বাঁধে বিপত্তি এলাকাবাসীর তবুও হচ্ছে বাঁধ!

বিশেষ প্রতিনিধি
সদর উপজেলার অক্ষয়নগর গ্রামের পাশ দিয়ে হওয়া বেরী বাঁধ নির্মাণে আপত্তি জানিয়েছেন গ্রামবাসী। তারা দাবী করেছেন ওখানে কোন বোরো জমি নেই। বোরো ফসল রক্ষায় বাঁধেরও প্রয়োজন নেই। বাঁধ হলে উল্টো এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হবে। সমস্যায় পড়বেন এলাকাবাসী। এলাকাবাসী জানিয়েছেন, বাঁধ ঠেকাতে তারা স্থানীয় সংসদ সদস্য, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীর নিকট আবেদন করেছেন। এরপরও বাঁধের কাজ বন্ধ হচ্ছে না, দিনে-রাতে চলছে এই অপ্রয়োজনীয় বাঁধের কাজ। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান অবশ্য বলেছেন, ওই এলাকায় স্কিমের বোরো জমি রয়েছে, ওখানে বাঁধ দেবার প্রয়োজন রয়েছে।
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার চলতি নদীর বামপাড়ে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় থাকার সময়ে একবার কাজ হয়েছিল, এরপর আর বাঁধের কাজ হয়নি।
এবার চলতি নদীর বাম তীরে বাঁধ নির্মার্ণের জন্য বরাদ্দ হয়েছে ৩ কোটি ২২ লাখ টাকা। ১৪ টি পিআইসি এই বাঁধের কাজ করছে। চলতি নদীর বাম পাড়ে বড় কোন হাওরও নেই।
বামপাড়ের অক্ষয়নগর গ্রামবাসী বৃহস্পতিবার স্থানীয় সংসদ সদস্য, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট লিখিত আবেদন করে জানিয়েছেন, চলতি নদীর বামতীরের অক্ষয়নগর গ্রামের আশপাশে কোন বোরো জমি নেই। গ্রামের আশপাশের জমিতে সবজী চাষাবাদ হয় এবং আমন ধান রোপন হয়। এই গ্রামের পাশে চলতি নদীর তীরে বাঁধ হলে এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দেবে, আমন ও সবজী ক্ষেতে বিপর্যয় দেখা দেবে।
অক্ষয়নগর গ্রামের মনির মিয়া জানান, অক্ষয় নগরের পাশে চলতি নদীর পাড়ে বাঁধের কোন প্রয়োজন নেই। আমন ধানের জমিতে বর্ষাকালীন সময়ে বাঁধ দেয়া হবে কেন। এই অংশে বাঁধ হলে কেউ গ্রামের আশপাশে ছোট্ট হাওরে আমন ধান ও সবজী চাষাবাদ করতে পারবে না। এখানে বাঁধ হলে কেবল পিআইসি’র (প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি) লাভ হবে।
গ্রামের আরেক তরুণ সাজ্জাদুর রহমান পলিন বলেন, আমন জমিতে কেন বোরো’র বাঁধ হবে। এলাকাবাসী এটি মানতে পারছে না। এলাকাবাসী বাঁধা দেওয়ার পর থেকে রাতেও বাঁধের কাজ হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানোর পরও কোন কাজ হয় নি।
গ্রামের বাসিন্দা জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান রিপন জানালেন, অক্ষয়নগর এলাকায় উজান থেকে পানি নামে। ২-৩ ঘণ্টার বেশি পানি থাকে না। কিন্তু বাঁধ হচ্ছে ভাটিতে, চলতি নদীর পাড়ে। উজানের পানি চলতি নদীতে নামতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবে এই বাঁধে। এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হবে। ব্যক্তি মালিকানাধীন জমির উপর দিয়ে বাঁধ হচ্ছে। পিআইসি গঠনের সময়ও এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলা হয় নি। কেন বাঁধ হবে, এরও কোন ব্যাখ্যা দেওয়া হয় নি।
স্থানীয় সুরমা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুস ছাত্তার বললেন, চলতি নদীর বামপাড়ে স্কীমের কিছু জমি আছে, এজন্য বাঁধের কাজ হচ্ছে। বাঁধ কোন দিক দিয়ে যাবে, এই নিয়ে মতবিরোধ ছিল দুই গ্রামবাসীর। উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান উদ্যোগ নিয়ে এর সমাধান করে দিয়েছেন।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী (বাঁধের কাজ দেখভালকারী কর্মকর্তা) আশরাফুল ইসলাম বলেন, শত্রুতাবশত অক্ষয়নগর গ্রামবাসী আবেদন করেছিলেন, দুই গ্রামের বয়োজ্যেষ্ঠদের উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান দায়িত্ব দিয়েছেন, এর সমাধান করার জন্য।
জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান রিপন বলেন, শত্রুতাবশত কেউ আবেদন করেনি। পুরো অক্ষয়নগর গ্রামবাসী এই বাঁধ নির্মাণে আপত্তি জানিয়েছেন।
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান খায়রুল হুদা চপল বলেন, পাহাড়ী ঢল নামলে চলতি নদীর পাড় উপচে জনবসতির ক্ষতি করে। মানুষ ঘরবাড়ীতে থাকতে পারেন না। এজন্য মূলত এই বাঁধ নির্মাণ করা হচ্ছে। ওখানে কিছু জমিও এই বাঁধ হলে রক্ষা হবে। বাঁধের বেশির ভাগ অংশের কাজ শেষ। সামান্য কিছু অংশের কাজ কোন দিক দিয়ে হবে এই নিয়ে সমস্যা ছিল। দুই গ্রামের বয়োজ্যেষ্ঠদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এর সমাধান করে দেবার জন্য।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সাবিবুর রহমান বলেন, অভিযোগ পাবার পর দুদিন আগে সরেজমিনে ওই বাঁধ এলাকায় কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়ে এসেছি। আমার সঙ্গে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাও ছিলেন। জেলা হাওর রক্ষা বাঁধ বাস্তবায়ন ও মনিটরিং কমিটির সভায় অনুমোদন না হওয়া পর্যন্ত ওখানে কাজ করা যাবে না। ওই বাঁধে এখন পর্যন্ত কোন টাকাও ছাড় হয় নি।