আকবর হোসেন, জামালগঞ্জ
জমে উঠেছে জামালগঞ্জের সাচনা বাজার ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন। তফসিল ঘোষণার পর থেকেই বিএনপি দলীয় প্রার্থী ও বিদ্রোহী প্রার্থী একে অন্যকে দোষারোপ দিয়ে বক্তব্য দিচ্ছেন।
বিএনপির প্রার্থী মাসুক মিয়া বলছেন,‘উপজেলা বিএনপির সভাপতি নূরুল হক আফিন্দী দলের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে তার আপন ভাইকে নির্বাচনে দাঁড় করিয়েছেন। আর স্বতন্ত্র প্রার্থী এমদাদুল হক আফিন্দী পাল্টা অভিযোগ করে বলছেন, জনগণ বিএনপির প্রার্থীকে প্রত্যাখ্যান করছে।’ এদিকে বিএনপি সমর্থক দুই প্রার্থীর ঝগড়ায় মূল বিএনপির নেতাকর্মীরা
অলস সময় পার করছেন।
কারণ উপজেলা বিএনপির সভাপতি নূরুল হক আফিন্দির আপন ছোট ভাই এমদাদুল হক আফিন্দী স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে লড়াই করছেন। তাই সাধারণ ভোটারসহ বিএনপির ভোটাররা বলছেন, বিএনপির প্রার্থীর প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি। এক কথায় ঘরের শত্রু বিভীষণ।
জানা যায়, সাচনা বাজার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে বিএনপির দলীয় প্রার্থী মনোনয়ন নিয়ে একের পর এক পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। সাচনা বাজার ইউনিয়নের দুইবারের চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি নূরুল হক আফিন্দী নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালে তার ভাতিজা উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি গোলাম রব্বানী আফিন্দীকে তৃণমুলের নেতারা প্রার্থী বাছাই করেন। উপজেলা ও ইউনিয়ন বিএনপির পক্ষ থেকে গোলাম রব্বানী আফিন্দীর নাম জেলা হয়ে কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছিলো।
একাধিক নেতাকর্মী জানান, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শামসুল আলম ঝুনু মিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি নূরুল হক আফিন্দীকে পাশ কাটিয়ে কেন্দ্রে লবিং করে শেরমস্তপুর গ্রামের সোনা মিয়ার ছেলে মাসুক মিয়াকে ধানের শীষের প্রতীক এনে দেন। ধানের শীষের প্রতীক বরাদ্দের পরই সাচনা বাজার ইউনিয়নের নির্বাচনকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছেন আফিন্দি পরিবার। সাচনা বাজার ইউনিয়নে আফিন্দী পরিবারের পক্ষ থেকে মরহুম আব্দুল মান্নান তালুকদার, আব্দুস সোবহান আফিন্দি, নূরুল হক আফিন্দি সাচনা বাজার ইউনিয়নে প্রতিনিধিত্ব করেছেন। কিন্তু এবারের ভোট যুদ্ধে দলীয়ভাবে প্রতীক বরাদ্দ না পাওয়ায় তারা প্রেস্ট্রিজ ইস্যু হিসেবে নিয়েছে। তাই তোরজোড়ে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন এমদাদুল হক আফিন্দী। একই ঘরনার দুই প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী শ্যাম রাখি না কুল রাখি অবস্থা পড়েছেন ইউনিয়নের বিএনপি ভোটাররা।
স্বতন্ত্র প্রার্থী এমদাদুল হক আফিন্দী বলেন, ‘আমার ভাই শুধু সাচনার নয় পুরো উপজেলা বিএনপির সভাপতি। সাচনাবাজারে তৃণমূল থেকে আমার ভাতিজা রবাবানী আফিন্দীকে বাছাই করা হয়েছিল। কিন্তু মাসুক মিয়া কালো টাকার বিনিময়ে কেন্দ্র থেকে মনোনয়ন আনায় ইউনিয়নবাসী তা প্রত্যাখান করে আমাকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করার অনুমতি দিয়েছেন। ধানের শীষের পরাজয় হবেই হবে।’
সাচনাবাজার ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে বিএনপির দলীয় প্রার্থী মাসুক মিয়া বলেন, ‘উপজেলার বিএনপির সভাপতি নূরুল হক আফিন্দী দলের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে তার ছোট ভাইকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে দাঁড় করিয়েছেন।
উপজেলা বিএনপির সভাপতি নুরুল হক আফিন্দী বলেন,‘ আমার ভাই বিএনপির রাজনীতি করে না। সে জাতীয় পার্টির উপজেলা কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক। আমি তাকে নির্বাচনে দাঁড় করাইনি। গ্রামের লোকজন তাকে চেয়ারম্যান পদে দাঁড় করিয়েছেন। মাসুক মিয়া বিএনপির কোন কর্মীই নয়। দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার পর সে বড় নেতা হয়ে গেছে। দলের সাথে সে যেসব আচরণ করেছে তার শাস্তি পাওয়ার কথা ছিল। বিরোধিতা করে উল্টো সে দলের মনোনয়ন পেয়েছে। সে কিভাবে মনোনয়ন পেল তা আমরা জানি না। সে মনোনয়ন পাওয়ায় পর আমার সাথে আজও কথাই বলেনি। তার মনোনয়নে বিএনপির সকল নেতাকর্মী ক্ষুব্ধ ও বিস্মিত।


