বিশেষ প্রতিনিধি
সুনামগঞ্জ-১ আসনের ২৩ ইউনিয়নের কমপক্ষে দেড়’শ সম্ভাব্য প্রার্থী গত এক সপ্তাহ ধরে সকাল থেকে গভীর রাত অবধি ঢাকার (ধানম-ির ৩ নম্বরে) আওয়ামী লীগ অফিসে ও আশপাশে ঘুরা ফেরা করছেন। এরা কেন্দ্রীয় নেতাদের যাকেই পান তাঁর হাতে বায়োডাটা তুলে দেন, না হয় আশপাশে বসে চা খেয়ে সময় কাটাচ্ছেন। এই প্রার্থীদের সঙ্গে এলাকা থেকে যাওয়া রাজনৈতিক কর্মী এবং ঢাকায় থাকা স্বজনরাও প্রতিদিন ধানম-ির ৩ নম্বরের সামনে যাচ্ছেন। যে ইউনিয়নে একাধিক প্রার্থীর নাম জেলা কমিটি কেন্দ্রীয় মনোনয়ন বোর্ডে পাঠিয়েছে, তারাই মূলত এমন অস্থিরতায় সময় কাটাচ্ছেন। সম্ভাব্য প্রার্থীদের কেউ কেউ দলীয় নেতাদের বাসা বাড়িতে গিয়েও বায়োডাটা তুলে দিচ্ছেন। প্রার্থীদের কেউ আবার সরকারি সংস্থাগুলোর রিপোর্ট-ই শেষ ভরসা মনে করছেন এবং রিপোর্ট পক্ষে গিয়েছে কী-না এটি খোঁজ খবর নেবার জন্য সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করে শান্তনা খোঁজছেন। এসব প্রার্থীদের মধ্যে যারা ক্ষুব্ধ তারা বলছেন,‘দলীয় কোন্দলের কারণে এক ইউনিয়ন থেকে কেন্দ্রীয় মনোনয়ন বোর্ডে একাধিক নাম যাওয়ায় এমন হয়রানিতে পড়েছি আমরা’।
তাহিরপুরের একজন বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে বললেন,‘তৃণমূল থেকে অনেক ইউনিয়নে একক নাম দেওয়া হয়েছে, আবার জেলা কমিটি থেকে আরেক নাম যুক্ত করে দেওয়া হয়েছে, এটি মূলত. দলীয় কোন্দল এবং সমন্বয় হীনতার কারণেই হচ্ছে’।
ধর্মপাশার চামরদানী ইউপি চেয়ারম্যান প্রভাকর তালুকদার পান্না বললেন,‘গত এক সপ্তাহ হয় সকাল থেকে ধানম-ির ৩ নম্বরে বায়োডাটা হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকি আমরা। কেন্দ্রীয় নেতাদের দেখলেই বায়োডাটা দিচ্ছেন মনোনয়ন প্রত্যাশীরা। এক ইউনিয়নে একাধিক প্রার্থীর নাম যে ইউনিয়ন থেকে দেওয়া হয়েছে, সেখানেই বেশি টেনশনে রয়েছেন মনোনয়ন প্রত্যাশীরা। তদবিরও তারাই করছে বেশি’। তিনি জানান, কেবল মনোনয়ন প্রত্যাশীরা নয়, তাদের সঙ্গে যাওয়া এলাকার কমপক্ষে ৫-৬ জন কর্মী, ঢাকায় থাকা আত্মীয়-স্বজন, এমনকি বিশ্ববিদ্যালয় পড়–য়া আত্মীয় ছোট ভাইও ওখানে (ধানম-িতে) গিয়ে সকাল থেকে দাঁড়িয়ে থাকে, কোনভাবে তদবির করা যায় কী না, আবার কেউ কেউ সরকারি সংস্থা তার পক্ষে রিপোর্ট দিয়েছে কী না এটি জানার চেষ্টা করে শান্তনা খোঁজার চেষ্টা করছে।
ধর্মপাশা সদর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শামীম আহমদ বিলকিস বলেন,‘এবারের ইউপি নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন বিষয়ে আমার যে অভিজ্ঞতা হয়েছে তাতে অপেক্ষাকৃত সৎভাবে যারা রাজনীতি করতে চান তাদের নির্বাচন বা দলের পদ পাওয়া কঠিন হবে’।
ধর্মপাশার পাইকরাটি ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান ফেরদৌসুর রহমান বলেন, ‘আমি এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন রতন সাহেব এক ইউনিয়নের বাসিন্দা, ওখানে দুই জনের নাম কেন্দ্রীয় মনোনয়ন বোর্ডে গেছে, সংসদ সদস্য বলেছেন তাঁর নিজের ইউনিয়নে মনোনয়ন প্রত্যাশী দুজনেই ঘনিষ্টজন, দু’জনের নামই যাক, পরে সরকারি বিভিন্ন সংস্থার রিপোর্টের ভিত্তিতে দলীয় মনোনয়ন বোর্ড সিদ্ধান্ত নিয়ে যাকে দেবে তার পক্ষেই সকলকে থাকতে হবে’।
- সংবাদ প্রকাশের পর টাকা ফেরত দিল মোল্লাপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ
- মোল্লাপাড়া ইউনিয়নে দুর্নীতির টাকা দোষীদের নিকট থেকে আদায় সম্ভব হবে কি?


