আকরাম উদ্দিন
সুনামগঞ্জে ফলের দাম বেড়েছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, করোনার সক্রমণ বাড়ায় ফলের ক্রেতা বেড়েছে, কিন্তু লকডাউনের কারণে যানবাহনের ভাড়া বেশি দিতে হচ্ছে। সময়মত বিক্রি করতে না পারায় পঁচন ধরছে ফলে। এতে ফলের দামও বৃদ্ধি পেয়েছে।
রবিবার শহর ঘুরে দেখা গেছে, মাল্টা প্রতি কেজি ১৭০ টাকা থেকে ১৮০ টাকা বিক্রি হচ্ছে, লকডাউনের আগে মাল্টার দাম ছিল অনেক কম। আঙ্গুর ৪০০ টাকা, আগে ছিল ২৫০ টাকা প্রতি কেজি। আপেল ১৮০ টাকা, আগে ছিল সর্বনি¤œ ১৩০ টাকা কেজি। আম ৫০ টাকা থেকে এখন ১২০ টাকা কেজি মূল্যে বিক্রি হচ্ছে। চায়না কমলা ১৪০ টাকা ছিল, এখন ২০০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। ডালিম ২৫০ টাকা থেকে এখন ৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
একাধিক ফলের ব্যবসায়ী জানান, জেলার বাইরে থেকে যখন যানবাহন করে ফল নিয়ে আসতে হয়। তখন ভাড়া দ্বিগুণ দিতে হয়। বাজারে ফল নিয়ে আসলে লকডাউনের সময় দোকান খুলে, বেশি সময় ব্যবসা করা যায় না। জরিমানার ভয়ে কিছু সময় খোলা রেখে দোকান বন্ধ রাখতে হয় বেশিরভাগ সময়। এতে ফলে পঁচন ধরে। প্রতিদিন দোকান খুলে পঁচা ফল ফেলে দিতে হয়। এসব কারণে বেশি দামে ফল বিক্রি করেও লাভ করা যায় না।
বাজারে আসা একাধিক ক্রেতা বলেন, লকডাউনের আগে বাজারে ফলের দাম ছিল কম। এখন বাজারে ফলের দাম বেশি। এই করোনাকালীন সময়ে শারীরিকভাবে সুস্থ থাকতে ফল খেতে পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা। শাকসবজিও বেশি পরিমাণে খেতে বলা হয়। কিন্তু বাজারে সময়মত না আসলে ফল পাওয়া যায় না। শাকসবজিও পাওয়া যায় না। তাহলে মানুষ সুস্থ থাকবে কিভাবে।
নাম না ছাপার অনুরোধ জানিয়ে একজন ফলের ব্যবসায়ী জানান, ফলের দোকান সাজাতে অনেক সময় লাগে। ফল বিক্রি করার আগেই সরিয়ে নেওয়ার তাগিদ দেয় পুলিশ। নইলে জরিমানায় পড়তে হয়। এই কারণে আমাদের ব্যবসা হয় না। ফলের ব্যবসা এখন লোকসানে রয়েছে।
ফলের ক্রেতা আব্দুল ছুবহান বললেন, এখন ফল খাওয়ার মৌসুম। শহরের ফুটপাতে অসংখ্য ফলের দোকান বসতো। লকডাউনে সব দোকান উচ্ছেদ করা হয়েছে। কারোনা প্রতিরোধে ফলের গুরুত্ব আছে। কিন্তু ফলের দাম বেড়ে যাওয়ায় কম ফল কিনে নিতে হচ্ছে।
সৈয়দ হোসেন বলেন, ওষুধের দোকান যেভাবে খোলা থাকে, ঠিক এভাবে ফলের প্রকৃত ব্যবসায়ীদের দোকান খোলা থাকা একান্ত প্রয়োজন। কারণ মানুষ এই ভয়াবহ করোনাকালীন সময়ে সুস্থ থাকতে ফল খেতে পারবে।
সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক (আর.এম.ও) মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, করোনা আক্রান্ত রোগীদের অরুচি থাকায় খাবার খেতে পারে না। তাই খুবই দুর্বল হয়ে পড়ে। এই দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে বেশি করে ফরমালিনমুক্ত দেশীয় ফল খাওয়া জরুরী প্রয়োজন। শরীরে অন্য কোনো রোগ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শে খাবার খেতে হবে।
বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশন’এর (বিএমএ) জেলা শাখার সভাপতি ডা. আব্দুল হাকিম বলেন, করোনাকালীন সময়ে নিজেকে সুরক্ষা রাখতে প্রয়োজনীয় সকল বিষয় মেনে চলতে হবে। একই সাথে বেশি করে ফল খেতে হবে। আক্রান্ত রোগী, বয়স্ক ও শিশুরা বেশি করে ফল খাওয়া খুবই ভাল। মাল্টা, লেবুর রস, আপেল, আঙ্গুর সবই খাওয়া উচিৎ। তবে ডায়াবেটিস রোগীদের আম না খাওয়া ভাল।


