আমিনুল ইসলাম, তাহিরপুর
তাহিরপুরে পাহাড়ি ঢলের পানিতে আলমখালি বাঁধ ভেঙ্গে তলিয়ে গেছে মাটিয়ান হাওরের ৫ হাজার হেক্টর জমির ফসল। মঙ্গলবার ভোর রাতে এ বাঁধটি ভেঙ্গে যায়। বাঁধের পিআইসি দক্ষিণ বড়দল ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য সাইফুল ইসলাম। ভেঙ্গে যাওয়া বাঁধের প্রাক্কলন ব্যয় ১৫ লক্ষ টাকা।
সরজমিনে মঙ্গলবার সকালে আলমখালি বাঁেধ গিয়ে দেখা যায়, একাধিক কৃষক বাঁেধ দাঁড়িয়ে তাদের জমির ধান তলিয়ে যাওয়া দেখছেন অসহায়ভাবে। সে সময় কথা হয় গোলাঘাট গ্রামের কৃষক রবিউল আউয়াল এর সাথে। তিনি জানান, মাটিয়ান হাওরে তিনি ১০ কেয়ার জমি করেছিলেন ধার দেনা করে কিন্তু দুর্বল ফসল রক্ষা বাঁধের কারণে বাঁধ ভেঙ্গে মাটিয়ান হাওরে তার জমির ফসল পানিতে তলিয়ে যায়। শুধু রবিউল আওয়াল নয় মাটিয়ান হাওর
পাড়ের শত শত কৃষকের অভিযোগ হাওরের বেড়ী বাঁধ ও ক্লোজার বাঁধগুলো দুর্বল থাকার কারণে সামান্য পানিতেই আলমখালি বাঁধটি ভেঙ্গে মাটিয়ান হাওরটি তলিয়ে যায়।
এ নিয়ে উপজেলার ৯টি হাওরের ১০ হাজার হেক্টর বোর জমির কাঁচা ধান পানির নীচে তলিয়ে গেছে। অরক্ষিত শনির হাওরটি রক্ষা করার জন্য হাওরপাড়ের কৃষকগণ দিনরাত স্বেচ্ছাশ্রমে কাজ করে যাচ্ছেন। ডুবে যাওয়া হাওরগুলো হলো, মাটিয়ান, মহালিয়া, বলদা, গনিয়াকুড়ি, সন্যাসী, মিথ্যারডুবা, লোবা, গুলাঘাট ও গুরমা বর্ধিতাংশের ছনার হাওর।
মাটিয়ান হাওর উন্নয়ন কমিটির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম বলেন,‘অনেক চেষ্টা করেছি কিন্তু আলমখালীর বাঁধ ভেঙ্গে মঙ্গলবার ভোর রাতে হাওরটি ডুবে গেছে।’
মাটিয়ান হাওরপাড় বড়দল দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আজহার আলী জানান, পাহাড়ী ঢলের পানিতে মাটিয়ান হাওরের আলমখালি বাঁধ ভেঙ্গে হাওরের ৫ হাজার হেক্টর বোর জমির ধান পানির নীচে তলিয়ে যায়।
তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, মঙ্গলবার ভোর রাতে মাটিয়ান হাওরের আলমখালী বাঁধ ভেঙ্গে হাওরটি তলিয়ে গেছে। উপজেলার সর্ববৃহৎ শনির হাওরটি রক্ষার জন্য হাওর পাড়ের মানুষ বিভিন্ন বাঁধে স্বেচ্ছাশ্রমে কাজ করে যাচ্ছেন।
তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কামরুল ইসলাম কামরুল জানান, তিনি হাওরপারের লোকজন নিয়ে হাওর রক্ষায় শনির হাওরে কাজ করছেন।


