তাহিরপুর সীমান্তে গারোদের মাঠ গারোদেরই থাকবে

স্টাফ রিপোর্টার, তাহিরপুর
তাহিরপুর সীমান্তের বড়গোপটিলা গারো মাঠ গারোদেরই থাকবে ঘোষণা দিলেন তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। শনিবার দুপুরে গারো মাঠে গিয়ে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান করুণা সিন্ধু চৌধুরী বাবুল ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পদ্মাসন সিংহ এ ঘোষণা দেন।
এর আগে স্থানীয় গণ্যমান্যদের নিয়ে বৈঠক করেন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন- ওসি তদন্ত মিজানুর রহমান, আওয়ামী লীগ নেতা সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান নিজাম উদ্দিন, স্থানীয় উত্তর বড়দল ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আবুল কাশেম, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান জামাল উদ্দিন, আওয়ামী লীগ নেতা আলমগীর খোকন, যুবলীগ নেতা মাসুক মিয়া, শঙ্খর মারাক, রমেশ জুয়েল সলোমার, যথীন্দ্র মারাক, পরিতোষ চাম্বুগং, সুনীল দাজেল প্রমুখ।
বৈঠক শেষে সকলের মতামতের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত পড়ে শোনান উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান করুণা সিন্ধু চৌধুরী বাবুল। তিনি জানান, মাঠ পরিচালনার জন্য ৯ সদস্যের কমিটি থাকবে। এরমধ্যে ৭ জন থাকবে গারো এবং ২ জন বসতি স্থাপনকারী বাঙালি। সপ্তাহের ৫ দিন মাঠে গারোরা খেলবে, ২ দিন অন্যরা। এরপর
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গারোদের মাঠ ফিরিয়ে দেবার ঘোষণা দেন।
উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও ইউএনও’র সিদ্ধান্তে গারোরা খুশি হন। সিদ্ধান্ত মেনে নেন অন্যরাও।
প্রসঙ্গত. ১৯৪৮ সনে জঙ্গল কেটে মাঠ প্রতিষ্ঠা করে খেলাধুলা, আদিবাসী দিবসসহ নানা কর্মসূচি পালন করে আসছিলেন কড়ইগড়া, চানপুর, রাজাইরসহ সীমান্তের কয়েকটি গ্রামের ক্ষুদ্র নৃতাত্বিক গোষ্ঠীর লোকজন। গত তিনমাস ধরে হঠাৎ করে মাঠ দখলের চেষ্টা চালায় বড়গোপটিলার কিছু যুবক। তারা গারো যুবকদের হুমকি ধমকিসহ সাম্প্রদায়িক কথাবার্তা বলে আসছিল। এ নিয়ে গত ১৩ সেপ্টেম্বর বড়গোপটিলা গারো মাঠে শালিস বসে। ওই বৈঠকেও গারোদের মাঠ প্রতিষ্ঠার অবদানের কথা স্বীকার করেন শালিসকারীরা। কিন্তু দখলকারীরা কারো কথাই মানতে নারাজ। শালিসে বিষয়টি নিষ্পত্তি না হওয়ায় জেলা প্রশাসকের নির্দেশে বৃহষ্পতিবার দুপুরে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পদ্মাসন সিংহ। ওই দিনও কোন নিস্পত্তি হয় নি।
মাঠ পরিচালনাকারী সুনীল দাজেল বলেন, আমরা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ গণম্যান্যদের সিদ্ধান্তে খুশি।