বাজারে সোয়াবিন তেল ও চিনির দাম চড়া

স্টাফ রিপোর্টার
সুনামগঞ্জের বাজারে সোয়াবিন তেল ও চিনির দাম বেড়েছে। এক সপ্তাহ ব্যবধানে সোয়াবিন তেলে ১০ থেকে ১২ টাকা ও চিনিতে ৫ টাকা করে দাম বেড়েছে। অনেক দোকানে সোয়াবিন তেল পাওয়া যাচ্ছে না। ঈদের বাজার করতে গিয়ে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন ক্রেতারা।
এক সপ্তাহ আগেও ফ্রেশ কোম্পানীর ৫ লিটার সোয়াবিন তেলের দাম ছিলো ৭৬০ টাকা। এখন বিক্রেতারা ১০ টাকা বাড়িয়ে বিক্রি করছেন ৭৭০ টাকা করে। এছাড়াও চিনি ৭৬ টাকা কেজি থেকে ৮০ টাকা ধরে বিক্রি হচ্ছে। এতে ঈদের বাজার করতে আসা ক্রেতারা ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।
খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, পাইকারি ব্যবসায়ীরা সোয়াবিন তেল ও চিনির দাম বাড়িয়েছেন। বাজারের চাহিদা মতো তেলও পাওয়া যাচ্ছে না। তাই কিছুটা বাড়তি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে তাদের।
শহরের উকিলপাড়া বাসিন্দা ক্রেতা মো. সেলিম আহমেদ বললেন, রমজানের ঈদে সোয়াবিন তেল ও চিনির চাহিদা বেড়ে যায়। আর ঈদকে সামনে রেখে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী এই দু’রকমের ভোগ্য পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেয়। এবার এটি আরও বেশি হচ্ছে।
খুচরা বিক্রেতা শহরের রুমা স্টোরের মালিক স্বপন বণিক বললেন, পামওয়েল সোয়াবিন তেল ১৪৫ টাকা লিটার দরে কিনতে হচ্ছে। আমরা দুই টাকা লাভ করে ১৪৭ টাকা ধরে বিক্রি করছি। এক সপ্তাহ আগেও ৫ লিটার সোয়াবিন তেল ৭৫০ টাকা ছিল। ৭৬০ টাকায় বিক্রি করা গেছে। এখন কিনতেই হচ্ছে ৭৬০ টাকায়। চিনি বস্তা ৩৭০০ টাকা ছিলো। এখন ৩৮৫০ টাকা ধরে কিনতে হচ্ছে। একারণে আমাদেরও কিছু বাড়তি দামে ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করতে হচ্ছে।
মেসার্স ইমন ট্রেডাসের মালিক তাপস পাল বললেন, পাইকারী আমদানীকারকরা বলছে তেলের সংকট। এজন্য আমরাও তেল চাহিদা মতো পাচ্ছি না। ৫ লিটার ফ্রেশ সোয়াবিন তেলের গায়ের মূল্য ৭৬০ টাকা। এতোদিন আমরা গায়ের মূল্য দেখেই বিক্রি করেছি। এখন আমাদের কিনতে হচ্ছে ৭৬০ টাকা করে।
পাইকারি বিক্রেতা অসীম রায়’এর দোকানের ম্যানেজার রঞ্জিত দাস বললেন, ১ লিটার সোয়াবিন তেল ১৫৬ টাকা ধরে খুঁচরা দোকানদারের কাছে বিক্রি করি। চিনি ৫০ কেজি’র বস্তা বিক্রি করছি ৩৮২০ টাকা বস্তা।
ফ্রেশ সোয়াবিন তেলের সুনামগঞ্জ শহরের ডিস্ট্রিবিউটর শফিক মিয়া বললেন, ফ্রেশ সোয়াবিন তেল গত ১ সপ্তাহ ধরে বাজারে নেই। সর্বশেষ ৫ লিটারের বোতল ৭৫০ টাকায় আমাদের কিনতে হয়েছে। বিক্রেতাদের কাছে ৭৫৫ থেকে ৭৬০ টাকা ধরে বিক্রি করছি।
টিকে গ্রুপের (পুষ্টি সোয়াবিন তেল) এসআর অপু মিয়া বললেন, সোয়াবিন তেলে লিটার প্রতি ১ টাকা বেড়েছে। ডিলারের কাছে প্রতি লিটার ১৫২ টাকা ধরে বিক্রি করছি। ডিলাররা দোকানীর কাছে বিক্রি করবে ১৫৬ টাকা ধরে। খুচরা বিক্রেতারা ক্রেতার কাছে ১৬০ টাকা ধরে বিক্রি করবে। তবে ৫ লিটারের সোয়াবিন তেলের বোতলের দাম বাড়েনি। আমরা ৫ লিটারের বোতল ৭২০ টাকা ধরে ডিলারের কাছে বিক্রি করছি।
জেলা প্রশাসক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বললেন, বাজার মনিটরিংয়ের জন্য বৃহস্পতিবারও মোবাইল টিম বের হয়েছিল। শনিবারও বিভিন্ন এলাকায় মনিটরিং টিম কাজ করবে। বিশেষ করে সোয়াবিন তেলের বিষয়টি গুরত্ব দিয়ে দেখা হবে।