বাজারে বেড়েছে চালের দাম

স্টাফ রিপোর্টার
গত কয়েকদিনে ব্যবধানে বাজারে চালের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। জেলা শহরসহ উপজেলা শহরের অবস্থিত খোলা বাজারে চালের দাম বাড়তে দেখা গেছে। সেপ্টেম্বর মাসেই চালের এমন মূল্য বৃদ্ধি অস্বাভাবিক। অধিক মুনাফাকোর ও বাজারে ১০ টাকা কেজির চাল না থাকায় দাম বৃদ্ধির কারণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, আতব থেকে শুরু করে মিনিকেট চাল প্রতি কেজিতে ২ থেকে ৪ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। চালের এমন মূল্য বৃদ্ধিতে খুচরা ক্রেতারা বিপাকে পড়েছেন। আতব চিকন চাল ৪০ থেকে ৪২ টাকা, সিদ্ধ ২ রকমের চিকন চাল ৪২ থেকে ৪৫ ও ৫৫ থেকে ৫৭ টাকা বিক্রি হচ্ছে। নাজির চাল ৫২ থেকে ৫৬ টাকা প্রতি কেজি। এছাড়াও মিনিকেট চাল ৫০ টাকা কেজি।
ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সুনামগঞ্জ জেলায় ১ সপ্তাহ হয় চালের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে।
জানা যায়, করোনা ভাইরাসে টানা লকডাউনের পরে চালের বাজার কিছুটা অস্থিতিশীল হওয়ার আশায় মিলমালিকরা ধান মজুদ করেন। লকডাউনের শুরু থেকে তারা চাল সংগ্রহ করা শুরু করেন। সরকারি গোডাউনে ধান দিতে বিড়ম্বনার কারণে কৃষকরা দাম কিছুটা কম হলেও মিলমালিক, ফড়িয়া ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করেছেন। শহরের আরফীন নগরের বাসিন্দা ক্রেতা সাইফুর রহমান বলেন, মিলমালিকদের কাছে হাজার হাজার চাল মজুদ রয়েছে। তারা দাম বাড়লে বিক্রি করবে। কেনো চালের দাম বাড়বে না। বাজার মনিটরিং কমিটি এসব দেখেন না। তারা শুধু বাজারে সাধারণ খুচরা বিক্রেতাদের মনিটরিং করেন।
ধর্মপাশা উপজেলার সুখাইর রাজাপুর উত্তর ইউনিয়নের গোলকপুর গ্রামের বাসিন্দা ক্রেতা আফতাব উদ্দিন বলেন, মিলমালিকরা প্রতিবছর সরকারকে ধান দেয়ার কন্ট্রাক্ট আনে। এবার তারা সরকারকে যে পরিমাণ ধান দেয়ার কথা তা দেয়নি। কিছু দিয়ে বাকিসব স্টক করেছে। করোনার মহামারিতে সংকট তৈরি করে বেশি দামে বিক্রি করার জন্য। এরসঙ্গে খাদ্য বিভাগের কিছু কর্মকর্তা জড়িত রয়েছেন। নয়ত এমন ফন্দি আটতে পারতো না তারা।
খুচরা চাল ব্যবসায়ী বাবুল মিয়া বলেন, মিল থেকেই আমরা বেশি দামে চাল কিনছি। অনেক ধান বাইরের জেলায় চলে গেছে। বেসরকারিভাবে ধানের দাম এখন মণ প্রতি এক হাজার টাকার উপরে। ফলে চালের দাম বাড়বেই।
শুধাংশু এন্ড সন্স এর দোকানি সচীন পাল বলেন, চাল কিনতে মিলারদের কাছে গেলে বলেন চাল নেই। বাজারে ধানের দাম বেশি। কৃষকরা ধান বিক্রি করতে চায় না। এজন্য চালের দাম কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে।
হাওরের কৃষি ও কৃষক রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক চিত্তরঞ্জন তালুকদার বলেন, করোনা মহামারি মোকাবেলায় যেখানে সামাজিক সংহতি প্রয়োজন সেখানে পুঁজিতান্ত্রিক ব্যবস্থা মুনাফা খোঁজে। সমস্যা সংকট খোঁজে সে। ধান কেনার লক্ষ্যমাত্রা পূরণে ব্যর্থতা ও মুনাফাখোরদের ফন্দির কারণে চালের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে সুনামগঞ্জে। এর প্রধানতম কারণ হলো সরকারের ধান সংগ্রহ থেকে শুরু করে যাবতীয় প্রক্রিয়া ত্রæটিপূর্ণ ব্যবস্থা।
আমবাড়ির লোকনাথ অটোরাইস মিলের মালিক বকুল বাবু বলেন, চালের দাম বাড়ার কারণ এবছর সুনামগঞ্জ থেকে অনেক ধান বাইরের জেলায় গিয়েছে, কিন্তু বাইরের জেলা থেকে কোনো চাল আসেনি। সরকারের কাছ থেকে আমি ৭৪ টন চাল দেয়ার কন্ট্রাক্ট এনেছিলাম। লোকসান দিয়ে সরকারকে সম্পূর্ণ চাল দিয়েছি।
তিনি আরো বলেন, আমাদের মিলারদের কাছে কোনো ধান নেই। খুচরা ব্যবসায়ীরা সঠিক কথা বলছেন না। চালের সর্বোচ্চ বস্তাপ্রতি একশত টাকা বেড়েছে।
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইয়াসমিন নাহার রুমা বলেন, মুক্ত বাজার অর্থনীতিতে সারাবিশে^র সঙ্গে তাল মিলিয়ে পণ্যের দাম উঠা নামা করে। সেক্ষেত্রে চালের দাম কিছুটা বাড়বেই। বাজার মনিটরিং কমিটি রয়েছে, অতিরিক্ত চালের দাম বেড়েছে সে বিষয়ে কেউ অভিযোগ দিলে আমরা ব্যবস্থা নেবো।