বিশেষ প্রতিনিধি
‘হাওরে নৌকা ঢুকিয়ে খোঁজাখুঁজি করার মত পানি-ই হয় নি, এজন্য ভালো করে খোঁজাও যাচ্ছে না।’ শাল্লায় ডুবন্ত সড়ক পায়ে হেঁটে পাড় হবার সময় ¯্রােতের কবলে পড়ে নিখোঁজ দুই শিশুর উদ্ধারের খবর জানার জন্য ফোন দিলে শাল্লার ওসি আমিনুল ইসলাম এ প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা বলার সময় এমন মন্তব্য করলেন।
ছায়ার হাওর উজানে দিরাইয়ের একটি অংশ থেকে শুরু হয়ে শাল্লা এবং কিশোরগঞ্জের ইটনা-মিঠামইন পর্যন্ত বিস্তৃত। গত কয়েক দিনের বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে জেলার নদ নদীর পানি বিপদসীমার কাছাকাছি আসলেও বিশাল ছায়ার হাওরসহ অনেক হাওরেই নৌকা চলছে না, আবার পায়েও হাঁটা যাচ্ছে না। এই অবস্থায় হাওরে পানি ঢুকার খাল এবং স্লুইসগেট খুলে দেবার দাবি জানিয়েছেন হাওরপাড়ের বাসিন্দারা।
শাল্লার প্রবীণ রাজনীতিক অবনী মোহন দাস জানালেন, ছায়ার হাওরে দুটি খাল খুলে দেওয়া হয়েছে। এর একটি মাউতির বাঁধ এবং অপরটি ইটনার কাছাকাছি। এই হাওরের আরও কিছু খালের মুখের বাঁধ কেটে দিতে হবে। এগুলো হচ্ছে উজানগাঁওয়ের খাল, মুক্তারপুর গ্রামের কাছের যুগা বাঁধ, কালিয়াজুরি’র মুরাদপুরের কুইকয়ার খাল। এগুলো না কাটলে হাওর পরিপূর্ণভাবে পানিতে ভরাট হবে না। এছাড়া দিরাইয়ের বরাম হাওরের পাঠাকাউরি খাল ও কালিয়াজুরি’র হাওয়ারবন্দ বাঁধ কেটে দেওয়া জরুরি।
শাল্লা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আলামিন চৌধুরী বললেন, ছায়ার হাওরের ১৪ টি পয়েন্টের বাঁধ কেটে দিলে স্বাভাবিকভাবে পানিতে পরিপূর্ণ হবে হাওর। দ্রুতই এগুলো দিয়ে পানি প্রবেশ করানো জরুরি।
জামালগঞ্জের ফেনারবাক ইউনিয়ন পরিষদের সচিব অজিত কুমার রায় বললেন, জামালগঞ্জের বড় হাওর পাগনায় এখনো নদীর পানি স্বাভাবিকভাবে ঢুকতে পারে নি। হাওরের গজারিয়া স্লুইসগেট পুরোপুরিভাবে খুলে দিতে হবে। জামালগঞ্জ সদর ইউনিয়নের মুচিবাড়ী খালের বাঁধ কেটে দিতে। বোগলাখালি এবং কাইলানি বাঁধও কেটে দেওয়া জরুরি। তিনি জানালেন, মঙ্গলবার পর্যন্ত বৃষ্টির পানি ছাড়া নদীর পানি কমই ঢুকেছে পাগনা হাওরে।
হাওরপাড়ের আলীপুর গ্রামের সাবেক ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য মো. আসাদ আলী জানালেন, বোগলাখালি ক্লোজার বুধবার কেটে দেওয়ায় পানি ঢুকছে পাগনায়। অন্যগুলোও কাটা জরুরি।
কেবল এই কয়েকটি হাওর নয়। জেলার ১৪২ টি হাওরেই বৃষ্টি ও পাহাড়ীঢলের পানি ঢুকানো জরুরি মনে করছেন স্থানীয় রাজনীতিবিদরা।
জেলা সিপিবির সভাপতি অ্যাড, এনাম আহমদ বললেন, হাওরে নতুন পানি বিশেষ করে নদী ও পাহাড়ি ঢলের পানি সময়মত ঢুকাতে হবে। না হলে প্রভাব পড়বে জীববৈচিত্রে এবং পরবর্তী বছরের ফসল ফলানোও বাধাগ্রস্ত হবে। বিষয়টি জরুরি মনে করে যেদিকে বাঁধ কেটে বা স্লুইসগেট খুলে দিয়ে পানি প্রবেশ করানো প্রয়োজন, সেটি করতে হবে। এছাড়া হাওরে পানি না ঢুকলে লোকালয় এবং যোগাযোগ সড়ক প্লাবিত হয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত হবে।
তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান করুণা সিন্ধু চৌধুরী বাবুল বললেন, উপজেলার শনি ও মাটিয়ান হাওরের প্রয়োজনীয় বাঁধ কেটে দেওয়ায় হাওরে পানি প্রবেশ করেছে।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার বললেন, পাগনার হাওরের বোগলাখালি ক্লোজার বুধবার কেটে দেওয়া হয়েছে। স্লুইসগেট গুলো ছেড়ে দেবার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্যান্য হাওরগুলোর বাঁধ যেখানে কেটে দেওয়া জরুরি, সকলের সঙ্গে কথা বলে যাচাই করে, সেগুলোও ছেড়ে দেবার ব্যবস্থা করা হবে।


