এই গাড়ীই দরিদ্র পরিবারের বেঁচে থাকার মাধ্যম। উপার্জনের বাহন হারিয়ে মানবেতর দিন পাড় করছেন তিনি। ৫ দিন ধরে স্থানে স্থানে চুরি হওয়া গাড়িটির খুঁজে যাচ্ছেন তিনি।
এই গাড়ির মালিক মোস্তাদির আলী রাহাত বললেন, আমার দুইটা গাড়ি। এরমধ্যে একটি চুরি হয়েছে। শুধু আমার নয়, এই কয়েকদিনের ভেতর অন্তত ৭-৮ টি গাড়ি চুরি’র খবর আমি জানি। থানায় অভিযোগ করে গাড়ি উদ্ধারে পুলিশের সহযোগিতা চেয়েছি।
মোহাম্মদপুর পয়েন্টের সালাহউদ্দিন মাহবুবের গ্যারেজ থেকে দুটি ইজিবাইক চুরি হয়েছে গত ১৭ ডিসেম্বর। গ্যারেজের ভেতরে থাকা সিসি ক্যামেরা এড়াতে অভিনব পন্থায় চুরির কাজ সারে চোরেরা। চুরির পূর্বে ধোঁয়া দিয়ে অন্ধকার করে ভেতর। পরে দরজার তালা ভেঙে তাদের কাজ সম্পন্ন করে। এ কারণে সিসি ক্যামেরায় কোনো কিছুই ধরা পড়েনি।
সালাহউদ্দিন মাহবুব জানালেন, থানায় জি.ডি করতে গেলে পুলিশ জিডি নেয় নি। লিখিত আবেদন রেখে কোনো রিসিভ কপি বা জিডি নম্বার দেওয়া হয় নি।
শুধু এই ঘটনা নয়, গত একমাসে অন্তত ২০ টি গাড়ি চুরি হয়েছে বলে জানায় জেলা সিএনজি অটোরিকশা, মিশুক, ট্যাক্সিক্যাব শ্রমিক ইউনিয়ন।
জেলা সিএনজি চালিত অটোরিকশা, মিশুক, ট্যাক্সিক্যাব শ্রমিক ইউনিয়নের সহ সাধারণ সম্পাদক উত্তম ধর বললেন, কয়েকদিনে অন্তত ২০ টি গাড়ি চুরি হয়েছে। উদ্ধার হয়েছে মাত্র দুটি। উদ্ধারের পর চোরদের এলাকা চিহিৃত করেছি। ওয়েজখালি, জলিলপুর, ইকবালনগর এই এলাকায় ভালোভাবে পুলিশ অভিযান চালালেই চুরি নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে।
এ সংগঠনের সভাপতি ছুরত আলী বললেন, চুরি’র ঘটনায় মালিক-চালকরা আতঙ্কিত। চুরি ঠেকাতে পুলিশি তৎপরতা বাড়ানোর দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, অন্যতায় চুরি বাড়তেই থাকবে।
গাড়ি চুরির বিষয়ে কেউ কিছুই জানায়নি জানিয়ে, সুনামগঞ্জ সদর থানার ওসি ইখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী বললেন, অভিযোগ হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।