বাল্য বিয়ে প্রতিরোধে সক্রিয়তা-এক মাসে ১৭ বাল্যবিয়ে বন্ধ

বিন্দু তালুকদার
কুড়ির আগে বুড়ি নয়, ১৮ এর আগে বিয়ে নয়। এবং ২১ বছরের আগে কোন যুবকের বিয়ে নয়। সরকারের এই শ্লোগানকে সামনে রেখে জেলায় বাল্য বিয়ে প্রতিরোধ ও জেলার সকল ইউনিয়ন এবং উপজেলাকে বাল্য বিয়েমুক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। বাল্য বিয়ে প্রতিরোধে জেলা প্রশাসক শেখ রফিকুল ইসলাম দায়িত্বশীল ভুমিকা পালন করছেন। জেলা প্রশাসকের নির্দেশে উপজেলা পর্যায়ে কাজ করছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসারগন।
উপজেলা নির্বাহী অফিসারগণ ইতোমধ্যে নিজ নিজ উপজেলায় বাল্য বিয়ে প্রতিরোধ ও জড়িতদের ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের শাস্তি প্রদান করছেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের তথ্য অনুযায়ী গত মাসে দক্ষিণ সুনামগঞ্জে ৯টি, দোয়ারাবাজার উপজেলায় ৫টি, জামালগঞ্জে ২টি ও ধর্মপাশা উপজেলায় ১ টি বাল্য বিয়ে বন্ধ করা হয়েছে।
উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয়ভাবে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত ১৫ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার দোয়ারাবাজার উপজেলার লক্ষীপুর ইউনিয়নের মাটগাঁও গ্রামের ৮ম শ্রেণির এক স্কুল শ্রেণীর ছাত্রীর বাল্য বিয়ে প্রতিরোধ করেছেন উপজেলা প্রশাসন। ১৬ সেপ্টেম্বর লিয়াকতগঞ্জ স্কুল ও কলেজের ৮ম শ্রেণীর এক স্কুলর ছাত্রীর সাথে একই গ্রামের রফিকুল ইসলামের পুত্র মাসুদ রানার বিয়ের দিন শুক্রবার ধার্য করা হয়। ১৫ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার বিয়ের প্রস্ততিকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম, লক্ষীপুর ইউপি চেয়ারম্যান ও দোয়ারাবাজার থানার সহযোগিতায় স্কুল পড়–য়া ছাত্রীর বিয়ে বন্ধ করেন।
বিয়ে বন্ধ করার দু’দিন পরই ১৮ সেপ্টেম্বর রবিবার দোয়ারাবাজার উপজেলায় লক্ষীপুর ইউনিয়নের লক্ষীপুর গ্রামের ৯ম শ্রেণীর স্কুল ছাত্রীর
 বাল্য বিয়ে প্রতিরোধ করেন লক্ষীপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আমিরুল হক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম। ক্যাপ্টেন হেলাল খসরু উচ্চ বিদ্যালয়ের এক স্কুল ছাত্রীর সাথে একই ইউনিয়নের নোয়াপাড়া গ্রামের মাইন উদ্দিনের ছেলে নুর মুহাম্মদের (১৭), সাথে রবিবার দুপুরে বিয়ের অনুষ্ঠান চলা অবস্থায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল ইসলামের নির্দেশে লক্ষীপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আমিরুল হক বিয়ে বাড়িতে উপস্থিত হয়ে বিয়ে  বন্ধ করে দেন। বিয়ে বাড়ি থেকে বর, কনে ও উভয়ের পিতাকে ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে দুই জনের বয়স না হওয়া পর্যন্ত বিয়ে না দিতে উভয় পক্ষের মুচলেকা রাখা হয়।
দোয়ারাবাজারের বিয়ে বন্ধ করার পরদিন ১৯ সেপ্টেম্বর সোমবার জামালগঞ্জে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা টিটন খীসার হস্তক্ষেপে বাল্যবিবাহ থেকে মুক্তি পায় উপজেলার কামিনীপুর গ্রামের ৬ষ্ঠ শ্রেণীর এক ছাত্রী। সোমবার বিকালে গোপন সংবাদ পেয়ে ইউপি সচিবসহ কয়েকজন ইউপি সদসকে বিয়ে বন্ধ করার আদেশ দেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে উভয় পক্ষের অভিভাবকসহ স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যদের উপস্থিতিতে প্রাপ্তবয়স্ত না হওয়ার আগ পর্যন্ত বিয়ে দিবে না এ মর্মে মুচলেকা দেন মেয়ের অভিভাবক। এদিকে জাল জন্ম সনদে প্রদান করার কারণে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার ভর্ৎর্সনার স্বীকার হন জামালগঞ্জ সদর ইউনিয়নের ইউপি সদস্য মনির হোসেন।
২১ সেপ্টেম্বর বুধবার দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার পূর্ব বীরগাঁও, পাথারিয়া ও দরগাপাশা ইউনিয়নে পৃথক তিনটি বাল্য বিবাহ পন্ড করে দেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইবাদত হোসেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান এবং স্থানীয় জনগণের হস্তক্ষেপে তিনটি বাল্য বিবাহ পন্ড করা হয়।
উপজেলার পূর্ব বীরগাঁও ইউনিয়নের বীরগাঁও পশ্চিম পাড়া গ্রামের কাসিন্দা ইমদাদুল হক উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রীর সাথে একই গ্রামের ওয়াজির উদ্দিনের ছেলে বাদশা মিয়া সাথে বিয়ের দিন ধার্য ছিল। এই বাল্য বিয়ের খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিদের্শক্রমে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মো. নুর কালাম গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গকে অবহিত করে বাল্য বিবাহ বন্ধ করেন। একই দিন উপজেলার দরগাপাশা ইউনিয়নের পাইকাপন গ্রামের গোলাম আলীর ছেলে সাবলু মিয়া (১৭) সাথে দিরাই উপজেলার নাছনা গ্রামের এক কিশোরীর (১৬) এর বিয়ের দিন ধার্য ছিল। বরের প্রাপ্ত বয়স না হওয়ায় দ. সুনামগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ইবাদত হোসেনের নির্দেশে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারমান মো. মনির উদ্দিন এই বাল্য বিয়ে বন্ধ করেন। অন্যদিকে একই উপজেলার পাথারিয়া ইউনিয়নের গণিনগর ষোলগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণীর ছাত্রী (১৪) সাথে একই এলাকার সাবেক মেম্বার মৃত আরজু মিয়া কাবুলীর ছেলে দবির মিয়া (২৩) সাথে বাল্য বিয়ের খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নির্দেশে পাথারিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. আমিনুর রশিদ আমিন তাৎক্ষণিক বিয়ে বন্ধ করেন। বিকেলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ইবাদত হোসেন মেয়ের বাড়িতে উপস্থিত হয়ে পূর্ণ বয়স না হওয়া পর্যন্ত বাল্য বিবাহ বন্ধ রাখার নির্দেশ প্রদান করেন।
ঘটনার একদিন পরই ২২ সেপ্টেম্বর রোজ বৃহস্পতিবার আরো দু’টি বাল্য বিয়ে পন্ড করে দেন দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার। একটি বিয়ে উপজেলার দৌলতপুর নোয়াপাড়া গ্রামে, অন্যটি শিবপুর গ্রামে বন্ধ করা হয়। উপজেলার দৌলতপুর নোয়াপাড়া গ্রামের এক যুবতীর সাথে ছাতক উপজেলার সুহিতপুর গ্রামে এক ছেলের বিয়ের দিন ধার্য ছিল। কিন্তু বর রিয়াজ রায়হান আহমদ মেয়ের ৬ বছরের ছোট হওয়ায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইবাদত হোসেন সেই বিয়ে পন্ড করে দেন।  ওই রব গোবিন্দগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণীর ছাত্র, যার বর্তমান বয়স ১৭ বছর। একইদিন বিকালে জয়কলস ইউনিয়নের শিবপুর গ্রামের এক কিশোরী (১৬) এর বিয়ের দিন শুক্রবার ধার্য্য করা ছিল। স্থানীয় লোকজন ও এফআইভিডিবির কিশোরী ক্লাবের সদস্যরা এই বিয়ের খবর জানতে পেরে ইউপি সদস্য ও ইউপি চেয়ারম্যান মো. মাসুদ মিয়ার উপস্থিতিতে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে ওই কিশোরীর পিতা মাতার লিখিত অঙ্গীকারের ভিত্তিতে বাল্য বিবাহ বন্ধ করা হয়। কিশোরীর পিতা মাতাকে মেয়ের বিয়ের পূর্ণ বয়স না হওয়া পর্যন্ত বিবাহ দেয়া থেকে বিরত থাকার জন্য নিদের্শ দেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার।
একই দিন বৃহস্পতিবার দোয়ারাবাজার উপজেলায় লক্ষীপুর ইউনিয়নের মাটগাঁও গ্রামের ৮ম এক স্কুল শ্রেণীর ছাত্রীর বাল্য বিয়ে প্রতিরোধ করে উপজেলা প্রশাসন। ২৩ সেপ্টেম্বর শুক্রবার লিয়াকতগঞ্জ স্কুল ও কলেজের ৮ম শ্রেণীর এক স্কুলর ছাত্রীর সাথে একই গ্রামের রফিকুল ইসলামের পুত্র মাসুদ রানার বিয়ের দিন ধার্য করা ছিল। বৃহস্পতিবার বিয়ের প্রস্ততিকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম, লক্ষীপুর ইউপি চেয়ারম্যান ও দোয়ারাবাজার থানার সহযোগিতায় স্কুল পড়–য়া ছাত্রীর বিয়ে বন্ধ করে দেয়া হয়।
দক্ষিণ সুনামগঞ্জ ও দোয়ারাবাজারের ঘটনার পরদিন ২৩ সেপ্টেম্বর শুক্রবার ধর্মপাশা উপজেলা পাইকুরাটি ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মো.ফেরদৌসুর রহমানের হস্তক্ষেপে নবম শ্রেণির এক স্কুল ছাত্রী বাল্য বিয়ে থেকে রক্ষা পায়। ওই ছাত্রীর সঙ্গে একই ইউনিয়নের পাশের গ্রামের এক যুবকের (২৫) শুক্রবার বাদ জুমা বিয়ে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। স্থানীয় সাংবাদিকদের মাধ্যমে ইউপি চেয়ারম্যান এ বাল্য বিয়ের খবরটি পেয়ে তিনি নিজে ওই ছাত্রীর বাড়িতে যান। তিনি ছাত্রীর মা ও স্বজনদের বাল্য বিবাহে রাষ্ট্রীয় আইনের স্বীকৃতি নেই এবং বাল্য বিয়ের কুফল সম্পর্কে তাদের বলেন। পরে ওই ছাত্রীর বিয়ে বন্ধ করে দেন।
২৭ সেপ্টেম্বর জামালগঞ্জে বাল্য বিয়ে দেয়ার অপরাধে ২ জনকে কারাদ- প্রদান করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলার ভীমখালী ইউনিয়নের চান্দেরনগর গ্রামে থেকে এক সন্তানের জনক পাশ^বর্তী ধর্মপাশা উপজেলার মধ্যনগর থানাধীন উত্তর বংশীকুন্ডা ইউনিয়নের ভান্ডা গ্রামের হাজী আবুল হোসেনের ছেলে মিজানুর রহমান (২০) ও চান্দেরনগর গ্রামের কিশোরী (১৩) হাজী আছির উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেণীর ছাত্রীকে বাল্য বিবাহ দেওয়ার প্রস্তুতিকালে বর ও মেয়ের দাদী জুলেখা বেগম (৬০) কে আটক করা হয়। পরে আটককৃতদেরকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কার্যলয়ে হাজির করা হলে ভ্রাম্যমাণ আদালত বর মিজানুর রহমানকে ৩ মাসের এবং জুলেখা বেগমকে ১ মাসের কারাদ- প্রদান করে। মেয়ের পিতার কাছ থেকে ১৮ বছর আগে বিয়ে দেয়া হবে না মর্মে অঙ্গীকার নামা রাখা হয়।
 গত ২৮ সেপ্টেম্বর রোজ বুধবার ধর্মপাশায় পঞ্চম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত এক স্কুল ছাত্রীর বাল্যবিয়ের আয়োজন করার দায়ে তার বাবা ও নানীকে দুই হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে তিন দিনের কারাদ- দেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। বুধবার রাতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ নাজমুল হক এ দ-াদেশ দেন। ওই স্কুল ছাত্রীর সঙ্গে বুধবার রাতে একই গ্রামের ১৯ বছর বয়সী এক তরুণের বিয়ে হওয়ার কথা ছিল। বিষয়টি খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে তিনি বিয়ে বাড়িতে যান এবং বাল্যবিয়ের আয়োজনের সত্যতা পান। পরে রাতেই ছাত্রীর বাবা মো. দুলাল মিয়া (৪৫) ও নানী ফসর বানু (৬৫) কে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে প্রত্যেককে এক হাজার টাকা করে দুই হাজার টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে তিন দিনের কারাদ- দেয়া হয়। এর আগে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাইজার মোহাম্মদ ফারাবী সদর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের বেশ কয়েকটি বাল্য বিয়ে বন্ধ করেন এবং জড়তিদেরকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদ- প্রদান করেন।
এ বিষয়ে জামালগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার টিটন খীসা বলেন,‘ বাল্য বিয়ে একটি সামাজিক অপরাধ,বাল্য বিয়ে প্রতিরোধ করতে আমরা নানা ধরনের উদ্যোগ নিয়েছি। ইউনিয়ন পরিষদের সকল জনপ্রতিনিধি, কাজী ও পুরোহিতদের সচেতন করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে উপজেলার সকল ইউনিয়নকে বাল্য বিয়েমুক্ত ঘোষণার পর জেলা প্রশাসক মহোদয়ের মাধ্যমে উপজেলাকে বাল্য বিয়ে মুক্ত ঘোষণা করেছি। বাল্য বিয়ে প্রতিরোধের ক্ষেত্রে কোন ধরনের ছাড় নেই। যেখানেই বাল্য বিবাহ সেখানেই প্রতিরোধ করা হচ্ছে। বাল্য বিয়ের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে একাধিক জনকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে দ-াদেশ প্রদান করা হয়েছে।’
দোয়ারাবাজার উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাইফুল ইসলাম বলেন,‘ বাল্য বিয়ে প্রতিরোধ আমরা গত দেড় বছর ধরেই কাজ করছি। একাধিক বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা আমাদের সাথে কাজ করছে। গেল মাসে আমরা ৫টি বাল্য বিয়ে ও গত দেড় বছরে অন্তত ৪০ টির বেশী বাল্য বিয়ে বন্ধ করেছি। বাল্য বিয়ে প্রতিরোধ করতে আমরা ইউপি চেয়ারম্যান, সদস্য, পুরোহিত ও কাজীদের প্রশিক্ষণ দিয়েছি। সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে প্রচারণার অংশ হিসাবে এলাকায় ১০ হাজার পোস্টার, ৫ হাজার স্টিকার ও ২০ হাজার লিফলেট বিলি করেছি। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গিয়ে সচেতনতামূলত সভা করেছি। সাধারণ মানুষ ও অভিভাবকরা এখন আগের চেয়ে অনেক সচেতন হয়েছেন। সাধারণ মানুষও বাল্য বিয়ে প্রতিরোধে এগিয়ে আসছেন।’
দক্ষিণ সুনামগঞ্জের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইবাদত হোসেন,‘ গত এক মাসে আমরা ৯টি বাল্য বিয়ে প্রতিরোধ করেছি। কোথাও বাল্য বিয়ের খবর পাওয়া মাত্রই আমরা সেখানে অভিযান পরিচালনা করি। সাধারণ মানুষ এখন আগের চেয়ে অনেক সচেতন হয়েছেন। ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ে বাল্য বিয়ে প্রতিরোধ কমিটি কাজ করছেন। সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে উপজেলা প্রশাসন প্রাঙ্গণে ১০ হাজার মানুষের সমাবেশ করে উপজেলাকে বাল্য বিয়েমুক্ত উপজেলা ঘোষণা করা হয়েছে।