স্টাফ রিপোর্টার, তাহিরপুর
তাহিরপুরে সুইস ব্যাংকের টাকা এনে বিনা সুদে ঋণ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি, মোবাইল নম্বর ও টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগে ‘অহিংস গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশ’ নামে একটি সংস্থাকে পাঁচ হাজার জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। সেই সাথে অফিস সংগৃহীত ৫শত’ এনআইডি কার্ডের ফটোকপি জব্দ ও অফিস কার্যক্রম বন্ধ করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
বুধবার দুপুর ১২টায় তাহিরপুর বাজারস্থ এনজিও সংস্থাটির অফিসে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (চলতি দায়িত্বে) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আসাদুজ্জামান রনি।
জানা যায়, ‘অহিংস গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশ’ এনজিও সংস্থাটির তাহিরপুরের কার্যক্রম পরিচালনা করছেন মহর আলী নামে এক স্বাক্ষর জ্ঞানহীন লোক। মহর আলীর সাথে কথা বললে তিনি জানান, সুইস ব্যাংকে যে কালো টাকা পড়ে রয়েছে তা দেশে এনে বণ্টন করে দেওয়া হবে। এক লাখ থেকে শুরু করে এক কোটি পর্যন্ত সুদ মুক্ত ঋণ দেওয়া হবে। প্রতিমাসে এক হাজার টাকা করে কিস্তিতে সেই টাকা পরিশোধ করতে হবে। এজন্য আমরা লোকদের কাছ থেকে ভোটার আইডি কার্ড নিয়েছি। তবে তার কাছে এনজিও’র বৈধতার কাগজপত্র দেখতে চাইলে তিনি তা ইউএনও কে দেখাতে ব্যর্থ হন।
উপজেলার বালিজুরী ইউনিয়নের মাহতাবপুর গ্রামের জাকারিয়া আহমেদ বলেন, এক লাখ টাকার ঋণ দেওয়ার কথা বলে আমাদের গ্রাম থেকে এই এনজিও ৩শ’ এনআইডি কার্ডের ফটোকপি ও সাথে ফরম পূরণ বাবত ২০ টাকা নিয়েছে। আর যারা এনআইডি কার্ডের ফটোকপি দিতে পারছে না তাদের এনআইডি কার্ডের ফটোকপি বাবত আরও ২০টাকা নিয়েছে।
এ ব্যাপারে তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আসাদুজ্জামান রনি বলেন, সংস্থাটির বৈধতা না থাকায় গণ-উপদ্রব আইনে দ-বিধি ১৮৬০ এর ২৯১ ধারায় অভিযুক্ত করে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। সেই সাথে অফিস সংগৃহীত ৫শত’ এনআইডি কার্ডের ফটোকপি সহ কাগজপত্র জব্দ করা হয়েছে। এছাড়াও এ ধরনের কাজ না করার শর্তে অফিস কার্যক্রম বন্ধ করার নির্দেশ দেয়া হয়। জব্দকৃত এনআইডি ফটোকপি সহ কাগজপত্র পুড়িয়ে ফেলা হবে।


