বাস্তুভিটাহীন শহীদ আরশ আলীর পরিবার

ইয়াকুব শাহরিয়ার, দ.সুনামগঞ্জ
একাত্তরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আহ্বানে ঘর ছেড়েছিলেন অসংখ্য মুক্তিকামী বাঙালি। বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দেশকে লাল সবুজের একটি পতাকা এনে দিয়েছেন ৩০ লাখ মানুষ। তাঁদেরই একজন দক্ষিণ সুনামগঞ্জের মহাসিং এর শাখা নদী নাইন্দার কুল ঘেঁষে থাকা আস্তমা গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ আরশ আলী।
বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে অস্ত্র হাতে তুলে নিয়েছিলেন আস্তমা গ্রামের শহীদ আরশ আলী। ১৯৭১ সালের সেপ্টেম্বর মাসের ১৫ তারিখ শহিদ আরশ আলী সম্মুখ সমরে ছিলেন দিরাই থানাধীন বাবনীয়া গ্রামের আখড়া সংলগ্ন মাঠে। বিকাল আনুমানিক ৫টা। পাকিস্তানী বাহিনীর গুলি তাঁর বুকে এসে বিঁধে। তবুও থেমে থাকেন না আরশ আলী। লড়াই চলতে থাকে। শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত লড়াই করেন। ভাটিপাড়া গ্রামের দক্ষিণের হাওর তথা আহমদপুর মৌজায় সমাহিত করা হয় তাঁকে। বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ আরশ আলীর পরিবার বর্তমানে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা সদরের শান্তিগঞ্জের মৎস্য হ্যাচারির পাশে স্যাঁত স্যাঁতে জরাজীর্ণ ঘরে বসবাস করেন। সিলেট-সুনামগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়ক থেকে ঘরে যেতে হয় বাঁশের সাঁকো দিয়ে। সাহায্যের জন্য হাত পাততে হচ্ছে মানুষের কাছে। জীবন কাটাছে কখনো খেয়ে আবার কখনো না খেয়ে।
শহীদ আরশ আলীর ভাই অসহায় হাশিম আলী জানান, ১৯৭১ সালে আমার ভাই তাঁর বুকের তাজা রক্ত দিয়ে এদেশ স্বাধীন করেছেন। আর এ দেশে আমরা না খেয়ে আছি, আমাদের দেখার কেউ নাই। আমরা সবকিছু থেকে বঞ্চিত, সরকারি-বেসরকারি কোন সাহায্য আমরা পাই না। মাঝে মাঝে দুইবেলা দু’মুঠো ভাতও আমাদের কপালে জুটে না। আমি বৃদ্ধ মানুষ, কোন কাজ করতে পারি না। আমার সহজ-সরল ছেলেটা এখন মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে পরিবার চালায়। পরিবারে আমরা ৬ জন।
তিনি আরও বলেন, আমরা মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্য হয়েও কোন সুযোগ সুবিধা না পেয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছি। ১৯৭১ সালে সম্মুখযুদ্ধে আমার ভাই শহীদ হওয়ার পর গ্রামের কিছু সংখ্যক কুচক্রীমহল আমাদের ঘরবাড়ী ভেঙে ভিটা উচ্ছেদ করে দেয়। বর্তমানে আমি পরিবারের লোকজনকে নিয়ে রাস্তার পাশে ঝুপড়ি ঘর বানিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছি। একটি ঘর ও খাসজমি পাওয়ার জন্য বছরের পর বছর উপজেলা নির্বাহী অফিসার থেকে শুরু করে কত জায়গায় যে গিয়েছি কিন্তু কোন কাজ হয়নি। এই বিজয়ের মাসে প্রধানমন্ত্রীসহ দেশবাসীর কাছে একটু খাসজমি সহ একটি বসতঘর পাওয়ার জন্য জোর দাবি জানাচ্ছি।
দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান মো. ফারুক আহমদ বলেন, উপজেলার মাসিক সমন্বয় মিটিংয়ে আলোচনা করে শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা আরশ আলীর পরিবারের জন্য খাসজমিসহ একটি ঘরের ব্যবস্থা করা হবে।