বিএনপির ‘ভাইব্রেন্ট ও ডাইনামিক’ কমিটি ঘোষণা

সু.খবর ডেস্ক
জাতীয় সম্মেলনের প্রায় পাঁচ মাস পর দলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করেছে বিএনপি। তবে ১৯ সদস্যের স্থায়ী কমিটির দুটি পদ খালি রাখা হয়েছে। আর ৫০২ সদস্যের জাতীয় নির্বাহী কমিটিতে ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক ও যুব বিষয়ক সম্পাদকের নাম ফাঁকা রয়েছে। শনিবার দুপুরে নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে এই কমিটির ঘোষণা দেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গত ১৯ মার্চ বিএনপির জাতীয় সম্মেলনে চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে পূর্ণাঙ্গ কমিটি করার ক্ষমতা দেয় কাউন্সিলররা। এরপর তিন দফায় ৪২ জনের নাম ঘোষণা করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে বাকিদের নাম ঘোষণা করেন ফখরুল।
সংবাদ সম্মেলনে চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের ৭৩ জন এবং ৫০২ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ জাতীয় নির্বাহী কমিটির ৪৯৮ জনের নাম জানান ফখরুল। জাতীয় নির্বাহী কমিটিতে নতুন মুখ ১১৩ জন।
বিএনপির ইতিহাসে এতবড় কেন্দ্রীয় কমিটি করা হয়নি কখনও। এর কারণ জানতে চাইলে মির্জা ফখরুল বলেন, সময়ের পরিক্রমায় বিএনপি একটি বড় দলে পরিণত হয়েছে। অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরাও মূল দলে জায়গা পাওয়ার যোগ্য হয়েছেন। তাদের জায়গা করে দিতেই কমিটি কিছুটা বড় হয়েছে।
নতুন কমিটি বিএনপি বা দেশের জন্য কী ভূমিকা রাখবে-জানতে চাইলে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আমার দৃষ্টিতে এটা একটি ভাইব্রেন্ট ও ডাইনামিক কমিটি হয়েছে। দেশের রাজনীতিতে এই কমিটি ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারবে।’
স্থায়ী কমিটিতে নতুন দুই মুখ
দলের সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী পর্ষদ স্থায়ী কমিটির আকার আগের মতই ১৯ জন রয়ে গেছে। আগের কমিটি থেকে বয়সের কারণে বাদ পড়েছেন দুই জন। এরা হলেন এম শামসুল ইসলাম ও বেগম সরোয়ারী রহমান। তবে সরোয়ারী রহমানকে উপদেষ্টা পরিষদে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। স্থায়ী কমিটিতে যোগ হয়েছে চট্টগ্রামের নেতা আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও কক্সবাজারের সালাহউদ্দিন আহমেদের নাম।
এই দুই নেতার মধ্যে আমীর খসরু বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ছিলেন। আর সালাহউদ্দিন ছিলেন যুগ্ম মহাসচিব। তিনি এখন ভারতের মেঘালয়ের শিলংয়ে অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে বিচারের মুখোমুখি। সরকার বিরোধী আন্দোলনের এক পর্যায়ে নিখোঁজ হওয়ার বেশ কয়েক মাস ২০১৫ সালের ১১ মে তিনি শিলংয়ে পুলিশের কাছে আটক হন।
স্থায়ী কমিটির বাকি সদস্যরা হলেন- বেগম খালেদা জিয়া (পদাধিকারবলে),তারেক রহমান (পদাধিকারবলে), ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, তরিকুল ইসলাম, লে. জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান, আ স ম হান্নান শাহ, এম, কে আনোয়ার, ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর (পদাধিকবারবলে)। তবে স্থায়ী কমিটির ১৭ এবং ১৮ নম্বর পদ এখনো খালি রয়েছে।
আগের স্থায়ী কমিটির সদস্যদের মধ্যে আর এ গনি এবং খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন মারা যান। যুদ্ধাপরাধের দায়ে ফাঁসি হয়  সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর।
ভাইস চেয়ারম্যান
মির্জা ফখরুল দলের ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে ৩৫ জনের নাম ঘোষণা করেছেন। আগের কমিটিতে এই সংখ্যা ছিল ১৬ জন। এই পদের নতুনরা হলেন- ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর, বরকত উল্লাহ বুলু, মোহাম্মদ শাহজাহান, মীর নাছির, অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন, মোসাদ্দেক আলী ফালু, ড. ওসমান ফারুক, মেজর জেনারেল (অব.) রুহুল আলম, মেজর (অব.) মাহমুদুল হাসান, এনাম আহমেদ চৌধুরী, ব্যারিস্টার আমিনুল হক, আব্দুল আউয়াল মিন্টু, অধ্যাপক এজেডেএম জাহিদ হোসেন, শামসুজ্জামান দুদু, অ্যাডভোকেট আহমেদ আজম খান, অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদিন, অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী, গিয়াস কাদের চৌধুরী ও শওকত মাহমুদ।
অন্যরা হলেন-বিচারপতি টি এইচ খান,এম মোর্শেদ খান, হারুন অর রশিদ, শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন, আব্দুল্লাহ আল নোমান, সাদেক হোসেন খোকা, মিসেস রাবেয়া চৌধুরী,  অধ্যাপক আব্দুল মান্নান, আব্দুল মান্নান, হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ, আলতাফ হোসেন চৌধুরী, সেলিমা রহমান, শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার আসামি আবদুস সালাম পিন্টু। এরা সবাই গত কমিটিতে একই পদে ছিলেন।
চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিল
দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হিসেবে রাখা হয়েছে ৭৩ জনকে। আগের কমিটিতে এই সংখ্যা ছিল ৩৬ জন।
উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরা হলেন-সরোয়ারী রহমান, রিয়াজ রহমান, হারুন অর রশীদ খান মুন্নু, মুশফিকুর রহমান, এ জে মোহাম্মদ আলী, ফজলুর রহমান পটল, কবির হোসেন, উকিল আবদুস সাত্তার, লুৎফর রহমান খান আজাদ, আখতার হামিদ সিদ্দিকী, সাবিহউদ্দিন আহমেদ, এ কে এম মোশাররফ হোসেন, আমানউলাহ আমান, মিজানুর রহমান মিনু, মশিউর রহমান, আবুল খায়ের ভুঁইয়া, কাজী মাজহারুল আনোয়ার, অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান, প্রকৌশলী আনহ আখতার হোসেইন, অধ্যাপক মাজেদুল ইসলাম, জাফরুল হাসান, জয়নুল আবদীন ফারুক, জয়নাল আবেদীন (ভিপি জয়নাল), মনিরুল হক চৌধুরী, অবসরপ্রাপ্ত মেজর কামরুল ইসলাম, সৈয়দ ওয়াহিদুল আলম, হেলালুজ্জামান তালুকদার লালু, ফজলুল হক আসপিয়া (সুনামগঞ্জ), নুরুল হুদা (চাঁদপুর), সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমী, আবদুল হালিম, এম এ  কাইয়ুম, শহীদুল ইসলাম, জহুরুল ইসলাম, ইসমাইল জবিউল্লাহ, অবসরপ্রাপ্ত ক্যাপ্টেন সুজাউদ্দিন আহমেদ, আবদুর রশীদ, ব্যারিস্টার হায়দার আলী, ব্যারিস্টার জিয়াউর রহমান খান, অধ্যাপিকা তাজমেরী এস এ ইসলাম, অধ্যাপিকা সাহিদা রফিক, অ্যাডভোকেট রেজ্জাক খান, রোজী কবির, গোলাম আকবর খন্দকার, কাজী আসাদ, কবির মুরাদ, অধ্যাপক শাহজাহান মিয়া, একরামুজ্জামান, ফজলুর রহমান, হাবিবুর রহমান হাবিব, আতাউর রহমান ঢালী, নাজমুল হক নান্নু, তাহমিনা রুশদীর লুনা (নিখোঁজ নেতা ইলিয়াস আলীর স্ত্রী), ড. ইনামুল হক চৌধুরী, ডা. সিরাজুল ইসলাম, অধ্যাপক সুকোমল বড়ুয়া, বিজন কান্তি সরকার, সঞ্জীব চৌধুরী, আবদুল হক (সিলেট), অ্যাডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকার, অ্যাডভোকেট আফজাল এইচ খান, অ্যাডভোকেট কামরুল মুনির, অ্যাডভোকেট বোরহান উদ্দিন, অধ্যাপক আবদুল বায়েস ভুঁইয়া, আফরোজা খান রীতা, আবদুস সালাম (ঢাকা মহানগর), মইনুল ইসলাম শান্ত, মো. শাহজাদা মিয়া, এসএস ফজলুল হক, অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল এম এ লতিফ, ডা. মো. আবদুল কুদ্দুস, সৈয়দ আলমগীর হোসেন এমবিএ ও আমিনুল হক এফসিএ।